রাজশাহী ব্যুরো

  ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রাজশাহী সিটি করপোরেশন

টিকাদানে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) ইলেকট্রনিক ইমুনাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নে শতভাগ সফলতা অর্জন করে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম হয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। এ উপলক্ষে সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় নগর ভবনের সিটি হলরুমে শতভাগ ইলেকট্রনিক ইমুনাইজেশন ঘোষণা এবং রাজশাহী বিভাগের চলমান ইপিআই কার্যক্রম পৌরসভাসমূহের মেয়রদের উদ্বুদ্ধকরণ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাসিকের শতভাগ ইলেকট্রনিক ইমুনাইজেশন ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। এদিকে ইলেক্ট্রনিক ইমুনাইজেশন কার্যক্রমে শতভাগ সফলতা অর্জন করায় রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনকে ইলেকট্রনিক ইমুনাইজেশন পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্র্ড-২০২২ প্রদান করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডাইরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় শতভাগ ইলেক্ট্রনিক ইমুনাইজেশন একটি অন্যন্য দৃষ্টান্ত। শিশুর জন্ম নিবন্ধন তার অধিকার। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠাও শিশুর অধিকার। শিশুর এই অধিকার বাস্তবায়নে রাজশাহী সিটি করপোরেশন বদ্ধপরিকর। ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নে শুরু থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নিখুতভাবে কাজ করে আসছে। তারই সফলতা স্বরূপ জাতীয়ভাবে ইপিআই কর্মসূচিতে পরপর দশবার রাজশাহী সিটি করপোরেশন দেশসেরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশের গন্ডি পেরিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এটি প্রথম স্থান অর্জন করেছে রাসিক।

মেয়র আরো বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল ইলেকট্রনিক ইপিআই রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করি। আমরা ইলেকট্রনিক ইপিআই রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পেরেছি। টিকাদানের মাধ্যমে ১০টি রোগ থেকে আমাদের শিশুদের নিরাপদ রাখতে পেরেছি। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের ইপিআই প্রোগ্রাম ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের সহযোগিতা প্রদান করেছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সম্মানিত কাউন্সিলর ও স্বাস্থ্য-বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতা, বায়ুদূষণ রোধে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। করোনাকালে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবসময় মাঠে ছিল। করোনাকালে জনসচেতনা সৃষ্টি, খাদ্য বিতরণ, নগদ অর্থ বিতরণ, বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা প্রদান সহ টিকাপ্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছিল। ওয়ার্ডবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় নগরীর ১৪টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ২টি মাতৃসদন ও একটি সিটি হাসপাতাল রয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

কর্মশালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডাইরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক বলেন, ইপিআই কার্যক্রমে শতভাগ সফলতা অর্জন রাজশাহী সিটি করপোরেশন বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। এটি সফলতা অর্জন করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র, পরিষদ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সকলের ঐকান্তিক প্রচেস্টায়। এ কার্যক্রমের সফলতা প্রসঙ্গে জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় এটি প্রথম স্থান অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব দরবারে সম্মানিত হয়েছেন।

রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবুর সভাপতিত্বে কর্মশালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশের প্রতিনিধি ডা. বর্ধন জং রানা, রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার এএনএম মঈনুল ইসলাম, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার, ইপিআই প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এনএম আবদুল্লা আল মুরাদ। আরো বক্তব্য দেন গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র অয়েজউদ্দিন বিশ্বাস, নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি ওচাপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোখলেসুর রহমান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রাসিকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য রক্ষা ব্যবস্থা স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নুরুজ্জামান। কর্মসূচির উপর স্বাগত বক্তব্য ও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ.এ.এম আঞ্জুমান আরা বেগম। এ সময় রাসিকের উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, ইলেকট্রনিক ইমুনাইজেশন কার্যক্রম নিয়ে তথ্য চিত্র প্রদর্শনকরা হয়।

কর্মশালায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সম্মানিত কাউন্সিলরবৃন্দ, রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন পৌরসভার মেয়র ও প্রতিনিধিবৃন্দ, রাসিকের সচিব মো. মশিউর রহমান, আরএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তৌহিদুল আরিফ, ইপিআই ডেপুটি ডাইরেক্টর ডা. জেসমিন আরা খাতুন, আইভিডি টিমলিডার ডা. রাজেন্দ্র বহেরা, সিভিল সার্জন ডা. আবু সাহেদ মো. ফারুক।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ইলেকট্রনিক ইমুনাইজেশনে ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের ইপিআই প্রোগ্রাম ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এডভোকেসি সভা, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ট্যাব প্রদান করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ৫৭ হাজার ৫১২জন শিশু ও ৫১ হাজার ৭৭৫জন জন মাকে ইলেকট্রনিক ইপিআই রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। যার মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ইমুনাইজেশন কার্যক্রমে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে রাসিক।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close