ক্রীড়া ডেস্ক

  ০৬ জুলাই, ২০২৪

কেনদের চেপে ধরার হুংকার সুইসদের

সেমিতে চোখ ইংল্যান্ড সুইজারল্যান্ডের

কিছুদিন আগেও যদি সুইজারল্যান্ডকে প্রতিপক্ষ পেত ইংল্যান্ড, তাহলে হয়তো তারা খুশিই হতো। কিন্তু চলতি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সুইসদের দারুণ পথচলা, বিশেষ করে শেষ ষোলোয় শিরোপাধারী ইতালিকে ‘নিখুঁত’ ফুটবল খেলে, ম্যাচজুড়ে চাপে রেখে হারিয়ে দেওয়ার পর বদলে গেছে সবকিছু। ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেটেরও তাই সুইজারল্যান্ডকে নিয়ে ভাবতে হবে নতুন করে। সেলডর্ফে আজ শনিবার ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এ দুদল। ২০২১ সালে রানার্সআপ হওয়া ইউরোপ সেরার আসরে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চপ্রাপ্তি, ওই আসরেই প্রথম এবং সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল সুইজারল্যান্ড অর্থাৎ তাদের সামনে এই প্রথমবার সেরা চারে খেলার হাতছানি।

গত বিশ্বকাপের পর খেলা ১৮ ম্যাচের মধ্যে সুইজারল্যান্ড হেরেছে মাত্র একটিতে। কেবল এ পরিসংখ্যানই নয়, আরো নানা কারণেই দলটি আদায় করে নিয়েছে সমীহ। তাদের আর ‘সহজ প্রতিপক্ষ’ ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই কারো সামনে। গ্রুপ পর্বে স্বাগতিক জার্মানিকে রুখে দেওয়ার পর শেষ ষোলোয় সুইসরা ২-০ গোলে হারিয়ে দেয় মুকুট ধরে রাখার মিশনে আসা ইতালিকে। চলতি আসরে এ পর্যন্ত ৩৬টি ট্যাকল করেছে তারা, যা তালিকার নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়সংখ্যক, কিন্তু গোল হজম করেছে মাত্র ৩টি। এ পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, সুইসরা কতটা গোছাল এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে খেলতে পারদর্শী তা এখন দেখার অপেক্ষায়।

দলটির পোস্টে থাকা ইয়ান সমেরকে গত চার ম্যাচে সেভ করতে হয়েছে মাত্র ৬টি আক্রমণ; যেটি দেখাচ্ছে, রক্ষণের কড়া পাহারায় তিনি কতটা সুরক্ষিত। চলতি ইউরোয় আর কোনো গোলরক্ষক সমেরের মতো এতটা নির্ভার থাকতে পারেনি। চলমান টুর্নামেন্টে বক্সের বাইরে থেকে দুই গোল পাওয়া দল এখন পর্যন্ত চারটি। জার্মানি, তুরস্ক ও রোমানিয়ার সঙ্গে আছে সুইজারল্যান্ড। যদিও ৪৮ শতাংশ বল পজিশন ছিল বিগত ম্যাচগুলোয়, কিন্তু লক্ষভ্রষ্ট শটের (১৫টি) চেয়ে লক্ষ্যে বেশি শট (১৮টি) রাখা দলও তারা।

সুইসদের আরেকটি শক্তির জায়গা একাধিক খেলোয়াড়ের স্কোরিংয়ের সক্ষমতা। এ পর্যন্ত তাদের করা ৭টি গোল এসেছে ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড় থেকে অর্থাৎ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভরতার চেয়ে আক্রমণ কিংবা রক্ষণে দলীয় প্রচেষ্টাই পুজি তাদের। ইতালিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সুইস মিডফিল্ডার রুবেন ভারগাস বলেছিলেন, ‘আমরা তাদেরকে শ্বাস নেওয়ার সময় দেইনি।’ ইতালির মিডফিল্ডার ব্রায়ান ক্রিস্তেন্তেও ওই ম্যাচের পর অকপটে বলেছিলেন, ‘আমাদেরকে শারীরিকভাবে এবং সংগঠিতভাবে পরাজিত করেছে তারা।’

সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন এরই মধ্যে হুঙ্কার ছেড়ে বলেছেন, কেন ইংল্যান্ডকে হারাতে পারব না আমরা? কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ সামনে রেখে আবারও দিলেন ইংল্যান্ডকে চেপে ধরার বার্তা। যখন আমরা চাপ দিতে শুরু করব আমরা ইংল্যান্ডকে খেলতে দেব না। এটাই আমাদের লক্ষ্য। ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেটকে তাই ‘শ্বাস’ নেওয়ার পথ খুঁজে বের করতেই হবে। চলমান ইউরোতে এখনো সমর্থকদের মন ভরাতে পারেননি জুড বেলিংহ্যামণ্ডহ্যারি কেইনরা। অতীত পরিসংখ্যান যদিও পক্ষে, দুদলের ২৭ দেখায় ইংলিশদের হার মাত্র ৩টি, সর্বশেষটি ১৯৮১ সালে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে এ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close