ক্রীড়া ডেস্ক

  ২৫ জানুয়ারি, ২০২২

বর্ষসেরা আফ্রিদি-ওডিআইতে বাবর-টেস্টে রুট

আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছেন পাকিস্তানের তারকা পেসার শাহিন আফ্রিদি। ওয়ানডে বর্ষসেরা এই পেসার নতুন বলে নিজের সুইংয়ে চমকে দিয়েছেন বছরজুড়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার দেওয়া ভীতি কাটাতে পারেনি ভারত। পরে তাদের প্রথমবারের মতো হারিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সাফল্যে বড় অবদান ছিল শাহিন আফ্রিদির। সব মিলিয়ে তার পুরস্কার পেলেন তিনি।

২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু আইসিসির পুরস্কারপ্রাপ্তির তালিকায় জয়জয়কার পাকিস্তানের। টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজম।

তবে আইসিসির মূল পুরস্কার তো বর্ষসেরার স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি। আর ২০২১ সালে আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটার পাকিস্তানের শাহিন আফ্রিদি। মেয়েদের বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছেন ভারতের স্মৃতি মান্দানা। ২০২১ সালে ২২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার রান ৮৫৫।

শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে আফ্রিদির বোলিংয়ের বিচার করা কঠিন। গতি, সুইং, সিম, বাউন্স আর ইয়র্কার- সব অস্ত্র নিয়ে গত বছর ব্যাটসম্যানদের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন শাহিন। নতুন বলে উইকেট নেওয়াটা অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছিলেন। আর সøগ ওভারে রান আটকে রাখাটা তো এখন তার জন্য সহজতম কাজের একটি। বছরের সেরা স্পেলে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে তাসের ঘর বানিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপে। ৩১ রানে ৩ উইকেট অবশ্য সে স্পেলের সঠিক বর্ণনা দেয় না।

বর্ণনা শুনতে হলে কোহলির শরণাপন্ন হওয়া দরকার, ‘ও আমাদের ব্যাটসম্যানদের নতুন বলে শুরুতেই চাপে ফেলে দিয়েছে। জায়গামতো নিয়মিত বল করছিল এবং যে তীব্রতা নিয়ে সেটা করছিল, একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে আপনাকে সতর্ক হতেই হবে। এমন স্পেল আমাদের শুরুতেই পেছনে ফেলে দিয়েছে।’

শাহিনও বছর শেষে সেই স্পেল নিয়ে গর্ব করলেন, ‘এ বছর বেশ কিছু ভালো পারফরম্যান্স ছিল, টেস্টে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়েছি। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে স্মরণীয় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ জয়। এটা ঐতিহাসিক এক ম্যাচ ছিল এবং এ ম্যাচে অনেক আগ্রহ থাকে মানুষের। ভারতের বিপক্ষে ভালো করাটা ২০২১ সালের সেরা মুহূর্ত আমার কাছে।’

পাকিস্তানি বাঁহাতি পেসারের বছরটা কেমন গেছে, সে সম্পর্কে ধারণা পরিসংখ্যানও দেয়। পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তোলা এই ফাস্ট বোলার ৬ ম্যাচে ৭ উইকেট পেয়েছেন। আর সব মিলিয়ে বছরে ২১ ম্যাচে ২৩ উইকেট পেয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখধাঁধানো। বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডে খুব বাজে পারফরম্যান্সের সুবাদে সমালোচনার শিকার হওয়া শাহিন বছর শেষ করেছেন ৪৭ উইকেট নিয়ে। ১৭.০৬-এর মতো ঈর্ষণীয় গড়ে নেওয়া ৪৭ উইকেট পেয়েছেন মাত্র ৯ ম্যাচ খেলেই। ২০২১ সালে ওয়ানডে নিয়ে ব্যস্ততা ছিল খুব কম দলের। শাহিন আফ্রিদি ৬ ম্যাচ খেলে পেয়েছিলেন ৮ উইকেট।

২১ বছর বয়সেই আইসিসির বর্ষসেরা। এত কম বয়সে এই অর্জন আর কারো নেই। সাফল্যের রহস্য? ‘পাকিস্তানের হয়ে ভালো করতে চেয়েছি। ২০২১ সালে আমাদের দল খুব ভালো করেছে। আমরা ভালো কিছু ম্যাচ খেলেছি। পাকিস্তানের হয়ে সব সময়ই ভালো করতে চেষ্টা করি এবং এ চেষ্টা চালিয়ে যাব’ আইসিসিকে বলেছেন আফ্রিদি।

বর্ষসেরা হয়ে তৃপ্ত আফ্রিদি, তবে এমন পারফরম্যান্স নিয়মিতই দেখাতে চান দীর্ঘদেহী এই পেসার, ‘দলে একে অপরকে সবাই সমর্থন দিই। আমরা খুব একতাবদ্ধ এবং সতীর্থদের ভালো করতে দেখলে খুব খুশি হই। আমার জন্য দারুণ এক বছর ছিল এবং আশা করি, ২০২২ সালেও এমন ভালো পারফরম্যান্স দেখবেন আপনারা।’

অন্যদিকে আইসিসির ওয়ানডে বর্ষসেরা হলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। গত বছর ওয়ানডেতে দারুণ পারফর্ম করার সুবাদে বনে গেছেন ২০২১ সালের সেরা ক্রিকেটার। অন্যদিকে টেস্টের বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট।

এর আগে টি-টোয়েন্টিতে বর্ষসেরা বনেছিলেন পাকিস্তান ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান। এবার তার ওপেনিং সঙ্গী জিতলেন ওয়ানডেতে আইসিসির বর্ষসেরার খেতাব।

গত বছর বাবর-সাকিব ছাড়াও দারুণ ধারাবাহিক ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা তরুণ ব্যাটার ইয়ানেমান মালান আর পল স্টার্লিং। বাবর তাদেরও হারিয়েছেন বর্ষসেরা হওয়ার পথে।

২০২১ সালে বাবর আজম ছয়টি ওয়ানডেতে খেলেছেন, করেছেন মোট ৪০৫ রান। আছে দুটি সেঞ্চুরিও। গত বছর তার ব্যাটিং গড় ছিল ৬৭.৫০। এমন পারফরম্যান্সের ফলেই তিনি এই খেতাব জিতলেন।

এই খেতাব জেতার পর বাবর আইসিসির ওয়েবসাইটে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন। ধন্যবাদ জানালেন ভক্ত-সমর্থক, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, আইসিসি ও পাকিস্তান দলকে।

বললেন, ‘প্রথমত আমি ভক্ত-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমাকে সমর্থন দিয়ে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। এরপর আইসিসিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, জানাতে চাই পিসিবিকেও।’

অন্যদিকে বছরজুড়ে রুটের ব্যাট যেভাবে রান দেখেছে, তাতে জো রুট ধারাবাহিকতার প্রতিশব্দই হয়ে গেছেন। একের পর এক শতক, দ্বিশতকেও তার রানের ক্ষুধা কমেনি। দেশে হোক বা বিদেশে- চোখধাঁধানো ইনিংস খেলেছেন সবখানেই। ২০২১ সালটা দল হিসেবে ইংল্যান্ডের যেমনই কাটুক, তার অধিনায়কত্ব নিয়ে যতই প্রশ্ন উঠুক, ব্যাটসম্যান জো রুটকে অবিস্মরণীয় ১২টি মাস দিয়ে গেছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close