ক্রীড়া ডেস্ক

  ২৫ জুন, ২০২৪

প্রোটিয়াতে থামল ক্যারিবিয়ানদের স্বপ্ন

দুদলের জন্যই সমীকরণ ছিল একটি। সেমিফাইনালে যেতে হলে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। এক অর্থে অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল বললেও ভুল হবে না। আর সেই লড়াইয়ে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত লড়াই করেও ক্যারিবিয়ানদের জেতাতে পারেননি রোস্টন চেজ।

বৃষ্টি, রান তাড়া, ডাকওয়ার্থ-লুইস আর কার্যত নক-আউট ম্যাচ, এই সবকিছু মিলে যাওয়া মানে দক্ষিণ আফ্রিকার বেদনা ও বিভীষিকার ইতিহাস। বিশ্ব আসরে কতবারই তো এসব মুহূর্তে ভেঙে পড়ে ‘চোকার’ তকমা পেয়ে গেছে তারা। তবে এবার এই দল ব্যতিক্রম। অ্যান্টিগায় কোয়ার্টার-ফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা। যার নেতৃত্বে ২০১৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে প্রোটিয়ারা, সেই এইডেন মার্করামের নেতৃত্বে জাতীয় দলও এবার ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে গেল আরেক ধাপ।

স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে গতকাল দুর্দান্ত বোলিংয়ে ক্যারিবিয়ানদের ১৩৫ রানে আটকে রাখে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের রান তাড়ায় দুই ওভারের পর বৃষ্টি নেমে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। পরে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে নতুন লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ১৭ ওভারে ১২৩। নানা নাটকীয়তা পেরিয়ে সেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে তারা ৫ বল বাকি রেখে। উইকেট ও কন্ডিশন বুঝে এই ম্যাচের একাদশে তাব্রেইজ শামসিকে ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তিন উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনিই। অন্য দুই স্পিনার কেশাভ মহারাজ ও মার্করামও ছিলেন দুর্দান্ত।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দারুণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখান রোস্টন চেইস। ব্যাট হাতে চমৎকার ফিফটির পর বল হাতে তার তিন উইকেট শেষ দিকে ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। এই দক্ষিণ আফ্রিকা যে অন্যরকম! টানা সাত জয়ে তারা পৌঁছে গেল সেমিফাইনালে। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচ তারা জিতেছে তুমুল উত্তেজনার মধ্যে শেষ মুহূর্তের চাপ সামলে। দক্ষিণ আফ্রিকার রান তাড়ার শুরুটা ছিল নাটকীয়। ইনিংসের প্রথম চার বলেই আকিল হোসেনকে তিন দফায় বাউন্ডারিতে পাঠান কুইন্টন ডি কক। পরের ওভারেই জোড়া ধাক্কায় প্রোটিয়াদের নাড়িয়ে দেন আন্দ্রে রাসেল। লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটে পেছনে ক্যাচ দেন রিজা হেনড্রিকস (গোল্ডেন ডাক)। প্রিয় হুক শটে সীমানায় ধরা পড়েন ডি কক (৭ বলে ১২)। এরপরই বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। বিরতির পর মার্করাম ও ট্রিস্টান স্টাবস শুরু করেন ইতিবাচকভাবে। পাওয়ার প্লের ৫ ওভারে রান আসে ৪১। কিন্তু আলজারি জোসেফ বল হাতে নিয়েই থামান মার্করামকে (১৫ বলে ১৮)। হাইনরিখ ক্লসেন গিয়ে শুরু করেন সেটাই, যেটা তিনি সবচেয়ে ভালো পারেন। গুডাকেশ মোটির প্রথম বলই আছড়ে ফেলেন তিনি সাইটস্ক্রিনে। বাঁহাতি স্পিনারের ওই ওভারে বাউন্ডারি মারেন তিনি আরো তিনটি। পরের ওভারে দারুণ এক বাউন্সারে ক্লসেনকে বিদায় করে গর্জনে ফেটে পড়েন জোসেফ। ওই ক্যামিও ইনিংসটি অবশ্য কমিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার চাপ। তবে রোস্টন চেইস আক্রমণে এসে আবার জমিয়ে দেন খেলা। ধুঁকতে থাকা ডেভিড মিলারকে (১৩ বলে ৪) বোল্ড করেন তিনি। পরে তিনি ফিরিয়ে দেন দারুণ খেলতে থাকা স্টাবসকেও (২৭ বলে ২৯)। একটু পরে যখন কেশাভ মহারাজকেও বিদায় করেন চেইস, উল্লাসে তখন ফেটে পড়ে গোটা স্টেডিয়াম। কিন্তু ওই ওভারেই শেষ বলে দুর্দান্ত শটে চার মেরে সমীকরণ সহজ করে দেন কাগিসো রাবাদা। এরপর শেষ ওভারের প্রথম বলে ইয়ানসেনের ওই ছক্কায় ম্যাচ শেষ।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে সাত বলের মধ্যেই দুই উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেই হোপ খালি হাতে ফেরার পর নিকোলাস পুরান বিদায় নেন ব্যক্তিগত ১ রানে। এরপর আরেক ওপেনার কাইল মেয়ার্সকে নিয়ে দলের হাল ধরেন রোস্টন চেজ। তৃতীয় উইকেটে ৬৫ বলে ৮১ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটার। তাতে বড় পুঁজির স্বপ্নই দেখছিল স্বাগতিকরা।

মেয়ার্সকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন তাবরাইজ শামসি। তাতেই ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে ক্যারিবিয়ানরা। অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল আউট হন ব্যক্তিগত ১ রানে। শেরফেন রাদারফোর্ড তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি। দলীয় ৯৭ রানে ফিরে যান চেজও। ফলে পুঁজিটা খুব বড় করতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রানের ইনিংস খেলেন চেজ। ৪২ বলের ইনিংসটি সাজাতে ৩টি চার ও ২টি ছক্কা মেরেছেন এই অলরাউন্ডার। ৩৪ বলে ৩৫ রান করেন মেয়ার্স। চেজের মতো তিনিও মেরেছেন ৩টি চার ও ২টি ছক্কা। শেষ দিকে আন্দ্রে রাসেল ৯ বলে ১৫ ও আলজেরি জোসেফ ৭ বলে ১১ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ৪ ওভার বল করে ২৭ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নিয়েছেন শামসি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close