ক্রীড়া প্রতিবেদক

  ২৬ নভেম্বর, ২০২০

ভুল প্রমাণ করতে নামছে চট্টগ্রাম

কাগজে-কলমে বেক্সিমকো ঢাকার চেয়ে পিছিয়ে রাখা হয়েছিল মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীকে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপের প্রথম ম্যাচে বাজিমাত করেছে রাজশাহীই। সবচেয়ে শক্তিশালী যাদের মনে করা হয়েছিল, সেই জেমকন খুলনা কাগজে-কলমে সবচেয়ে দুর্বল ফরচুন বরিশালের কাছে প্রায় হেরেই বসেছিল। শেষ ওভারে আরিফুলের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ জেতে তারা। আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগে তাই গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের অধিনায়ক মিঠুন আলী জানালেন, কাগজে-কলমের সঙ্গে বাস্তবের ফারাক অনেকটাই।

পাঁচ দলের বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপে প্রথম দিনেই ম্যাচ খেলে ফেলেছে চার দল। বাকি দল চট্টগ্রাম আজ সন্ধ্যায় খেলবে বেক্সিমকো ঢাকার বিপক্ষে। নিজেরা মাঠে নামার আগে বাকিদের খেলা দেখা হয়ে গেছে। বোঝা গেছে উইকেটের ধরন। এদিক থেকে কিছুটা সুবিধায় চট্টগ্রাম। গতকাল মিরপুরের বিসিবি অ্যাকাডেমি মাঠে অনুশীলন সেরে অধিনায়ক মিঠুন জানালেন টুর্নামেন্টের আগে করা বিশ্লেষণ ভুল প্রমাণ হচ্ছে মাঠে, ‘কালকে (পরশু) খেলার আগে অনেকেই চিন্তা করেছে খাতা-কলমে কারা কতটা শক্তিশালী। কিন্তু খেলা দেখে একটা পরিষ্কার ধারণা এসেছে যে, মাঠের খেলাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ; খাতা-কলমের না।’

------
প্রথম দিনে উইকেট দেখা গেছে বেশ ভালো। ব্যাটসম্যানরা উইকেটের সুবিধা পুরোটা কাজে লাগাতে পারলে বিশাল সংগ্রহ দেখাও অবাস্তব ছিল না। মিঠুনের মতে, উইকেট এ রকমটা থাকলে টুর্নামেন্ট যত এগোবে, তত দেখা যাবে বিস্ফোরক সব ব্যাটিং, ‘উইকেট মনে হয়েছে খুব ভালো। হাই স্কোরিং ম্যাচ হবে। যদি এ রকম উইকেট থাকে, তাহলে যত দিন যাবে আরো ভালো ক্রিকেট সবাই দেখবে আশা করি।’

দল হিসেবে বেশ দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। ব্যাটিংয়ে যেমন অতল গভীরতা, তেমনি বোলিংয়েও। সৌম্য সরকার, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, শামসুর রহমান, জিয়াউর রহমানরা প্রতিপক্ষের বোলিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, মেহেদি রানা, তাইজুল ইসলাম, রাকিবুল হাসানদেরও প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ তছনছ করে দিতে জুড়ি নেই। এখানেই শেষ নয়, দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ে হাল ধরতে আছেন হিমশীতল মস্তিষ্কের মিঠুন। আছেন মুমিনুল হকের মতো ব্যাটিংস্তম্ভ। ঠিক এমনই তুখোড় এক দল নিয়ে ঢাকা-বধের মিশনে নামছে কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের শিষ্যরা।

এমন একটি দল পেয়ে অধিনায়ক মিঠুনের তুষ্টির শেষ নেই। কেননা, জাতীয় দলে যারা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টখ্যাত, তাদেরই সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন। যাদের কাঁধে ভর করে যেকোনো দলের বিপক্ষে জয়ের বাজি ধরাই যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো চট্টগ্রাম দলনেতা মিঠুন ঠিক সে পথে হাঁটছেন না। তার কাছে নামের চেয়ে মাঠের খেলাই বড় হয়ে উঠেছে। তার মতে, মাঠের লড়াইটা যদি ছক কষে করা যায়, তাহলে শুরুটা রাঙাতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না, ‘আমি দল নিয়ে অনেক খুশি। আমরা একটা ব্যালান্সড সাইড। এখন মাঠে প্রমাণ করতে হবে যে আমরা দল হিসেবে কতটা ভালো। আমি মনে করি, আমরা যদি স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে ইতিবাচক ফল আসবেই।’

যেহেতু প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট, সেহেতু দলনেতা হিসেবে টুর্নামেন্টের শুরুটা উদ্ভাসিত জয়ে করার প্রত্যাশা মোটেও দোষের নয়। এজন্য মিঠুনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোও সমীচীন হবে না। কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচে বেক্সিমকো ঢাকা যে দুর্বার ক্রিকেট খেলেছে, তাতে নির্ভার থাকার সুযোগ মিঠুনের একেবারেই নেই। বরং ঢাকা-বধের নীলনকশা তাকে আরো দক্ষ হাতে আঁকতে হবে।

পরশু তীরে এসে তরী ডুবেছে বেক্সিমকো ঢাকার। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্যে নেমেও জয়ের একেবারে নিঃশ্বাস দূরত্বে পৌঁছে গিয়েছিল বেক্সিমকো ঢাকা। কিন্তু ছুঁয়ে দেখা হয়নি। ৫ উইকেটে ১৬৭ রানেই থামতে হয়েছে। রোমাঞ্চকর উদ্বোধনী ম্যাচটা রাজশাহীর কাছে হেরে গেছে মাত্র ২ রানে। কাজেই ভারসাম্যপূর্ণ দল পেলেও নির্ভার থাকার সুযোগ মিঠুনের একেবারেই নেই।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়