ক্রীড়া ডেস্ক

  ০৬ জুলাই, ২০২৪

দুদলের লক্ষ্যই সেমিফাইনাল

চমক দিতে চায় তুরস্ক অগ্নিপরীক্ষায় ডাচরা

‘অস্ট্রিয়া ম্যাচে শিক্ষা পেয়েছি’, গ্রুপ পর্বের হারের স্মৃতি স্মরণ করে এ কথা বললেন নেদারল্যান্ডস ডিফেন্ডার ডেনজেল ডামফ্রিস। অন্যদিকে, এ অস্ট্রিয়াকে শেষ ষোলোয় হারিয়ে তুরস্ক পেয়েছে উজ্জীবিত হওয়ার আরো উপলক্ষ্য। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে তেতে থাকা তুর্কিদের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই হবে নেদারল্যান্ডসের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। বার্লিনে আজ শনিবার সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এ দুদল। রোমানিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে শেষ আটের মঞ্চে এসেছে নেদারল্যান্ডস। আর অস্ট্রিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক উপহার দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছে তুরস্ক।

তুরস্ক ম্যাচের আগে ডাচ শিবিরে ঘুরেফিরে আসছে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচটি। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামেই পাঁচ গোলের রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে ডাচরা হেরেছিল ৩-২ ব্যবধানে। গ্রুপ পর্বে সেটিই ছিল নেদারল্যান্ডসের প্রথম হার। সেই তেতো স্মৃতির প্রসঙ্গে ডামফ্রিস বললেন, শিক্ষা পেয়েছেন তারা। অস্ট্রিয়া ম্যাচে আমরা শিক্ষা পেয়েছিলাম। এ নিয়ে গত সপ্তাহে আমাদের মধ্যে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমি মনে করি, আমরা খুবই ভালো খেলেছিলাম, বিশেষ করে প্রতিপক্ষকে চাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে, বল পজিশন ধরে রাখার ক্ষেত্রে। রোমানিয়ার বিপক্ষেও বল পজিশন ধরে রেখে খেলার ছকে ছিল নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে, অস্ট্রিয়ার পায়ে বল দিয়ে প্রতি আক্রমণের ছকে বাজিমাত করে তুরস্ক। ডাচদের বিপক্ষে তুরস্ক কোচ কোন ছকে থাকবেন, তা আগেভাগে বলা কঠিন। এ ম্যাচে তুরস্ক কার্ডের কারণে নিষিদ্ধ ওরকুন ককচু এবং ইসমায়েল ইউকসেককে পাচ্ছে না। তবে দলটির স্বস্তি বাড়িয়েছে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অধিনায়ক হাকান কালহানোগলুর ফেরা।

তুরস্কের জন্য আরেকটি ইতিবাচক দিক, জার্মানিতে থাকা প্রবাসী তুর্কি সমর্থকরা। অস্ট্রিয়া ম্যাচের পর লাইপজিগে বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসে মেতেছিল তারা। বলার অপেক্ষা রাখে না, বার্লিনের গ্যালারি মাতাতেও উপস্থিত থাকবেন তারা। গণমাধ্যমে খবর এসেছে, দলকে অনুপ্রাণিত করতে মাঠে আসার পরিকল্পনা করছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানও। ইউরোর সাবেক চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে তুরস্কের তুলনায় যেন মাতামাতি কম। ১৯৮৮ সালের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ডাচরা অবশ্য আধিপত্য ধরে রাখতে পারেনি পরের আসরগুলোয়। ২০০৪ সালে সর্বশেষ সেমিফাইনালে খেলেছিল তারা। চার বছর পরের আসরে সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে থেমেছিল তাদের পথচলা; ওই আসরেই তুরস্ক প্রথমবারের মতো পায় সেমিফাইনালে খেলার স্বাদ। ১৬ বছর আগের সেই সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনার তাড়নায় তুরস্ক তেতে আছে আরো। কোচ ভিনসেনজো মন্তেল্লা অস্ট্রিয়া ম্যাচের পরই বলেছিলেন, দলের পথচলায় গর্বিত তিনি। নিশ্চিতভাবেই আরো পাওয়ার তাগিদ আছে এ ইতালিয়ান কোচের। অনেক মানুষ আমাদের অনুসরণ করছে। তুরস্কে ফুটবলের প্রতি মানুষের যে আবেগ, ভালোবাসা, তা আসলেই দৃশ্যমান। তুরস্ককে কিছুটা গর্বিত করতে পেরে খুবই খুশি আমি। অন্যদিকে তুরস্কের এগিয়ে যাবার মূল অস্ত্র রিয়াল মাদ্রিদের অ্যাটাকার আরদা গুলার। ইনজুরির কারণে বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকায় রিয়ালের হয়ে মৌসুমের বেশিরভাগ সময়ই খেলতে পারেননি তিনি। কিন্তু মৌসুমের শেষ ভাগটা নিজেকে দারুণভাবে প্রমাণ করেছেন। স্প্যানিশ লিগ বিজয়ী রিয়ালের হয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তি গুলরাকে সঠিক সময় ব্যবহার করেছেন। গুলারও কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। তুরস্কের জার্সিতে এবারের ইউরোতে জ্বলে উঠেছে গুলার। ১৯ বছর বয়সি এ ফরোয়ার্ড জর্জিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে ৩-১ গোলে জয়ের প্রথম ম্যাচটিতে দুর্দান্ত এক গোল করেছিলেন। শেষ ষোলোতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে সেট পিস থেকে দুটি গোলেরই যোগানদাতা ছিলেন গুলার। তুরস্কের কোচ ভিনসেনজো মনটিলা বলেছেন, ‘সে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ক্যারিয়ারে এতটা ভালো সে আগে কখনো খেলেনি। গুলারের জন্য আমি দারুণ গর্বিত।’

এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো এবং ২০০৮ সালের পর প্রথম বড় কোনো টুর্নামেন্টে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তুরস্ক। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কাল মাঠে ফিরছেন অধিনায়ক হাকান কালহানগ্লু ও ডিফেন্ডার সামেত আকাইডিন। বার্লিনের অলিম্পিয়াস্টেডিওনে তুরস্ক কিছুটা বাড়তি সুবিধা আদায় করবে বলে নেদারল্যান্ডস ডিফেন্ডার ডিলে ব্লিন্ড উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অ্যাওয়ে ম্যাচ।’ তুরস্কের প্রায় তিন মিলিয়ন নাগরিক জার্মানিতে বসবাস করে। যে কারণে স্টেডিয়ামে অরেঞ্জ সমর্থকদের তুলনায় লাল জার্সিধারী সমর্থকদের সংখ্যাই বেশি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close