reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৪ নভেম্বর, ২০২২

ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প

কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপিতে স্থির মূল্যে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১.৪৩ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ৩.০৪ শতাংশ। সার্বিক কৃষি খাতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১৩.৪৪ শতাংশ। জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অংশ স্বল্প হলেও মানুষের দৈনন্দিন আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও দারিদ্র্যবিমোচনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাণিসম্পদের মধ্যে ছাগল (এড়ধঃ) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিসম্পদ। ছাগল বাংলাদেশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিসম্পদ ও বিশ্বে ছাগল পালনে বাংলাদেশ চতুর্থ স্থান দখল করে আছে। আমাদের দেশে আদিকাল থেকে যে ছাগল লালিত পালিত হচ্ছে তা ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, আর বিদেশ থেকে বিশেষত ভারত থেকে আমদানিকৃত রামছাগল। এ দেশের আবহাওয়া ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল পালনে অত্যন্ত উপযোগী। ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল পালনের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব দূরীকরণ এবং দারিদ্র্যবিমোচন সহজেই সম্ভব। ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ পৃথিবীর ৫টি সেরা মাংস উৎপাদন জাতের মধ্যে অন্যতম। এদের বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা অধিক, মাংস সুস্বাদু, চামড়া আন্তর্জাতিক মানের, দেশের জলবায়ুতে এর জীবনযাপনের উপযোগিতা বেশি এবং দারিদ্র্যবিমোচনের হাতিয়ার।

দেশে বিদ্যমান ছাগলের অধিকাংশই ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের। এ জাতের ছাগলের মাংস সুস্বাদু, চামড়া উন্নতমানের, বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা বেশি এবং বাচ্চার মৃত্যুর হার কম। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রাম ছাগলের চেয়ে বেশি, ফলে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চিকিৎসার খরচ, বিড়ম্বনা এবং মৃত্যুহার কম। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল রাম ছাগলের চেয়ে অনেক আগে বয়োপ্রাপ্ত হয় এবং একই সময় রাম ছাগলের তুলনায় ২ থেকে ২.৫ গুণ বেশি বাচ্চা জন্ম দেয়। ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের মাংস ও চামড়ার গুণাগুণ রাম ছাগলের চেয়ে উন্নত। ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যমান সরকারি ৭টি খামারগুলোর (সাভার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও সিলেট) পুরাতন অবকাঠামো সংস্কার, মেরামত ও নতুন কাজগুলো বাস্তবায়নের ফলে খামারগুলো আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। খামারগুলোতে আগে ব্যবহৃত কাঠের পাটাতনের পরিবর্তে হেভি প্লাস্টিকের ম্যাট স্থাপিত হয়েছে। শেডঘুলো আদর্শ মান অনুযায়ী সংস্কার হয়েছে। অফিস, বাসস্থান, গোডাউন, রাস্তা, ইলেকট্রিফিকেশন, ড্রেনেজ, ডিপিং বাথ, কম্পোস্টিং শেড, বাউন্ডারি ওয়াল ও গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে খামারগুলো আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফলে খামারগুলো ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে মডেল খামার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে ছাগল পালনের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান, ছাগল পালন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি উন্নয়ন, গ্রামীণ পর্যায়ে ছাগলের সঠিক প্রজনন সেবা নিশ্চিতকরণ, ছাগল পালনে আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে খামারিদের প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রদর্শনী খামার স্থাপন, ছাগল পালনে দক্ষ জনবল তৈরি করা, ছাগল পালনে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সরকারি খামারগুলো থেকে উপজেলা পর্যায়ে খামারিদের ছাগল পালনে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের জন্য ৭টি সরকারি ছাগল উন্নয়ন খামার হতে উন্নত মানের পাঁঠা সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ছাগলের বাচ্চার পুষ্টি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মিল্ক রিপ্লেসার এবং কৃমিনাশক ও অন্যান্য অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। জাত উন্নয়নের জন্য প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে বিদ্যমান পাঁঠাগুলোর মধ্য থেকে সঠিক কৌলিকমান সম্পন্ন ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের পাঁঠা চিহ্নিত করে প্রতি উপজেলায় ২ জন ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের পাঁঠা পালনকারী তৈরি ও ব্রিডিং রেকর্ড সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এসব সহায়তাপ্রাপ্ত প্রান্তিক খামারিদের মাঝে অধিক পরিমাণ ছাগল পালনে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জাত সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সুলভমূল্যে ছাগল খামারিদের প্রদানের লক্ষ্যে ৭টি সরকারি ছাগল খামারের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামোগুলোর সংস্কার/উন্নয়ন করা হয়েছে। খামারি পর্যায়ে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের প্রাকৃতিক প্রজনন সেবা প্রদান, রোগ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ছাগল পালন ও পাঁঠা পালনে আগ্রহী দক্ষ জনবল তৈরি, জাত সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রকল্পের আওতায় ১৯৭টি উপজেলায় নির্বাচিত ছাগল পালন খামারি, পাঁঠা পালনকারী ও ছাগল উন্নয়ন কর্মীদের মাঝে প্রশিক্ষণ, রোগ প্রতিরোধ এর জন্য টিকা প্রদান, ছাগলের বিকল্প দুধ হিসেবে মিল্ক রিপ্লেসারের ব্যবহার এবং প্রদর্শনী শেডে প্লাস্টিক মাচাসহ অন্যান্য প্রযুক্তি গ্রামীণ পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফলে প্রকল্পভুক্ত এলাকা ছাড়াও অন্যান্য এলাকায় উন্নত মানের মাচা প্রযুক্তি এবং মিল্ক রিপ্লেসার (ছাগল ছানার বিকল্প দুধ) ব্যবহারসহ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হওয়ায় বাণিজ্যিক ছাগলের খামার স্থাপনে বিদেশ ফেরত যুবক, বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close