করোনাকালে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জন্মেছে অর্ধশত প্রাণী

প্রকাশ | ১৪ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

মিনহাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় করোনাকালে জন্মেছে প্রায় অর্ধশত প্রাণী। এছাড়াও গর্ভবতী রয়েছে আরো অনেক। দেশে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর সরকারি নির্দেশনা মেনে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে চিড়িখানায় বাঘ, হরিণ, ময়ূর, টিয়া, ঘুঘুসহ আরো ৫০টি পশু ও পাখি জন্ম দিয়েছে বাচ্ছা। দর্শনার্থীরা প্রাণীদের দেখা পেতে মুখিয়ে থাকতো সব চিড়িখানায়। এখন প্রাণীরাই মাথা উঁচিয়ে দলবেঁধে যেন মানুষ দেখতে উন্মুখ হয়ে থাকে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় চার মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে চিড়িয়াখানা। এ কারণে কর্মকর্তা ও পশুপাখির পরিচর্যার দায়িত্ব প্রাপ্তরা ছাড়া কেউই এতে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে এখানে সুনসান নীরবতা। বলা যায় অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে চিড়িয়াখানা। পশুপাখির জন্য এ যেন গহীন জঙ্গলের আবাসের মতো। পুরো জায়গাটি গাছ-গাছালিতে পরিপূর্ণ থাকায় বাইরের চেয়ে এখানকার তাপমাত্রা কিছুটা শীতল। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্চ মাসের শেষের দিক থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি নতুন প্রাণী জন্ম নিয়েছে। তারমধ্যে তিনটি চিত্রা বাঘ, চারটি মায়া হরিণ, ঘোড়া একটি, ময়ূর তিনটি, টিয়া ১০টি, গয়াল একটিসহ আরোও বেশকিছু পশুপাখি। এছাড়াও গর্ভবতী হয়েছেন জেব্রাসহ আরো অনেক পশু ও পাখি। চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. মো.শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, প্রকৃতির এই সুসময়ে অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় করোনাকালে চিড়িয়াখানায় জন্মেছে প্রায় অর্ধশত প্রাণী। নতুন পশুপাখিতে ভরপুর হয়ে উঠেছে চিড়িয়াখানার অনেক খাঁচা। আরো অনেক পশু ও পাখি গর্ভবতী হয়েছে। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় পশু-পাখি এখন আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে পশু-পাখির প্রজনন সঠিকভাবে হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন প্রাণীর প্রসব হার বৃদ্ধি পেয়েছে , পাখি শাখায় ডিম উৎপাদন বেড়েছে। করোনাকালে পশু ও পাখির খাবারের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শাহাদাত বলেন, দর্শনার্থী থাকলে পশু-পাখি ভয়ে খাঁচার এক কোণে বসে থাকতো। ওরা ঠিকমতো খেত না, খাবার নষ্ট হতো। কিন্তু এখন কোনও খাবার নষ্ট হয় না। বরং আরো করোনাকালে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ খাবার বেশি দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কখনও এই রকম জনমানব শূন্য ছিল না। করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি নির্দেশনার পর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকলেও আমাদের দৈনন্দিন কাজ নিয়মিতভাবে করে যাচ্ছি। প্রাণীদের সুরক্ষায় আমরা সবসময় সজাগ আছি। টিকিট বিক্রির টাকা দিয়ে চিড়িয়াখানার সব উন্নয়ন ও খরচ নির্বাহ হয়। প্রতি মাসে কমপক্ষে ১৪ লাখ টাকা খরচ আছে। এই টাকা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষই বহন করে। বর্তমানে কোনো ধরনের সংকট নেই। তবে এই রকম চলতে থাকলে অক্টোবর মাস থেকে আর্থিক সংকটে পড়তে হবে। চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন কয়েকমাস বন্ধ রাখা যাবে। কিন্তু পশু ও পাখির খাদ্যত বন্ধ রাখা যাবেনা। প্রসঙ্গ, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা নগরীর খুলশী থানার পাহাড়বেষ্টিত ফয়’স লেকের পাশে ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রয়ারি প্রতিষ্ঠা করা হয় । চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় ছয় একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ইতোমধ্যে জন্ম নিয়েছে বিরল কিছু প্রাণী। চিড়িয়াখানায় তৈরি করা হয়েছে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৫ ফুট প্রস্থের দৃষ্টিনন্দন ও ব্যতিক্রমী মিনি এভিয়ারি।

লাভ বার্ড, ম্যাকাও, লাফিং ডাভ, ফিজেন্ট, রিংনেড পারোট ও কোকাটেইল- এই ছয় প্রজাতির দৃষ্টিনন্দন সাড়ে তিন শতাধিক বিদেশি পাখি সারাদিন কলকাকলিতে মাতিয়ে রাখে চিড়িখানা। এখানে দেশি-বিদেশি ৬৬ টি প্রজাতির ৬২০টি পশু-পাখি রয়েছে।

 

"