ব্রেকিং নিউজ

রংপুরে জলবায়ু পরিবর্তন

হুমকির মুখে চরাঞ্চলের ৭৮ হাজার হেক্টর কৃষিজমি

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আবদুর রহমান রাসেল, রংপুর ব্যুরো

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে রংপুর অঞ্চলের কৃষি খাত এখন হুমকির সম্মুখীন। বাড়ছে মানুষ, কমছে আবাদি জমি। সেইসঙ্গে অসময়ে হঠাৎ মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি-বন্যায় ভাঙনের ফলেও কমছে আবাদি জমি। প্রয়াই নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি ও ঘরবাড়ি। প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ মানুষ হচ্ছে বাস্তুহারা। চরাঞ্চলের কৃষকের জীবনমান তাই অতি নিম্ন। স্বাভাবিক বৃষ্টির অপ্রতুলতায় উজানের পানির অভাবে নদ-নদীতে জেগে ওঠছে বালুর চর। দেশের প্রায় ২৫৭টি নদ-নদীর মধ্যে ৫৯টিরই সংযোগ রয়েছে অন্য দেশের সঙ্গে। এসব নদ-নদী প্রতি বছর বয়ে নিয়ে আসে প্রায় ১ বিলিয়ন টন তলানি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এ নদ-নদী পরিবর্তিত হচ্ছে বালুকাময় চরে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ মিলিয়ন হেক্টর চর রয়েছে।

এর মধ্যে রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামেই রয়েছে প্রায় ৭৮ হাজার হেক্টর চর। রংপুর অঞ্চলের চরগুলো বালিপ্রধান। তবে পলিও পড়ে কিছু কিছু অংশে। এ উর্বর পলিতে গতানুগতিকভাবে কিছু কিছু ফসল আবাদ হয়ে থাকে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক বেশ কিছু ফসলের উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবিত হয়েছে যা অস্থায়ী এবং স্থায়ী চরের জন্য উপযোগী বলে প্রতীয়মান।

কৃষক আবদুল লতিফ মিয়া বলেন, ইউএস এআইডির অর্থায়নে এবং ইরি বাংলাদেশের সহযোগিতায় সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, রংপুর কর্তৃক পরিচালিত এ প্রকল্পে এ বছর প্রায় ১২৯ বিঘা চরজমিতে বারি ও ব্রি উদ্ভাবিত ১২ ধরনের উচ্চমূল্যের ফসল।

গাজীপুরের গবেষণা বিভাগ, বারি, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ড. মো. আককাছ আলী এ প্রতিনিধিকে বলেন, বিগত দুই বছরে রংপুরের চরগনাই এলাকায় ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আশার আলো জ্বালিয়েছে এচিক চিকে রুপালি বালু ও পলিময় চরে। নিরস মাটিতে উচ্চ মূল্যের ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি উচ্চফলন, কম উৎপাদন খরচ ও অধিক আয়ের মাধ্যমে চর কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের প্রয়াশ চলছে।

২৭ রকমের উচ্চফলনশীল জাতের পাইলট আকারে উপযোগিতা যাচাই করা হচ্ছে। চর এলাকায় ফসল ধারা উন্নয়নের লক্ষ্যে ধানবিহীন ফসল উন্নয়নের কার্যক্রম চলছে। বোরো ধান চাষের জন্য উপযোগী জৈব ও অজৈব সারের মাত্রা নিরূপণের ওপর চলছে গবেষণা। কৃষকের প্রচলিত চাষ পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করে উৎপাদন খরচ কমাতে করা হচ্ছে মেশিনের সাহায্যে বীনা চাষে ভুট্টার আবাদ, আলুর সঙ্গে রিলে পদ্ধতিতে ভুট্টা, পেঁয়াজ ও রসুনের সঙ্গে রিলে পদ্ধতিতে বাদামের আবাদ ও কালজিরা ইত্যাদি।

 

"