ক্রীড়া প্রতিবেদক

  ২৪ জুন, ২০২৪

দলের এমন রুগ্ণ অবস্থায় হতাশ সাকিব

বিশ্বকাপের উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার আগে বাংলাদেশ জানিয়েছিল, সুপার এইটে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য। সে লক্ষ্য পূরণ করলেও বাংলাদেশ চলমান বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে স্রেফ হতাশাই উপহার দিয়েছে। তবে সাকিব আল হাসান জানালেন, ফলের দিক দিয়ে চিন্তা করলে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তাদের খুব একটা খারাপ যায়নি। যদিও একই সঙ্গে সুপার এইটে লড়াই করতে না পারা যে হতাশাজনক, তা স্বীকার করে নিয়েছেন এ অলরাউন্ডার। এদিকে বাংলাদেশের শীর্ষ এ তারকার পারফরম্যান্স নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের সাবেক তারকা বীরেন্দর শেওয়াগ।

গত শনিবার সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেন, ‘যদি ফলাফলের কথা বলেন, আমি বলব আমরা মোটামুটি অবস্থানে আছি। আমরা ৬টা ম্যাচ খেলে ৩টা জিতেছি, তিনটা হেরেছি। ৫০ শতাংশ জয় যদি দেখেন, সেদিক দিয়ে খুব একটা খারাপ না। আমি যেটা অনুভব করি- আমরা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যেভাবে লড়াই করেছি, (সুপার এইটের) এ দুটা ম্যাচের একটাতে যদি এভাবে লড়াই করতে পারতাম, আমার কাছে মনে হয় বিশ্বকাপটা তখন আমাদের জন্য অনেক সফল হতো। দুটা ম্যাচে আমরা যেভাবে প্রথম থেকেই পিছিয়ে ছিলাম, ওই জায়গাটা আসলে আমাদের জন্য একটু দুঃখজনক।’

ডি গ্রুপে শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জিতে সুপার এইটে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। এরপর বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে অ্যান্টিগায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৪০ রানেই আটকে গিয়েছিলেন টাইগাররা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম ইনিংসেই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে নাজমুল হাসান শান্তর দল। একই মাঠে ভারতের বিপক্ষে ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ থেমে গিয়েছিল ১৪৬ রানে। শক্তিশালী দুই প্রতিপক্ষের সামনে বাংলাদেশের রুগ্ন দশা ফুটে ওঠে। দলগুলোর সঙ্গে যে ব্যবধান এখনো অনেক, সেটা দেখে দুঃখ হয় সাকিবের, ‘আপনি যদি মাঠের পারফরম্যান্স দেখেন, আমরা ওভাবে লড়াই-ই দেখাতে পারিনি। যেটা আমি স্বীকার করব যে হতাশাজনক। আমরা যখন বিশ্বকাপের দাবিদার দুটি দলের বিপক্ষে খেললাম, তখন তাদের সঙ্গে আমাদের ব্যবধানটা খুব ভালোভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। আমাদের যে এত বেশি ব্যবধান এখনো আছে, সেটা আমার কাছে হতাশার।’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডিএলএস পদ্ধতিতে ২৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষেও ৫০ রানের একপেশে হার টাইগারদের ভাগ্যে জুটেছে। ২৫ জুন সুপার এইটের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেন্ট ভিনসেন্টে খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

এদিকে দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিবর্ণ ছিলেন সাকিবও। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি ফিফটি করলেও বাকি পুরো আসরে রান খরায় ছিলেন তিনি। বল হাতেও ৬ ম্যাচে পান তিন উইকেট। ছিলেন বেশ খরুচেও। সাকিবের যা পারফরম্যান্স তাতে তার অনেক আগেই অবসর নেওয়া উচিত ছিল, পরিসংখ্যান দেখে সাকিবের নিজেরই লজ্জা পাওয়া উচিত বলে কদিন আগে মন্তব্য করেছিলেন শেওয়াগ। আবারও ক্রিকবাজের আলোচনায় সাকিবকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান শেওয়াগ, ‘অভিজ্ঞ হিসেবে আপনাকে অন্য ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে ক্রিজে থেকে ম্যাচ বের করতে হবে। আপনি ৭ বলে ১১ করে আউট হয়ে গেলেন। আমি বুঝলাম না। তার অনেক অভিজ্ঞতা কিন্তু কোনো কাজে আসছে না। আপনি একটা ছয় মেরেছেন, প্রতি বলে বলে মারতে পারবেন না। আমি আগেও তাই বলেছি তার উচিত তরুণদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া।

অধিনায়ক শান্তর মুখেও এসেছে যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ব্যাটিং না করার কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক ব্যাটিং অপশন ছিল আজকে। কিন্তু যতটুকু ইন্টেন্ট দেখানোর প্রয়োজন ছিল তা আমরা পারিনি। কারণ যখন ১৯০ রানের বেশি তাড়া করছি, আমাদের কিছু ইন্টেন্ট দেখানো উচিত ছিল। বিশেষ করে, প্রথম ছয় ওভারে।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে হাই-স্কোরিং ম্যাচ খেলে অভ্যস্ত নন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। সে রকম ম্যাচে মানসিকতায়ও তাই বাংলাদেশ পিছিয়ে যায় বলে মনে করেন সাকিব, ‘আমরা ১৩০-১৪০-১৫০ রানের খেলাটা খুব ভালো জানি। কারণ আমরা এ ধরনের ম্যাচই সব সময় খেলে অভ্যস্ত। যখনই আমরা ১৮০-১৯০ রানের খেলায় যাই, তখন আমাদের চিন্তা ওই পর্যায়ের আসে না।’

সাকিব আরো বলেন, ‘বড় মঞ্চে যখন খেলা হয়, আপনাকে ১৮০ রান তাড়া করতেই হবে। আমরা খুব বেশি হাইস্কোরিং ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করিনি। এমনকি বিপিএলে বিদেশিরা যখন করে দেয় তখন হয়। শুধু একটা ম্যাচ আমি দেখেছি এ বছরে, যখন রংপুরের বিপক্ষে কুমিল্লার ম্যাচে লিটন আর হৃদয় খুব ভালো ব্যাটিং করে ১৮০ রান তাড়া করেছিল। ওটা বাদে আমি খুব বেশি দেখিনি যে দেশি ব্যাটাররা এরকম রানে চেজ করে জেতাতে পারে। এ জায়গাটায় সবসময় আমাদের দুর্বলতা ছিল, এখনো আছে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close