কোটি টাকার সড়কে নিম্নমানের ইট-খোয়া

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার সাঁথিয়ায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তা সংস্কারের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নে পাটগাড়ী থেকে হাড়িয়া পর্র্যন্ত এই সড়কে ইট, খোয়া ও বালু ব্যবহারের অনিয়মের অভিযোগে কাজও বন্ধ করে দিয়েছিলেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফত সূত্র জানায়, উপজেলার পাটগাড়ী, হাড়িয়া ও চিনানারি গ্রামে যাওয়ার প্রধান শাখা সড়কটি সংস্কারের অভাবে বৃষ্টিতে কাদা ও পানি জমে থাকে। স্থানীয়দের দাবির মুখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপির উদ্যোগে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য রাজশাহী বিভাগ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। এর দায়িত্ব পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জ্যোতি কন্সট্রাকশন কোম্পানি। শুরু থেকেই তাদের কাজের মান নিয়ে অভিযোগ তুলেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওই সড়কে নিম্নমানের খোয়া বিছানো হয়েছে, এজিং এ রয়েছে ২ নম্বর ইটের সংমিশ্রন। এ দিকে নিম্নমানের খোয়া বিছিয়েই রাস্তাটির অনেকাংশে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, রাস্তা তৈরিতে এক নম্বর ইট ও বিট বালু ব্যবহার করার কথা থাকলেও ৩ নম্বর ইট ও পুরোনো বালু দিয়ে করা হচ্ছে। সড়কে একটি ছোট মিনি ট্রাক-পিকআপ গেলে দেবে যেতে পারে। নাগডেমরা ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন, আমার এলাকার কাজ হিসেবে আমি পরিদর্শনে গিয়ে ছিলাম। দেখেছি কাজের মান নিম্নমানের।

একই অভিযোগ তুলে পাটগাড়ী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন মাস্টার বলেন, আমি বেশ কয়েকবার বাধা দিয়েছি। কিছুদিন কাজ বন্ধও ছিল। পরে কাজ শুরু করলে উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করি। তিনি বলেছিলেন কাজের মান পরিদর্শনে এলে তাকে খবর দেওয়া হবে। কিন্তু তারা এলেন অথচ আমাকে জানানো হল না।

সাঁথিয়া উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, রাস্তাটির পরিদর্শনে পাবনা নির্বাহী প্রকৌশলী মকলেছুর রহমানসহ আমরা গিয়েছিলাম। ইট খোয়া মোটামুটি ভালোই দেখলাম। তবে একটু খোয়া সমস্যা মনে হয়েছে সেগুলোর স্যাম্পল নিয়ে পাবনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তবে একটি সূত্র জানায়, মানসম্মত উপকরণ দিয়ে কাজ করার জন্য অফিশিয়ালি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

"