সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ, গুরুদাসপুর (নাটোর)

  ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

এক টাকায় লেবু, গুরুদাসপুরে চাষিদের মাথায় হাত

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় এবার লেবুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারে চাহিদা কম থাকায় লেবুর দামে হতাশ হয়ে পড়েছেন লেবু চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারের আড়তে প্রতিটি লেবু এক টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে, এতে ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে লেবু চাষিদের। পরিবহন খরচও না ওঠায় চাষিরা গাছ থেকে লেবু সংগ্রহের আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় বাগানের লেবু বাগানেই নষ্ট হচ্ছে।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নাজিরপুর পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আড়তদাররা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি ১০০ লেবু ৮০ টাকা দরে কিনছেন। এ ছাড়া রয়েছে পরিবহন খরচ ও হাটের টোল। উপজেলার চাঁচকৈড়, নয়াবাজার, কাছিকাটা, খুবজীপুরসহ অন্যবাজারগুলোর চিত্রও একই রকম।

নাজিরপুর বাজারে লেবু বিক্রি করতে আসেন উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের লেবুচাষি আজাদ রহমান। লেবু কী দামে বিক্রি করলেন? প্রশ্ন করতেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি বলেন, ‘আর কয়েন না, ১ হাজার লেবু আনছিনু। পানির চ্যায়াও কম দ্যামে সেই লেবু বেচলাম। ১ হাজার লেবু বিক্রি কইরা মাত্র ৮০০ টাকা পাইলাম।’ তিনি আরো বলেন, ছয় বছর ধরে এক বিঘা জমিতে চায়না-৩ জাতের লেবু চাষ করছেন। এত দিন খরচ বাদে বছরে ২০-২৫ হাজার টাকা লাভ হতো। তিনি একমাস ধরে যে দামে লেবু বিক্রি করছেন, তাতে সার-কীটনাশক ও পরিচর্যার তো দূরের কথা, গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ ও বাজারে বিক্রির পরিবহন খরচও উঠবে না।

চাপিলা ইউনিয়নের অপর চাষি মো. আসালত আলী বলেন, লাভের আশায় তিনি দুই বিঘা জমিতে লেবু চাষ করেছেন। রোজার শুরুতে ভালো দাম পেলেও বর্তমান দামে হতাশ তিনি। হাটে বিক্রি করতে গেলে পাইকাররা লেবু কিনতে চান না। তাই গাছ থেকে লেবু তোলা বাদ দিয়েছি। এ কারণে বাগানের লেবু বাগানেই নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলার চাষিদের বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, লোকসানের ভয়ে অনেক চাষি লেবু তুলছে না। পেকে ফেটে গাছ থেকে মাটিতে পড়ে আছে। ফলে বাগানেই নষ্ট হচ্ছে চাষির পরিশ্রমের ধন। এতে করে আগ্রহ হারাচ্ছেন লেবু চাষিরা। চাষিদের দাবি, অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী কৃষকের কাছ থেকে কম দামে লেবু কিনে বাজারে উচ্চ লাভে বিক্রি করে। তাদের কারণে চাষিরা প্রকৃত দাম থেকে বঞ্চিত হন। ন্যায্য দাম নিশ্চিতের দাবি তাদের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ বলেন, উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়েছে। লেবু চাষের জন্য উপযোগী আবহাওয়া থাকায় এবং খেতে রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। বৃষ্টির কারণে স্বল্প সময়ের জন্য বাজারদর নিম্নমুখী। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চাষিদের দাম ও হতাশা কেটে যাবে। তবে বর্ষার এ মৌসুমে লেবু চাষিরা কলম তৈরি করে বাড়তি আয় করতে পারেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close