ক্রীড়া ডেস্ক

  ২১ নভেম্বর, ২০২২

তারকা জাদুর প্রতীক্ষায় ভক্তরা

টানা এক মাস চলবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ। ফুটবলের এই আসর থেকে উঠে আসবেন ভবিষ্যতের তারকা। আবার অনেকের কাছে এটাই শেষ বিশ্বকাপ। বিশ্ব ফুটবলের এই বড় আসরে খেলোয়াড়রা তাদের তুলে ধরতে কার্পণ্য করবেন না। ফুটবলপ্রেমীরা তাদের পছন্দের খেলোয়াড়দের ফ্রি কিক, ডাবলিং দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। কোনো কোনো খেলোয়াড় আবার বিশ্বকাপের আসর থেকেই দর্শকদের মনে জায়গা করে নেবেন।

তবে এবার কোনো কোনো ফুটবলারের দিকে দর্শকদের নজর থাকবে বা বিশ্বকাপ মাতাতে চলেছেন; চলুন তাদের জেনে নিই। বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই নিজের বিদায়ের বার্তা দিয়ে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। রেকর্ড সাতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ফরোয়ার্ড জানিয়ে দিয়েছেন, এবারের আসরই হতে যাচ্ছে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

ক্লাব ফুটবলকে দুহাত ভরে দিয়েছেন মেসি। ব্যক্তিগত অর্জনও ভূরিভূরি। সেই অর্থে জাতীয় দলকে কোপা আমেরিকা ছাড়া কিছুই জেতাতে পারেননি মেসি। তাই জীবনের শেষ বিশ্বকাপটা নিশ্চিতভাবে সাফল্যের রংতুলিতে আঁকতে চাইবেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের হয়ে ১৬৪ ম্যাচে ৯০টি গোল করেছেন পিএসজি তারকা মেসি।

মাঠের লড়াইয়ে সময়টা মোটেই ভালো কাটছে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। চলতি মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাত্র একবার জালের দেখা পেয়েছেন। ইউরোপা লিগে মাত্র দুবার। এরই মধ্যে ইউনাইটেডের কোচ এরিক টেন হাগের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন।

কিন্তু যখন পর্তুগাল, তখন রোনালদোই সেরা নেতা, সেরা গোলমেশিন এবং সবচেয়ে বড় নির্ভরতা। তিনি পর্তুগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ, ১৯১টি। কেবল পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতাই নন, আন্তর্জাতিক গোলের হিসাবেও রোনালদো চূড়ায়। গত বছর জুনে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে ফ্রান্সের জালে জোড়া গোল করে ছুঁয়েছিলেন আলি দাইয়ির ১০৯ গোলের রেকর্ড। ওই বছর সেপ্টেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দলের ২-১ ব্যবধানে দুই গোলই করেছিলেন রোনালদো, প্রথম গোলে এককভাবে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলের রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি। পরের পথচলায় এই সংখ্যাটাকে ১১৭-তে আপাতত উন্নীত করেছেন তিনি।

রোনালদোর কাঁধে সওয়ার হয়েই পর্তুগাল পেয়েছে সর্বোচ্চ সাফল্য-২০১৬ সালের ইউরো, ২০১৯ সালে নেশন্স লিগের শিরোপা জয়। যদিও বিশ্বকাপের মঞ্চে পর্তুগালকে এখনো প্রত্যাশিত সাফল্য এনে দিতে পারেননি রোনালদো। ২০০৬ সালে চতুর্থ হওয়া তাই এখন পর্যন্ত তাদের সেরা সাফল্য। এর পরের তিন আসরের মধ্যে দলটি দুবার শেষ ষোলো থেকে এবং একবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়। সবশেষ ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে রোনালদোর পর্তুগাল বিদায়ঘণ্টা বাজে শেষ ষোলোয়। এবারের গল্পটা ভিন্ন হবে কি?

ফরাসি লিগ ওয়ানে (৭ নভেম্বর পর্যন্ত) ১১ গোল করেছেন নেইমার জুনিয়র। রাশিয়ার আসরে ৪ গোল করা এই ফরওয়ার্ড স্বাভাবিকভাবে এবার মুখিয়ে থাকবেন চার বছর আগের পরিসংখ্যান ছাপিয়ে যেতে। এ ছাড়া অসাধারণ এক প্রাপ্তির হাতছানিও আছে ৩০ বছর বয়সি এই স্ট্রাইকারের সামনে। সেলেসাওদের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ৭৫ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন নেইমার। মাত্র ২ গোল বেশি নিয়ে তার ওপরে কেবল কিংবদন্তি পেলে।

তাছাড়াও রেকর্ড পাঁচ বিশ্বকাপ জেতা ব্রাজিল এবার মুখিয়ে আছে ষষ্ঠ শিরোপার স্বাদ পেতে। সাম্প্রতিক সময়ে পিএসজিতে এমবাপ্পের সঙ্গে নানা ইস্যুতে বিরোধের কারণে শিরোনামে আসা নেইমারও উন্মুখ হয়ে আছেন বিতর্কের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে সাফল্যের আলোয় ভাসতে। এখন যদি শরীরটা ফিট থাকে, ব্রাজিলের পথচলা যদি গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পেরিয়ে ছুটতে থাকে, তাহলে সোনার বুট জুটতে পারেন নেইমারের ভাগ্যেও।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close