শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

  ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শাবিপ্রবিতে পরীক্ষায় অনিয়ম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় ক্যাম্পাসে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

গত জুলাইয়ে বিভাগের তৃতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের (২০১৮-১৯ সেশন) ছয়টি কোর্সের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে তিনটি কোর্সে শিক্ষার্থী সালমা আক্তার বিথী চারটি অতিরিক্ত উত্তরপত্র (লুজশিট) ব্যবহার করেন। লুজশিটের দুটিতে অধ্যাপক ড. ফারজানা সিদ্দিকা, একটিতে সহকারী অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম এবং অপরটিতে মো. আবু বকর সিদ্দিকের স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার দিন ওই তিন শিক্ষকের কারো ডিউটি ছিল না। এ ঘটনা জানাজানি হলে ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টির পর এবার একটি কোর্সে নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে।

পরীক্ষা কমিটির সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই বিএনজি-৩১২ কোর্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই কোর্সের পরীক্ষার ডিউটিতে প্রধান পরিদর্শক ছিলেন বিভাগের অধ্যাপক ড. রিজাউল ইসলাম। এছাড়া পরিদর্শক ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহিম, অধ্যাপক ড. ফারজানা সিদ্দিকা, অধ্যাপক ড. শিরিন আক্তার সরকার, অধ্যাপক ড. মো. জফির উদ্দিন, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় বিক্রম। অন্যদিকে এই কোর্সের উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রথম পরীক্ষক হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. আশ্রাফুল করিম ও দ্বিতীয় পরীক্ষক ছিলেন সহকারী অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিক।

নিয়ম অনুযায়ী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগের প্রতি কোর্সে দুজন পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে থাকেন। উত্তরপত্র মূল্যায়নে সর্বপ্রথম প্রথম পরীক্ষককে (কোর্স শিক্ষক) দিয়ে থাকেন পরীক্ষা কমিটির সভাপতি। তবে বিশেষ প্রয়োজনে প্রথম পরীক্ষকের আগে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে পারেন দ্বিতীয় পরীক্ষক। এক্ষেত্রে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও প্রথম পরীক্ষকের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এ নিয়ম ভেঙেছেন দ্বিতীয় পরীক্ষক আবু বকর সিদ্দিক।

পরীক্ষা কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, পরীক্ষা কমিটির সভাপতির অনুমতি ছাড়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিভাগের অফিস থেকে উত্তরপত্র নিয়ে যান আবু বকর সিদ্দিক। পরিদর্শক না হয়েও উত্তরপত্রের একটি লুজশিটে আবু বকর সিদ্দিকের স্বাক্ষর ও পরীক্ষার দিনের তারিখ দেখা যায়।

দ্বিতীয় পরীক্ষক হিসেবে আবু বকর সিদ্দিক উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে প্রথম পরীক্ষকের নিকট হস্তান্তর করেন। পরবর্তী সময়ে প্রথম পরীক্ষক উত্তরপত্রের একটি লুজশিটে আবু বকর সিদ্দিকের স্বাক্ষর ও পরীক্ষার দিনের তারিখ দেখতে পান। কিন্তু তিনি পরীক্ষার ডিউটিতে ছিলেন না।

বিষয়টি নজরে এলে পরীক্ষা কমিটিতে জানানো হয়। এই বিষয়ে দ্বিতীয় পরীক্ষক আবু বকর সিদ্দিক প্রথমে খাতা দেখার সময় নিজের স্বাক্ষরিত স্বাক্ষর নজরে না আসা এবং প্রথম পরীক্ষকের নিকট নজরে আসা নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে শিক্ষক মহলে।

পরীক্ষা কমিটি কর্তৃক আরো জানা যায়, উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় ওই শিক্ষার্থীর মূল উত্তরপত্রে হাতের লেখা অস্পষ্ট, বাক্যের লাইনগুলো বেশি ফাঁকা। কিন্তু একটি লুজশিটে হাতের লেখা অনেক স্পষ্ট, বাক্যের লাইনে ফাঁকা নেই ও পেপারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর লেখা। এ থেকে সন্দেহ হলে ওই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরীক্ষা কমিটি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সালমা আক্তার বিথী, অভিযুক্ত শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিক ও পরীক্ষা কমিটির সভাপতি মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউই ফোন রিসিভ করেননি।

তবে প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, বাংলা বিভাগ থেকে একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। তদন্ত কমিটি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close