ক্রীড়া প্রতিবেদক

  ১৫ জুন, ২০২৪

সাকিবের চোখে জয়ের নায়ক রিশাদ-মুস্তাফিজ

নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ম্যাচের আগে সাকিব আল হাসানের ওপর ছিল প্রবল চাপ। রান খরায় থাকা বাংলাদেশের সফলতম ক্রিকেটার জ্বলে উঠেন দলের ভীষণ চাহিদায়। দলকে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পাইয়ে দিতে খেললেন অপরাজিত ফিফটি। তবে ওই পুঁজি নিয়েও ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে যেত, যদি না কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তে জ্বলে উঠতেন রিশাদ হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান। জেতার কৃতিত্বটা তাই দুই সতীর্থকে দিলেন সাকিব। সেন্ট ভিনসেন্টে নেদারল্যান্ডসকে ২৫ রানে হারিয়ে সুপার এইটে এক পা দিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে সাকিবের ৪৬ বলে অপরাজিত ৬৪ রানে ১৫৯ করে ডাচদের আটকে রাখে ১৩৪ রানে। ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিয়ে সাকিব বলেন পুরো ইনিংস টেনে খেলার লক্ষ্য ছিল তার, ‘ওপর থেকে কেউ একজনের পুরো ইনিংস ব্যাট করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ব্যাটিংয়ে অবদান রাখতে পেরে খুশি। উইকেট খুব সহজ ছিল না। আমার মনে হয় স্নায়ু ধরে রেখে আমরা ভালো পুঁজি গড়েছি। আমি বলছি না যে, এটা জেতার মতো রান ছিল, এটা চ্যালেঞ্জিং রান ছিল।’

এক পর্যায়ে ম্যাচ জিততে ৩৬ বল ৫৪ রান দরকার ছিল ডাচদের, হাতে ছিল ৭ উইকেট। ওই অবস্থায় ১৫তম ওভারে জোড়া শিকার ধরেন রিশাদ। পরে তিনি নেন আরেক উইকেট। ডেথ ওভারে এসে মুস্তাফিজ প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের একদম বোতলবন্দি করে ফেলেন। তাই এ দুজনকে নায়ক মনে হচ্ছে সাকিবের, ‘খেলায় তাদের (নেদারল্যান্ডস) মোমেন্টাম ছিল। এক পর্যায়ে তারা ভালো জায়গায় চলে যায়। শেষ পাঁচ ওভারে ১০ করে লাগত, এটা যেকোনো দিকে যেতে পারত। তাদের আটকে রাখা সহজ ছিল না। কৃতিত্বটা দিতে হবে বোলারদের। স্নায়ু ধরে রেখেছে যেভাবে শেষ ৮ ওভারে। বোলাররা নিখুঁতভাবে কাজটা করেছে। বিশেষভাবে ফিজ (মুস্তাফিজ) ও রিশাদ যেভাবে বল করেছে তাতে তারা ম্যাচটা নেদারল্যান্ডস থেকে বের করে নিয়েছে।’

২০১৪ সালের পর সেন্ট ভিনসেন্টে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। টি-টোয়েন্টি হয়নি ২০১৩ সালের পর। কন্ডিশন অচেনা হওয়ায় খুব বেশি ঝুঁকি নিয়ে খেলতে চায়নি বাংলাদেশ, সাকিব জানালেন সেটাও, ‘এখানে চার-পাঁচ বছরে হয়ত তেমন কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি (গত ১০ বছরে হয়নি)। এ জন্য বোঝা যাচ্ছিল না কত রান নিরাপদ। আমরা তাই উইকেট রেখে ভাবছিলাম কত দূর যাওয়া যায়। এটা ভালো পুঁজি ছিল। ১৬০ রান বিশ্বকাপের ম্যাচে খুবই কঠিন।

এদিকে চার বছরের বেশি সময় হয়ে গেছে জাতীয় দলের সঙ্গে নেই মাশরাফি বিন মর্তুজা। কিন্তু তাই বলে দলের খেলার খোঁজ ঠিকই রাখেন। যেকোনো বড় টুর্নামেন্টে দলকে অনুপ্রেরণা দেন এবং শুভেচ্ছা জানান। গত বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের পরও নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লম্বা এক পোস্টে নিজের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি সাকিব আল হাসানকে প্রসংশায় ভাসিয়েছেন। করেছেন দলের সুনাম।

ডাচদের বিপক্ষে জয়ের পর মাশরাফি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন হয়ে সেন্ট কিডসের এ মাঠে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলাম। প্রথম ইনিংসে সম্ভবত ৩৮ বা ৪০ রান করেছিলাম। প্রথম ইনিংসে ৬ ওভার বল করে ইনজুরিতে পড়ি এবং পরে আর বল করা হয়নি। যদিও টেস্ট ম্যাচ আমরা জিতি এবং রিয়াদ সেকেন্ড ইনিংসে ৬ উইকেট পায়। এটাই আমার শেষ টেস্ট ম্যাচ ছিল এবং আমি এরপর অপারেশন করে প্রায় ৮ মাস পর দলে ফিরি। একই পোস্টে সাকিবের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, ‘সেটা ছিল ২০০৯ সাল এবং সেই ম্যাচে সাকিব পরে ক্যাপ্টেন হিসেবে দলের দায়িত্ব নেয়। আজ (গতকাল) সাকিব আবার পুরো দলের দায়িত্ব নিয়ে দারুণ একটা ইনিংস খেলেছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শেষ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করেছে। যার কারণে একটা বড় রান করা সম্ভব হয়েছে।’

বাংলাদেশের এখনো সুপার এইট নিশ্চিত না হলেও মাশরাফি নিশ্চিত যে তারা জায়গা করেই নেবে। যার কারণে দলকে আগেই অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। লেখেন, সেরা আটে স্বাগতম। এবার শুরু হবে আমাদের আসল বিশ্বকাপ। এ উইকেটে কেউ সেরা দল নয়, আমরা বিশ্বাস রাখতে পারলে দারুণ কিছু করা সম্ভব। সাকিবকে টুপি খোলা সালাম, সে সঙ্গে পুরো দলকে অভিনন্দন। বিগ বিগ রিলিফ। অভিনন্দন বাংলাদেশ। সাকিব ছাড়াও দলের বোলিংয়েরও প্রশংসা করেছেন এ সাবেক অধিনায়ক। তিনি লিখেছেন, ‘রিয়াদ এবং জাকিরের কথা বলতেই হবে। তারা দুজনও সিচুয়েশন অনুযায়ী যা দরকার ছিল সেটাই করেছে। বোলিংয়ে পুরো দল হিসেবে আবারও দারুণ পারফরম্যান্স। দিন দিন রিশাদ স্বস্তির জায়গা হয়ে উঠছে, মুস্তাফিজ, সাকিব অসাধারণ। তাসকিনের কথা আসলেই আলাদা করে বলা উচিত, বিগত দুই বছরে এ ফরম্যাটে বুমরাহর পর সম্ভবত সে বিশ্বের সেরাদের কাতারে। এ বিশ্বকাপ সত্যিই আমাদের জন্য বিশাল সুযোগ। একেতো স্লো উইকেটে খেলা, যেটা আমরা সব সময় আশা করি।’ নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গেলেও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ৩ ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটে এক পা দিয়ে রেখেছে টাইগাররা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close