ক্রীড়া ডেস্ক

  ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শেষ চারে কারা, কীভাবে

শেষ মুহূর্তের গোলে স্বপ্নভঙ্গ পর্তুগালের

শেষ চারের টিকিট হাতে পাওয়ার জন্য ন্যূনতম হার এড়ালেই চলত পর্তুগালের। অন্যদিকে জেতার কোনো বিকল্প ছিল না স্পেনের সামনে। এই কঠিন সমীকরণই মিলিয়েছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। শেষ মুহূর্তের জাদুতে ফার্নান্দো সান্তোসের দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে বাজিমাত করেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এই জয়ে শেষ দল হিসেবে ফাইনালে ওঠার মিশনে জায়গা করে নিল স্পেন। এর আগে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় লুকা মডরিচের দল ক্রোয়েশিয়া। পরবর্তীতে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের রানার্সআপদের দেখানো পথে হেঁটেছে নেদারল্যান্ডস এবং ইতালি।

ঘরের মাঠ ব্রাগা মিউনিসিপাল স্টেডিয়ামে বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে পর্তুগাল। স্পেনের রক্ষণকে চেপে ধরে অনেক সুযোগ তৈরি করেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু ভালো ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলমুখ খুলতে পারেনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অ্যান্ড কোং।

অধিনায়ক ছাড়াও সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন দিয়েগো জোতা, ব্রুনো ফার্নান্দেজরা। প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের বারবার হতাশ করে গোলপোস্ট অক্ষত রেখেছেন উনাই সিমন। দলের জয়ের কৃতিত্বের বড় একটা অংশের দাবিদার অ্যাটলেটিক বিলবাও গোলরক্ষক।

প্রথমার্ধে কোণঠাসা হয়ে থাকা স্প্যানিশরা বিরতির পর খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসার চেষ্টা করেও সফল হতে পারছিল না। অবশেষে অতিথিদের আনন্দে ভাসান আলভারো মোরাতা। নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট আগে সতীর্থ উইলিয়ামসের হেড পাস থেকে ডান পায়ের শটে জালে বল জড়ান ধারে জুভেন্টাসের হয়ে খেলা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই তারকা স্ট্রাইকার। তাতেই স্বপ্নভঙ্গ হয় স্বাগতিকদের।

এই জয়ে ‘এ’ গ্রুপের লিগ দুইয়ের শীর্ষে ওঠে এসেছে স্পেন। ছয় ম্যাচে জায়ান্টদের সংগ্রহ ১১ পয়েন্ট। ১০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে পর্তুগাল।

তবে চূড়ান্ত হয়েছে নেশন্স কাপের শেষ চারের লাইনআপ। লিগ এ থেকে চার গ্রুপের শীর্ষ চারটি দল হিসেবে এর মধ্যেই শেষ চারে উঠে গেছে ইতালি, ক্রোয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস ও স্পেন। প্রথম তিনটি দল টিকেট নিশ্চিত করেছিল আগেই, পরশু রাতে পর্তুগালকে হারিয়ে সর্বশেষ দল হিসেবে শেষ চারে উঠে গেছে স্পেন।

নেশন্স লিগের সেমিফাইনালের ম্যাচগুলো হবে সামনের বছরের ১৪ ও ১৫ জন। সেমিতে কে কার বিপক্ষে খেলবে সেটা নিশ্চিত নয় এখনো। ড্রয়ের পর ঠিক হবে সেটি। জয়ী দুই দলের ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হবে ১৮ জুন।

ক্রোয়েশিয়ার শেষ চারে ওঠার রাস্তার শুরুটা ছিল হোঁচট খেয়ে, অস্ট্রিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে। এরপর ফ্রান্সের সঙ্গে ড্র করে তারা পয়েন্ট পায় প্রথম। ঘুরে দাঁড়ানোর শুরুটা এরপরেই, টানা চার ম্যাচে ডেনমার্ককে দুইবার, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে জায়গা করে নেয় পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে।

ইতালির শুরুটা ছিল জার্মানির সাথে ড্র করে। এরপর হাঙ্গেরিকে হারানোর পর ইংল্যান্ডের সাথে আবার ড্র করে। শেষ চারের পথে এরপর বড় ধাক্কাটা খায় জার্মানির কাছে ৫-২ গোলে হেরে। কিন্তু এরপর ইংল্যান্ডকে ও গ্রুপ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে হাঙ্গেরিকে হারিয়ে জায়গা করে নেয় শেষ চারে।

নেদারল্যান্ডস এবারের একমাত্র দল, যারা কোনো ম্যাচ না হেরে জায়গা করে নিয়েছে শেষ চারে। লুই ফন গালের অধীনে দুর্দান্ত খেলতে থাকা দলটি শুরুটা করেছিল বেলজিয়ামকে হারিয়ে। এরপর ওয়েলসকে হারানোর পর পোল্যান্ডের সাথে ড্র করে পয়েন্ট হারায়। তবে খুব একটা সমস্যা হয়নি তাতে, পরের দুই ম্যাচে ওয়েলস ও পোল্যান্ডকে হারিয়ে আবার জয়ের ধারায় ফেরে। শেষ ম্যাচে বেলজিয়ামকে হারিয়ে নিশ্চিত করে কোনো ম্যাচ না হেরেই যাচ্ছে শেষ চারে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close