ক্রীড়া প্রতিবেদক

  ০৯ ডিসেম্বর, ২০২১

ইনিংস ব্যবধানেই হারল বাংলাদেশ

পশ্চিম আকাশে দিনের সূর্যটা ডুবতে শুরু করেছে সেই সঙ্গে বাংলাদেশ দলের ম্যাচ বাঁচানোর আশাটাও ধীরে ধীরে শেষ হতে থাকে। ড্রয়ের স্বপ্ন দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত আর ড্র করা হলো না বাংলাদেশের। হাত থেকে ফসকে যাওয়া ম্যাচে প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল সাকিব-মুশফিক-লিটন-মিরাজের কল্যাণে। তবে শেষ বিকালে আক্ষেপই সঙ্গী হলো বাংলাদেশ দলের। শঙ্কা কাটিয়ে যখনই মনে হলো ইনিংস হার এড়ানোর সঙ্গে ম্যাচ ড্র করে মাঠ ছাড়বে স্বাগতিকরা, তখনই এলোমেলো সব। ইনিংস হারের খুব কাছে গিয়ে এড়ানো গেল না হার। নামের পাশে যোগ হলো আরো একটি পরাজয়। ঢাকা টেস্টে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের পরাজয় ইনিংস ও ৮ রানের।

চতুর্থ দিন শেষেই ফলোঅনের শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ। গতকাল প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৭৬ রান নিয়ে পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে তাইজুল ইসলামকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে আউট করেন সাজিদ খান। খালেদ আহমেদকে শাহীন আফ্রিদি বোল্ড করলে ৭৭ রানে ৯ উইকেটে হারিয়ে ফলোঅনের শঙ্কাটা আরো বেড়ে যায়। ফলোঅন এড়ানোর সব দায়িত্ব পড়ে আগের দিন ২৩ রানে অপরাজিত থাকা সাকিব আল হাসানের ওপর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাকিব ৩৩ রান করে সাজিদের বলে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হলে প্রথম ইনিংসে ৮৭ রানে অল আউট হয়ে ফলোঅনে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে ২১৩ রানে পিছিয়ে থাকায় ফলোঅনে পড়ে বাংলাদেশকে আবার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে পাঠায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও বাংলাদেশের মোটেও ভালো হয়নি। ব্যর্থতাকে নিয়মে পরিণত করে আগের ইনিংসর মতোই যেন অনুসরণ করলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। দলীয় ১২ রানে সাজিদের বলে বাবরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৬ রান করে আউট হন অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা মাহমুদুল হাসান জয়। পরের ওভার প্রথম বলেই ২ রান করা সাদমান ইসলাম এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন শাহীন আফ্রিদির বলে। নাজমুল হোসেন শান্তও ৬ রান করে আফ্রিদির বলে আউট হন। পুরো সিরিজে ব্যর্থ হওয়ার অধিনায়ক মুমিনুল হক ব্যর্থতার বৃত্ত হতে বের হতে পারেননি। ৭ রান করে হাসান আলীর বলে এলবিডব্লিউ হন। রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি মুমিনুল। ২৫ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই অল আউট হয়ে যাবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠে যায়।

তবে বাংলাদেশকে আবারও কক্ষপথে ফেরানোর চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। পাকিস্তানের বোলারদের বেশ ভালোভাবেই খেলতে থাকেন তারা। কোনো রকম সুযোগই দিচ্ছিলেন না। এই দুজনের ব্যাটে বাংলাদেশ ম্যাচটা ড্র করার স্বপ্ন দেখতে থাকে। ৪ উইকেটে ৭২ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় সেশনের শুরুটাও বেশ ভালোভাবেই হয় বাংলাদেশের। তবে হঠাৎই দারুণ খেলতে থাকা লিটন আউট হন দুর্ভাগ্যজনকভাবে। ৮১ বলে ৪৫ রান করা লিটন সাজিদের বলে লেগ সাইডে জোরে মারেন। তবে সেই বল শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডারের গায়ে লেগে স্কয়ার লেগে ফাওয়াদ আলমের হাতে চলে যায়। ১৫০ বলে ৭৩ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি ভাঙে।

সাকিব আল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতেও শক্ত প্রতিরোধ গড়েন। তাদের ব্যাটে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ ড্রয়ের দিকে এগোতে থাকে। তবে চা বিরতির আগে আবারও বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। নোমানের বলে মিড উইকেটে ঠেলে দিয়ে সাকিব রানের জন্য দৌড় দেন। আর তাতে সাড়া দিয়ে অযথা রান নিতে গিয়ে রান আউটের শিকার হন ১৩৬ বলে ৪৮ রান করা মুশফিক। ভাঙে ৪৯ রানে ষষ্ঠ উইকেট জুটি।

চা বিরতির পর তৃতীয় সেশনে টাইগারদের ম্যাচ বাঁচাতে খেলতে হতো ৩৮ ওভার। মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিল। টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটি তুলে নেন সাকিব। সাকিবকে বেশ যোগ্য সঙ্গই দেন মিরাজ। উইকেট কামড়ে পড়ে থাকেন দুজনই। তবে সেই আশায় ছন্দপতন ঘটে। বাবর আজমের সহজ বল সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ৭০ বলে ১৪ রান করা মিরাজ। আম্পায়ার প্রথমে সাড়া না দিলেও পাকিস্তানের নেওয়া রিভিউতে রক্ষা হয়নি তার। ভাঙে ৫১ রানের সপ্তম উইকেট জুটি।

ম্যাচ বাঁচানোর দায়িত্বটা গিয়ে পড়ে সেই সাকিবের কাঁধেই। তবে মিরাজের বিদায়ের পরের ওভারে সাজিদের বলে বোল্ড হন ৬৩ রান করা সাকিব। বাংলাদেশের পরাজয়ের শঙ্কাটাও বেড়ে যায়। সাকিবের আউটের পর সাজিদ খানের অফ স্টাম্প ঘেঁষা ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে ব্যাট পেতে দিলেন তিনি, ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল গেল কিপারের গ্লাভসে। শূন্য রানে আউট হন খালেদ আহমেদ। শেষদিকে এবাদত হোসেনকে নিয়ে ম্যাচ বাঁচানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে শেষ বিকালে হতাশা সঙ্গী হলো স্বাগতিকদের ম্যাচের যখন ২৪ মিনিট আর ৫ ওভার বাকি, তখন তাইজুল ইসলামকে এলবিডব্লিউ করে পাকিস্তানকে জয়ের আনন্দে ভাসান সাজিদ খান। ২০৫ রানে অল আউট হয় বাংলাদেশ।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close