ক্রীড়া ডেস্ক

  ১৬ জুন, ২০২৪

শিরোপা জিততে চায় রোনালদো

তিন প্রীতি ম্যাচের দুটিতে হারের কারণে পর্তুগাল দলকে নিয়ে যে শঙ্কা উঁকি দিয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। সবশেষ ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তারা ‘সবকিছু ঠিকঠাক থাকার’ আভাসও দিয়েছে। এবার দলটির অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো শোনালেন, ইউরোর ট্রফি পুনরুদ্ধারের আশাবাদ। জার্মানিতে শুক্রবার শুরু হচ্ছে এবারের

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। আগামী বুধবার চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে পর্তুগাল। স্কোয়াডের শক্তির বিচারে এবারের শিরোপা লড়াইয়ে পর্তুগাল ফেভারিটদের কাতারেই থাকবে। যদিও দলটির এ বছরের পারফরম্যান্স তেমন সন্তোষজনক নয়। বাছাই পর্বে ১০ ম্যাচের সব কটিতে জয়ী দলটি গত মার্চে দুর্বল স্লোভেনিয়ার মাঠে গিয়ে হেরে বসেছিল ২-০ গোলে।

এরপর প্রস্তুতি পর্বের শেষ ধাপে এই মাসের শুরুতে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেও, পরের ম্যাচেই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় পর্তুগিজরা। এতেই রবের্তো মার্তিনেসের দলকে ঘিরে শুরু হয় প্রবল সমালোচনা। তবে গত মঙ্গলবার রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় তারা, মূল লড়াইয়ে নামার আগে তাদের ছন্দে ফেরার আভাসও মেলে। বয়স ৩৯ হয়ে গেলেও তা যে রোনালদোর পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি, তার প্রমাণ মেলে সেদিন। দারুণ দুটি গোল করে ম্যাচের নায়ক ছিলেন তিনিই। পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার ছাড়াও পর্তুগাল দলে আরো কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় আছেন- ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেস, পিএসজির ভিতিনিয়া, ম্যানচেস্টার সিটির বের্নার্দো সিলভা ও রুবেন দিয়াস। আর সম্ভাবনাময় ফুটবলারের তালিকাও বেশ লম্বা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন রোনালদোর কণ্ঠেও মিশে রইল আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়া।

আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এই প্রজন্ম এমন উচ্চতার একটি টুর্নামেন্ট জয়ের দাবি রাখে। সেমি-ফাইনাল আশা করি, আমরা আরো বেশিদূর যেতে পারব। আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে, বর্তমান নিয়ে ভাবতে হবে, শান্ত থাকতে হবে- বিশ্বাস করতে হবে যে এটা সম্ভব। আমরা প্রস্তুত। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পরের বছর প্রথম ইউরোয় প্রথমবার খেলেন রোনালদো।

এবার তার সামনে রেকর্ড ষষ্ঠবার প্রতিযোগিতাটিতে খেলার হাতছানি। এই বয়সে ইউরোয় খেলার সুযোগ পাওয়াটা রোনালদোর কাছে একটা উপহারের মতো।

আইরিশদের বিপক্ষে গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ২১ পঞ্জিকাবর্ষের প্রতি বছর গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন রোনালদো। এবার সবচেয়ে বেশি ইউরোয় খেলার রেকর্ড গড়ার সুযোগ। রোনালদোর কাছে খেলে যাওয়াটাই আসল ব্যাপার, রেকর্ড নয়।

আমি ফুটবল খেলা উপভোগ করি, রেকর্ড তো একটা ধারাবাহিকতার ফসল, এটা কোনো লক্ষ্য নয়। খেলতে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই এগোলো হয়। এবার আমি ষষ্ঠবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ খেলব, সর্বোচ্চ উপায়ে উপভোগ করাটাই আসল কথা। ভালো খেলতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন, দল জিততে পারে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা আগে থেকেই রোনালদোর দখলে, সংখ্যাটা এখন ১৩০। আর ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তার মোট গোল ৮৯৫।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close