দাপুটে জয়ে চ্যাম্পিয়ন মাহমুদউল্লাহর দল

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঘুরে ফিরে সেই একই দৃশ্য। আগে ব্যাট করা দলের ব্যাটিং বিপর্যয় আর ২০০-এর নিচে গুটিয়ে যাওয়া। এমন মামুলি লক্ষ্য সহজেই তাড়া করার কথা। কিন্তু বিসিবি প্রেসিডেন্ট’স কাপে ব্যাটসম্যানদের যে দশা, তাতে ওই রান নিয়েই নাজমুল একাদশ লড়াই করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। সেটা হলো না লিটন দাসের কারণে। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে মলিন লিটন জ্বলে উঠলেন ফাইনালের বড় মঞ্চে। নান্দনিক ব্যাটিংয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন, দলকে নিয়ে গেলেন জয়ের দ্বারপ্রান্তে। ইমরুল কায়েসও তাল মিলিয়ে ছুটলেন একই পথে। চ্যাম্পিয়ন হলো তাদের দল মাহমুদউল্লাহ একাদশ।

গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ২০ ওভার বাকি থাকতেই নাজমুল একাদশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দিল মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। এই জয়ে করোনাকালে দেশের মাটিতে আয়োজিত প্রথম স্বীকৃত ক্রিকেট আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো তারা।

দলকে জেতাতে ৬৯ বলে ৬৮ রান করেন লিটন। ৫৫ বলে ৬ ছক্কায় ৫৩ করেন ইমরুল কায়েস। ১৭৪ রান তাড়ায় লিটনের সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছিলেন মুমিনুল হক। টেস্ট অধিনায়ক ওয়ানডেতে ছিলেন নিষ্প্রভই। মাত্র ৪ রান করেই আল-আমিন হোসেনের বলে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি।

দ্বিতীয় উইকেটে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী মাহমুদুল হাসান জয়কে নিয়ে জুটি পেয়ে যান লিটন। মেলে ধরেন তার ট্রেডমার্ক স্ট্রোক। ব্যাকফুট পাঞ্চে নিখুঁত গ্যাপ বের করা শট, দৃষ্টিনন্দন কাভার ড্রাইভ, এগিয়ে এসে জায়গা বের করে তুলে দেওয়া শট, দারুণ টাইমিংয়ে পুল আর স্কয়ার কাট। লিটন দাস জ্বলে উঠলে যা হয় আর কী! বাহারি সব শটের পসরা। এই জুটিতে আসে ৪৮ রান। যার সিংহভাগই লিটনের। নাসুম আহমেদের বলে ১৮ রান করা জয়ের আউটে ভাঙে এই জুটি।

টুর্নামেন্টে বড় ইনিংসের দেখা না পেলেও ছন্দে ছিলেন ইমরুল কায়েস। এর আগে দুই ম্যাচে বেশ সাবলীল দেখা গেছে তাকে। চারে নেমে গত রাতেও ইমরুল দেখালেন দাপট। শুরুতে চারের চেয়ে ছক্কা মারার দিকেই বেশি আগ্রহী দেখা গেল তাকে। তৃতীয় উইকেটে তাই দ্রুতই আসে ৬৩ রান। মনে হচ্ছিল এই জুটি ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়বে। ৬৯ বলে ১০ চারে ৬৮ করা লিটন কাটা পড়লে তা আর হয়নি। নাসুমের বাঁহাতি স্পিনে কাট করতে গিয়ে লিটন ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে।

এরপরেও ইমরুল পরে চালিয়ে গেলেন তার ঝড়ো ব্যাটিং। এক বাউন্ডারির সঙ্গে মেরেছেন হাফ ডজন ছক্কা। খেলাও শেষ হয় তার ছক্কাতেই।

লিটন আউটের পর মাহমুদউল্লাহ নেমেও মারতে শুরু করেন। তড়িঘড়ি খেলা শেষ করার একটা তাগিদ দেখা যায় তার ব্যাটেও। মাত্র ১১ বলেই ২৩ রান করেন অধিনায়ক। পুরো টুর্নামেন্টে এই প্রথম ব্যাটসম্যানদের দেখা গেল এতটা দাপুটে। তাই খেলাও শেষ হলো অনেক আগেভাগে।

দুই দিনের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের পর ৫০ ওভারের প্রেসিডেন্ট’স কাপও সফলভাবে শেষ করল বিসিবি। এবার পালা ধুমধারাক্কা ক্রিকেটের। সব ঠিক থাকলে আগামী মাসে বসতে চলেছে করপোরেট টি-টোয়েন্টি আসর। আশার খবর, এই টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষক কোম্পানিগুলোর থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ ঢুকবে বোর্ডের ব্যাংক ব্যালেন্সে। তাতে করে করোনায় সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি অনেকটা কাটিয়ে উঠবে বিসিবি। তার চেয়েও খুশির খবর, আসন্ন করপোরেট টি-টোয়েন্টি দিয়ে প্রত্যাবর্তন ঘটছে সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও দেশসেরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নাজমুল একাদশ

১৭৩/১০, ৪৭ ওভার

ইরফান ৭৫, নাজমুল ৩২

সুমন ৩৮/৫, রুবেল ২৭/২

 

মাহমুদউল্লাহ একাদশ

১৭৭/৩, ২৯.৪ ওভার

লিটন ৬৮, ইমরুল ৫৩*

নাসুম ৪৮/২, আল-আমিন ৩১/১

 

ফল : মাহমুদউল্লাহ একাদশ ৭ উইকেটে জয়ী

সেরা ব্যাটসম্যান : ইরফান শুক্কুর

সেরা বোলার : সুমন খান

সেরা ফিল্ডার : নুরুল হাসান সোহান

ফাইনালের সেরা : সুমন খান

টুর্নামেন্ট সেরা : মুশফিকুর রহিম

 

"