চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি

  ১৫ জুন, ২০২৪

চারঘাটের নন্দনগাছী

পশুর হাটে তিনগুণ খাজনা আদায়

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী পশুর হাটের ইজারাদার ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া ইজারা শর্ত ও নীতিমালার ধার ধারছেন না। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের জিম্মি করে বাড়তি খাজনার নামে চাঁদাবাজি করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

নন্দনগাছী পশুর হাট ঘুরে বিক্রির রসিদ বই দেখে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাগল-ভেড়া বিক্রিতে বর্তমানে নির্ধারিত খাজনার চেয়ে তিন গুণের বেশি খাজনা আদায় করা হচ্ছে। নীতিমালায় শুধু ক্রেতার কাছ থেকে খাজনা আদায়ের কথা থাকলেও বিক্রেতার কাছ থেকেও খাজনা আদায় করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চারঘাট উপজেলার একমাত্র পশুর হাট নন্দনগাছী হাট। এখানে ছাগল, ভেড়া, কবুতরসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের হাট বসে। বাংলা ১৪৩১ অর্থবছরে এ হাটের সরকারি সর্বনিম্ন ইজারামূল্য ছিল ৪০ লাখ ২২ হাজার ৭৩৫ টাকা। ভ্যাট ট্যাক্সসহ সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ইজারা মূল্য দিয়ে বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন এই হাট ইজারা নিয়েছেন। এ হাটে গবাদিপশুসহ ৮৮ ধরনের দ্রব্য কেনাবেচার জন্য খাজনা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ছাগল ও ভেড়ার জন্য ২০০ টাকা খাজনা আদায়ের নিয়ম রয়েছে। এ ছাড়া গবাদিপশুর জন্য শুধু ক্রেতারাই খাজনা দেবেন বলা আছে।

সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার ও সোমবার নন্দনগাছী হাটে পশু কেনাবেচা হয়ে থাকে। গত সোমবার এই হাটে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাটের কোথাও খাজনা আদায়সংক্রান্ত কোনো নিয়মাবলি বা তালিকা টাঙানো নেই। সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরকার নির্ধারিত খাজনার পরিমাণ জানার সুযোগ নেই। প্রতি ছাগল/ভেড়ার জন্য ২০০ টাকা করে খাজনা আদায় করার কথা থাকলেও ৫০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। বিক্রেতার কাছ থেকে খাজনা আদায়ের নিয়ম না থাকলেও তাদের কাছে ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদারের প্রতিনিধি মো. রিজভি বলেন, ইজারাদার আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেভাবেই আমরা খাজনা আদায় করছি। সরকার নির্ধারিত খাজনার পরিমাণ কত সেটা জানি না। খাজনা আদায়ের রসিদে ফি লিখতে নিষেধ আছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, কয়েক বছর ধরে বাঘা পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন এই হাট ইজারা নেন। কেউ ভয়ে ইজারাদারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। গত বছর কামরুজ্জামান নামে এক মুদি দোকানি অতিরিক্ত খাজনা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছিল ইজারাদারের লোকজন। এ বছর আবারও একই ইজারাদার নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে তিন গুণ খাজনা আদায় করছে।

স্থানীয় নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ইজারাদার আমাদের কথার গুরুত্ব দেয় না। গত বছর অতিরিক্ত খাজনা আদায় নিয়ে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। এ বছরও অতিরিক্ত খাজনা নেওয়া হচ্ছে। আমি সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি।

এ বিষয়ে নন্দনগাছী হাটের ইজারাদার বাঘা পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন বলেন, মানুষ হয়তো মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। অনেক টাকা দিয়ে হাট ইজারা নেওয়া হয়েছে। এজন্য ২৫০-৩০০ টাকা খাজনা নেওয়া হয়। হয়তো ৫০০ টাকা চাওয়া হয়েছে কিন্তু নেওয়া হচ্ছে না।

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদা খানম বলেন, অতিরিক্ত খাজান আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। ইজারাদারকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। তারপরও তারা নিয়ম অমান্য করলে আগামী হাটে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close