ভালুকায় খীরু নদী পারাপারে ৪ ইউনিয়নের ভরসা সাঁকো

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

সফিউল্লাহ আনসারী, ভালুকা (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একসময়ের খীরু নদী। নদীর দক্ষিণ পাশে মল্লিকবাড়ী ও ডাকাতিয়া আর উত্তর পাশে উথুরা ও মেদুয়ারী ইউনিয়নের অবস্থিত। ভালুকার মাঝ দিয়ে বয়ে চলা এই খীরু নদীটির বয়রারটেকের ঘাটে একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার চারটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ ওই পয়েন্টে সেতু না থাকায় ঠিকাদারের তৈরি বাঁশের সাঁকো পার হতে প্রতিবার পাঁচ টাকা করে গুনতে হয় এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মল্লিকবাড়ী বাজার ঘেঁষে খীরু নদীর ওপর বয়রারটেকের ঘাটটির মেদুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইজারা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। পরে তারা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দিয়েছেন। তাই এই সাঁকোর ওপর দিয়ে পার হতে প্রতিবার পাঁচ টাকা করে দিতে হয় ঠিকাদারকে।

এলাকাবাসী জানান, আমরা ঠিকমতো শিক্ষা, চিকিৎসা ও হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন পারাপারের ব্যবস্থা নেই ঘাটে। ফলে রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম বিপাকে পড়তে হয়। মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নে অবস্থিত কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, তাদের বাড়ি মেদুয়ারী ইউনিয়নে। সেখানের চেয়ে এখানের স্কুলের পড়ালেখার মান ভালো এবং কাছে হওয়ায় এপারে যাতায়াত করা হয়। আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। গত কয়েক দিন আগে আমাদের মধ্যে এক ছাত্রী বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সাঁকো থেকে পা পিছলে নদীতে পড়ে গিয়েছিল। তবে নদীর তীরের কাছাকাছি হওয়ায় সে প্রাণে বেঁচে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা পানিভান্ডা গ্রামের ছাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। সাঁকো দিয়ে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহন করা খুবই কষ্টসাধ্য। ফলে আমরা উৎপাদিত পণ্য ঠিকমতো বেচাকেনা করতে পারি না। সংসদ সদস্য আলহাজ কাজীমউদ্দিন আহমেদ ধনু ও সংরক্ষিত মহিলা এমপি মনিরা সুলতানা মনি এই এলাকার বাসিন্দা। অথচ তাদের বাড়ির পাশের একটি সেতুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই দুই সংসদ সদস্যদের কাছে আমাদের চাওয়া খীরু নদীর ওপর বয়রারটেকের সেতুটি নির্মাণ করা হোক।

উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খীরু নদীর ওপর বয়রারটেকের সেতুটি অনেক আগেই নির্মাণ করার প্রয়োজন ছিল। প্রতিদিন শত শত মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়।

এ বিষয়ে ভালুকা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই সেতু নির্মাণ কাজের প্রক্রিয়া চলছে।

 

"