সিংগাইরে কাজ শেষের আগেই আঞ্চলিক মহাসড়কে ধস

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ এখনো পুরো শেষ হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী কাজও বুঝিয়ে দেননি ঠিকাদাররা। এর মধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটার মহাসড়কের দক্ষিণ পাস ধসে যাচ্ছে। অথচ এরই মধ্যে ঠিকাদাররা বেশির ভাগ বিল উত্তোলন করে নিয়েছে। কীভাবে এ ঘটনা ঘটল তা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও ফেসবুকে তোলপাড় চলছে। এ অবস্থায় সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম ও মানিকগঞ্জ সড়ক এবং জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করেছেন। এলাকাবাসী মনে করছেন, সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাটের কারণেই এমনটি হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে মতে, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ধল্লা ভাষাশহীদ রফিক সেতু থেকে জেলা সদর পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার রাস্তা আঞ্চলিক মহাসড়কে রূপান্তরের জন্য একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২৫৪ কোটি টাকা। সড়কটি নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত করা হয় পাঁচটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিংগাইরে ভাষাশহীদ রফিক সেতুর পূর্ব পাশা থেকে বায়রা-গেরা দিয়া পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কের দক্ষিণ পাশে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাকি রাস্তার দুইপাশে গ্রামীণ জনপদ থাকায় সেই ঝুঁকি থেমে মুক্ত আছে।

স্থানীয়রা জানান, শুরুতেই ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কাজের অনিয়মের অভিযোগ উঠে। সড়কটি নির্মাণে ছিল না কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। অপরিকল্পিতভাবেই এ সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আর তার ফলে শুধু ফাটল কিংবা ধস নয় এ সড়কে এখন প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়ক নির্মাণের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে অনেকের। এরই মধ্যে এ সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’ সড়ক হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য কহিনুর ইসলাম সানী। তিনি জানান, অনিয়মের মধ্য দিয়েই এ সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সড়কে বন্যার ছোঁয়া লাগেনি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর পুকুরচুরি দুর্নীতি এবং মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়সারা দায়িত্ব পালনের কারণেই এমনটি হয়েছে। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সড়কে দুর্নীতি হওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন মানিকগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গাওসুল হাসান মারুফ। তবে রাস্তা সম্পর্কে প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি বলেন, ৩১ কিলোমিটার সড়কের ৩০ শতাংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে যাতে এ সমস্যার সমাধান হয় আমরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। এদিকে বর্তমানে সড়কে কাজ বন্ধ থাকায় কথা বলার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি।

 

"