ক্রীড়া ডেস্ক

  ১০ জুলাই, ২০২৪

আর্জেন্টিনার কানাডা বাধা

কোপা আমেরিকা কাপের যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি ১৫ বার শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে। আগের ৪৮টি আসরে আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলেছে ২৯ বার। এবার ৩০তম ফাইনালে খেলার অপেক্ষা। আর সে পথে বাধা কানাডা। কোপার প্রথম সেমিফাইনালে আজ বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে। এবারের কোপা আমেরিকা কাপের শুরুটা করেছিল আর্জেন্টিনা এই কানাডাকে হারিয়ে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কানাডাকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল মেসির দল। মাঝখানে তিন ম্যাচ পর আবার সেই কানাডার সামনে আর্জেন্টিনা। প্রথম দেখাটা ছিল গ্রুপ লিগ পর্বে। আর এবারের দেখাটা নকআউট পর্বে।

এই একটি ম্যাচ জিতলেই ফাইনালে যাবে আর্জেন্টিনা। যদিও কোপা আমেরকিা কাপের ফাইনালটা আর্জেন্টিনার জন্য ডালভাত। কিন্তু কানাডার জন্য একেবারে আরাধ্য। কারণ প্রথমবারের মতো কোপা আমেরিকা কাপে খেলতে নেমে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে কানাডা। এই সেই রেকর্ডকে ইতিহাস সৃষ্টি করতে চায় দেশটি। তবে প্রতিপক্ষ যেহেতু আর্জেন্টিনা তখন সেটা কানাডার জন্য এভারেস্ট পাড়ি দেওয়ার মতো। কোপার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা রয়েছে দারুণ ছন্দে। এমন দলের বিপক্ষে কতটা লড়াই করতে পারবে কানাডা সেটা সময়ই বলে দেবে। যদিও কানাডার কোচ জেসে মারশ বলেছেন তারা আর্জেন্টিনাকে চমকে দিতে চায়। শুধু তাই নয় মাঠে লিওনেল মেসিকে আটকে দিতেও চান কানাডার কোচ। কিন্তু যুগে যুগে বহু কোচ এসে লিওনেল মেসিকে আটকানোর কথা বলে গেছেন। পরক্ষণে তারাই সবচেয়ে বেশি ভুগেছে মেসির কারণে। কারণ মেসিকে আঠকানোর কৌশল আবিষ্কার করতে পারেনি কেউই। এবার কানাডার কোচও ঘোষণা দিলেন আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে মেসিকে আরো ভালোভাবে আটকানোর। প্রথমবার কোপার সেমিতে খেলতে এসে চমক সৃষ্টি করা কানাডা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কানাডা দুটি ম্যাচ খেলেছে। যার একটিতে ৫-০ গোলে হেরেছিল। আর অপরটি হচ্ছে এবারের কোপা আমেরিকা কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি। যেটিতে কানাডা হেরেছে ২-০ গোলে। কানাডা চাইছে সে হারের শোধ নিতে। কিন্তু মেসি যে দলের প্রাণভোমরা সে দলের বিপক্ষে জেতাটা কতটা কঠিন সেটা বোধ হয় কমবেশি সব দলই জানে।

সেমিফাইনালে পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া না খেললেও সেমিফাইনালে থাকছেন এই প্লে মেকার। তাই আজেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে যাওয়ার ইতিহাস গড়াটা পাহাড় ডিঙ্গানোর মতো। কারণ দলটির গোল পোস্ট থেকে শুরু করে স্ট্রাইকার জোন পর্যন্ত দুর্দান্ত সব ফুটবলারে ভরা। গোল পোস্টের নিচে একজন মার্টিনেজ। আক্রমণভাগে আরেক মার্টিনেজ। মাঝে মেসি, ডি মারিয়া, ডি পলরা রয়েছেন।

এমন দলের বিপক্ষে জিতে ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাটা নিঃসন্দেহে কঠিন একটি কাজ। তবে সে কাজটি করতে চায় কানাডা। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তারা কতটা সফল হবে সেটা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে কাল ভোর পর্যন্ত। কানাডার কোচ বলেন প্রথম ম্যাচে মেসিকে ফ্রি করে দেওয়াতে অনেক সুযোগ পেয়েছিলেন এই মহাতারকা। কিন্তু সেমিতে সেটা হতে দিতে চান না কানাডা কোচ। রক্ষণভাগ ভালোভাবে সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণাত্মক খেলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জেসে মারশ। তিনি বলেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ। আমরা শুধু রক্ষণভাগই সামলাব না। আমরা আরো আক্রমণাত্মক খেলব। তারপর দেখব আমরা সেটা পারি কি না। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালকে কানাডার ইতিহাসের সেরা ম্যাচ হিসেবে অভিহিত করেন মারশ। তিনি বলেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি আমরা যত ম্যাচ খেলেছি তার মধ্যে সেরা হতে যাচ্ছে। আমরা যদি শক্তিতে পেরে নাও উঠতে পারি তবু চেষ্টা করব।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close