ক্রীড়া ডেস্ক

  ১১ জুলাই, ২০২৪

ইয়ামালের রেকর্ড

ফাইনালে স্পেন

এবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত খেলছিলেন লেমিন ইয়ামাল। তার গোল পাওয়াটা সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের পর ম্যাচ দলের জয়ে অবদান রাখলেও সতীর্থদের দিয়ে গোল করালেও স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি নিজে পাচ্ছিলেন না জালের নাগাল। অবশেষে স্বস্তির গোল পেলেন। তাতেই হলো বিরাট ইতিহাস। এবারের ইউরোয় স্পেনের জার্সিতে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই রেকর্ড গড়েন ইয়ামাল। সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে টুর্নামেন্টে অভিষেক হয় তার। এরপর তিনি খেলেন আরো চারটি ম্যাচ। কিন্তু গোল পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসে কাঙ্ক্ষিত গোল করেছেন ইয়ামাল।

গত মঙ্গলবার রাতে মিউনিখের অ্যালিয়েঞ্জ এরিনায় ম্যাচের ২১ মিনিটে স্বপ্নের গোলটি করেন বার্সেলোনা তারকা। এই গোলেই হলো রেকর্ড। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে গোল করলেন ইয়ামাল। ফরাসিদের বিপক্ষে ম্যাচের সময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর ৩৬২ দিন। এই গোলে তিনি ভাঙেন ২০০৪ সালে গড়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড।

জার্মানির ফুটবল অ্যারেনা মুনশেনে মঙ্গলবার রাতে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে স্পেন। ম্যাচের প্রথমার্ধেই হয় গোল তিনটি। ফ্রান্সকে রেন্ডাল কোলো মুয়ানি এগিয়ে দিলেও চার মিনিটের ব্যবধানে লামিনে ইয়ামাল ও দানি ওলমোর গোলে জয় পায় স্প্যানিশরা। ইউরোয় এর আগে দুই দলের লড়াইয়ে যে দলেই জিতেছিল, শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেই দলই। ১৯৮৪ সালের ফাইনালে স্পেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ফ্রান্স। এরপর ২০০০ সালে ইউরোপের ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছিল ফরাসিরা। আর ২০১২ সালে শিরোপা জয়ের পথে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল স্পেন।

এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধে আধিপত্য ছিল স্প্যানিশদের। যদিও শুরুতেই গোল হজম করে তারা। এরপর দুটি গোল করে উল্টো লিড নেয়। তবে গোল পেতে পারত আরো কয়েকটি। কিন্তু ফরোয়ার্ডের ব্যর্থতায় গোল মিলেনি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য উজ্জীবিত ফুটবল খেলে ফ্রান্স। কিন্তু লক্ষ্যভেদ করতে না পারায় হারতেই হয় তাদের। এদিন ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই সুবর্ণ সুযোগ পায় স্পেন। ইয়ামালের ক্রসে একেবারে ফাঁকায় হেড দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যান ফ্যাবিয়ান রুইজ। কিন্তু লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। তবে এই পিএসজি মিডফিল্ডার না পারলেও তিন মিনিট পর ঠিকই পেরেছেন তার ক্লাব সতীর্থ কোলো মুয়ানি। প্রায় একই ধরনের আক্রমণে কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্রসে ঠিকই হেডে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।

তবে ১২ মিনিট যেতেই সমতায় ফেরে স্পেন। ২১তম মিনিটে ডান প্রান্তে বল পেয়ে এক খেলোয়াড়কে এড়িয়ে ডি-বক্সের বাইরে দারুণ এক বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান ইয়ামাল। এর চার মিনিট পর দলকে এগিয়ে দেন ওলমো। জেসুস নাভাসের ক্রস এক খেলোয়াড় হেড দিয়ে ঠেকলে আলগা বল পেয়ে যান তিনি। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেওয়া তার শট জুলস কুন্ডে ঠেকাতে চাইলেও পায়ে জালে প্রবেশ করলে উল্লাসে মাতে স্প্যানিশরা। সমতায় ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধারা বাড়ায় ফরাসিরা। ৫২তম মিনিটে আরলিয়ান চুয়ামিনির দুর্বল হেড, ৫৬তম মিনিটে এমবাপের কোনাকোনি শট এবং ৬০তম মিনিটে দেম্বেলের ক্রস ঠেকাতে তেমন বেগ পেতে হয়নি স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনের। ৬৩তম মিনিটে ফাঁকায় হেড দেওয়ার সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি দায়ত উপামেকানো। ৭৬ মিনিটে তো একেবারে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন থিও হার্নান্দেজ। কিন্তু তার শট লক্ষ্যেই থাকেনি। ৮১তম মিনিটে ব্যবধান বাড়াতে পারতো স্পেনও। ইয়ামালের শট বারপোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। চার মিনিট পর এক খেলোয়াড় কাটিয়ে ফাঁকায় ঢুকে গিয়েছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু তার শট ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। এরপরও বেশ কিছু সুযোগ ছিল তাদের। কিন্তু গোল না হলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ফরাসিদের।

এদিকে ইয়ামালের গোলটাও হলো দেখার মতো। অধিনায়ক আলভারো মোরাটার কাছ থেকে বল পেয়ে ফরাসি দুই ডিফেন্ডারকে ঘোল খাইয়ে দূর পাল্লার বাঁকানো শটে ইয়ামাল যে গোলটা করলেন, সেটির বিশেষণ হতে পারে এক কথায় অবিশ্বাস্য। তার ঘূর্ণি শট ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি ফ্রান্স গোলরক্ষক। গোলপোস্টের পাশে বল লেগে খুঁজে নেয় জালের ঠিকানা। চার মিনিট পর ড্যানি ওলমোর গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। শেষ পর্যন্ত এই গোলটাই সেমিফাইনালের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। কিন্তু ম্যাচ জুড়ে আলোচনায় থাকলেন শুধুই ইয়ামাল এবং তার গোল। স্পেনের আক্রমণের সুতোটা ছিল তার হাতেই। যেভাবে খুশি সেটি টেনেছেন আর ছেড়েছেন তিনি। দলের প্রয়োজনে আক্রমণ ছেড়ে রক্ষণেও দেখা গেছে তাকে।

গোলবার আগলে রাখতে গিয়ে প্রতিপক্ষকে ট্যাকল করে অবশ্য হলুদ কার্ডও দেখেন ইয়ামাল। অবশ্য ভয়ের কিছু নেই। কারণ, শেষ আটের ম্যাচে কোনো কোর্ড দেখেননি তিনি। আগামী রবিবার তাই ফাইনাল খেলতেও বাধা নেই তার। তবে জার্মানির আইন অনুসারে শিশু আইন ভেঙে জরিমানার কবলে পড়তে হচ্ছে স্প্যানিয়ার্ডদের।

জার্মানির আইনে বলা আছে, স্থানীয় সময় রাত ৮টার পর কোনো শিশু কাজ করতে পারবেন না। তবে খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সময়টা রাত ৯টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা)। এরই মধ্যে দুই ম্যাচে ইয়ামালকে রাত ৯টার পর খেলিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ফাইনালেও খেলাবেন তিনি।

স্পেন কোচ অবশ্য আগেই জানিয়েছেন দলের স্বার্থে ইয়ামালের জন্য জরিমানা গুনতে রাজি আছেন তারা। অর্থাৎ ফাইনালেও খেলবেন ইয়ামাল। তিন ম্যাচে জরিমানার অংকটা দাঁড়াবে কোটি টাকারও বেশি!

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close