সালাহউদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)

  ১৬ জুন, ২০২৪

মৌলভীবাজার

শেষ মুহূর্তে দোকানে ভিড় এবার কেনার তালিকা ছোট

বৃষ্টির মাঝেও ভিড় করছে বিপণিবিতানগুলোয় * পণ্যের দাম বাড়ায় মনঃক্ষুণ্ণ ক্রেতারা * ঈদুল ফিতরে কেনার কারণে আজহায় বিক্রি কম

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র এক দিন। রাত পেরোলেই সারা দেশের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুসলিম সম্প্রদায়। শুরুতে বেচাকেনা কম থাকলেও শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদবাজার। বৃষ্টির মাঝেও ভিড় করছে বিপণিগুলোতে। পোশাকের দোকান ছাড়াও জুতা, অলংকার ও কসমেটিকসের দোকানেও ভিড় দেখা গেছে।

এছাড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, ফুটপাতে মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষের। এসব দোকানে সাধ্যের মধ্যে প্রিয়জনের জন্য কিনছেন পোশাক, জুতা, কসমেটিকস, অলংকারসহ প্রয়োজনীয় নানা জিনিসপত্র। নিজের ও পরিবারের জন্য ঈদকে আনন্দঘন করতে সাধ্যমতো নতুন পোশাক কেনার চেষ্টা সবার।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ভানুগাছ বাজার, শমশেরনগর বাজার, আদমপুর বাজার, মুন্সীবাজার ও শহীদনগর বাজার এলাকায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ভিড় চোখে পড়েছে আবার দর্জির দোকানগুলোতেও। পোশাক ছাড়াও জুতা ও প্রসাধনীর দোকানে ভিড় বাড়ছে। অনেকে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং জুয়েলারিও কিনে নিচ্ছেন। আবার ক্রেতাদের সামাল দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজারে গেলে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে উপজেলার বিপণিবিতান ছাড়াও ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতা সাধারণের সমাগম উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ঈদের আমেজ দেখা গেলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এদিকে ঈদ বাজারকে নির্বিঘ্নে করতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ভানুগাছ বাজারের তাকওয়া ফ্যাশন ওয়ারের প্রতিষ্ঠাতা রাজন আবেদীন রাজু বলেন, ‘এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে নতুন নতুন কালেকশন এসেছে। গরমকে প্রাধান্য দিয়ে ডিজাইনে নতুনত্ব আনা হয়েছে। শিশুদের পোশাকের পাশাপাশি শাড়ি, থ্রিপিস ও পাঞ্জাবি ও ছোটদের কাপড়ের চাহিদা রয়েছে। ভালো বিক্রি হচ্ছে।’

কাপড়ের ব্যবসায়ী মো. সুলতান জানান, ‘মেয়েদের থ্রিপিস বেশি বিক্রি হচ্ছে। সব কিছুর দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব কাপড়চোপড়ের ওপরও পড়েছে।’

কসমেটিক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, ‘দোকানে ক্রেতারা আসছে ঠিক। কিন্তু জিনিসপত্র দেখে পছন্দ হলেও নিচ্ছেন না। দাম অতিরিক্ত হওয়ায়।’ তিনি বলেন, ‘আগে যে জিনিসের দাম ১০০ টাকা ছিল, বর্তমানে সেটার দাম কম পক্ষে ১৫০ টাকা। ক্রেতারা আগের দামেই জিনিস নিতে চাচ্ছেন। তারা দাম যে বাড়ছে সেটা মানতে চাচ্ছেন না। সেজন্য আমাদের অবস্থা খারাপ।’

কেনাকাটা করতে আসা গৃহবধূ নাজমা বেগম, পলি আক্তার, শিক্ষার্থী ফাহমিদা ইয়াসমিন জানান, পছন্দের সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে মার্কেটে। দাম অনেকটা বেশি হলেও পছন্দের শাড়ি ও জামা-কাপড় কেনা যাচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে দোকানগুলো ঘুরে ঘুরে দেখা সম্ভব হচ্ছে না। ঈদুল ফিতরের সময় তারা অনেক কিছু কিনেছেন, তাই এবার স্বল্প পরিসরে কিছু নিচ্ছেন তারা।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ‘উপজেলার প্রতিটি মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি রাখছে। কোনো ধরনের সমস্যা যাতে না হয় সে ব্যাপারে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা যাতে করে অতিরিক্ত দাম না রাখতে পারে সেদিকে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের নজরদারি রয়েছে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘উপজেলার বিপণিবিতানগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা চলছে। কেনাকেটা নির্বিঘ্নে করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close