অপ্রতিরোধ্য লিভারপুলের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ল আর্সেনাল

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

অ্যানফিল্ড দুর্গে লিভারপুলের সামনে মুখ থুবড়ে পড়েছে মিকেল আর্তেতার দল। মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচ টানা জয়ের আশা পূরণ হলো না আর্সেনালের। ম্যাচজুড়ে লিভারপুলের চেয়ে সবদিক দিয়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকা আর্সেনাল হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। খেলার ধারার বিপরীতে এগিয়ে গিয়েও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বুঝে নিতে পারেনি তারা। আক্রমণভাগে দুই দলের বিস্তর ফারাকই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। লিভারপুলের ২১টি শটের বিপরীতে পুরো ম্যাচে মাত্র চারটি শট নিতে পেরেছে আর্সেনাল। সাদিও মানে, অ্যান্ড্রু রবার্টসন এবং ডিয়েগো জতার শেষ মুহূর্তের গোলে জয় পেয়েছে লিভারপুল। লাকাজেতের মাধ্যমে ম্যাচে শুরুতে এগিয়ে গেলেও সেই লিড কাজে লাগাতে পারেনি মিকেল আরতেতার দল।

অ্যানফিল্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই দেখেশুনে খেলতে থাকে লিভারপুল এবং আর্সেনাল। তাই প্রথম ১৫ মিনিটে দুই দলের কেউই বলার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি স্বাগতিকদের হাতে। প্রথমার্ধের প্রায় পুরোটা সময় ৭০ ভাগ বা তার বেশি বল দখলে রেখেছে তারা। ম্যাচের ১৫ মিনিটে প্রথম আর্সেনাল গোলের একেবারে কাছে চলে আসে লিভারপুল। অ্যালেক্সান্ডার-আর্নল্ডের নিচু ক্রস থেকে মানের শট দারুণ প্রতিক্রিয়ায় ঠেকিয়ে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক বার্নন্ড লেনো। ২১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে অ্যালেক্সান্ডার-আর্নল্ডের শট বক্সে থাকা বেয়ারিনের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন হয়ে লাগে ক্রসবারে।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যখন সম্পূর্ণরূপে স্বাগতিকদের দখলে, তখনই রবার্টসনের ভুলে খেলার ধারার বিপরীতে ম্যাচে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। ২৫ মিনিটে ম্যাচে প্রথম আক্রমণ থেকেই গোল পেয়ে যায় গানাররা। বাম প্রান্ত দিয়ে আইন্সলে মাইটল্যান্ড-নাইলস অনেকটা জায়গা বাধাহীনভাবে দৌড়ে এসে বক্সের বাম দিক থেকে ক্রস করেন। তার ক্রস রুখে দিলেও বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে সেটা গোলের একেবারে সামনে থাকা লাকাজেতের পায়ে তুলে দেন রবার্টসন। বুদ্ধিদীপ্ত ফিনিশে দলকে এগিয়ে দিতে কোনো ভুল করেননি ফ্রেঞ্চ ফরওয়ার্ড লাকাজেত। প্রথমার্ধে আর্সেনালের দৌড় সেখানেই শেষ হয়েছে, লিভারপুলের গোলে আর কোনো শটই নিতে পারেনি তারা।

তবে ধারার বিপরীতে গোল হজম করেই নড়েচড়ে বসে লিভারপুল। আর্সেনালের লিড টিকেছে মোটে আড়াই মিনিট। ২৮ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে সালাহ দারুণ দক্ষতায় আর্সেনাল ডিফেন্ডার টিয়েরনিকে পাশ কাটিয়ে গোল বরাবর শট নেন, লেনো সেটা ঠিকভাবে ঠেকাতে পারেননি, তার হাত ফসকে গোলমুখে দাড়িয়ে থাকা মানের পায়ে গিয়ে পড়ে বল। সেখান থেকে ট্যাপ-ইন ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে দলকে সমতায় আনেন মানে। লিভারপুলের তিন বিস্ফোরক ফরওয়ার্ডকে ঠেকাতে থ্রি ম্যান ব্যাকলাইন খেলিয়েছিলেন আর্সেনাল কোচ । কিন্তু এরপরও এক মুহূর্তের জন্য লিভারপুলের আক্রমণভাগের ত্রয়ীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি তারা। আর্সেনাল বক্সের সামনে লিভারপুলের ছয় থেকে সাতজন মিলে হাই প্রেস করে গানারদের নাস্তানাবুদ করে দেয় লিভারপুল।

আর্সেনালকে চাপে রাখার ফল পেতে লিভারপুলের খুব বেশি সময় লাগেনি। ৩৪ মিনিটে দুই ফুলব্যাকের দারুণ সমন্বয়ে ম্যাচে এগিয়ে যায় লিভারপুল। ডান প্রান্ত থেকে অ্যালেক্সান্ডার-আর্নল্ডের ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সিক্স ইয়ার্ড বক্সের মধ্য থেকে লেনোকে পরাস্ত করে আর্সেনালের প্রথম গোলে নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন রবার্টসন। আর এই গোলের সুবাদে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় লিভারপুল।

প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও হয় ম্যাড়ম্যাড়ে। প্রথম ১৫ মিনিটে সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কেউই। তবে ৬০ মিনিটের পরই একে একে সুযোগ তৈরি হতে থাকে। ৬২ মিনিটে ২৫ মিটার দূর থেকে ভ্যান ডাইকের শট ঠেকিয়ে দেন লেনো। এরপরের মিনিটেই আর্সেনালকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনার সেরা সুযোগটি হেলায় নষ্ট করেন প্রথম গোলের নায়ক লাকাজেত। ওয়ান-অন-ওয়ান অবস্থা থেকে লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসনকে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি। অ্যালিসনের সুদৃঢ় সেভে হতাশ হতে হয় আর্সেনালকে। তার ওই মিসেই আর্সেনালের ম্যাচে ফেরার ক্ষীণ সম্ভাবনাটাও শেষ হয়ে গেছে।

থিয়াগোকে এই ম্যাচে না পেলেও উলভস থেকে আনা পর্তুগিজ ফরওয়ার্ড ডিয়েগো জতাকে এই ম্যাচে খেলিয়েছেন ক্লপ। আর অলরেডদের হয়ে নিজের অভিষেকেই গোল পেয়েছেন জতা। ৮০ মিনিটে মানের বদলি হিসেবে নামেন তিনি। ম্যাচে তখন ২-১ গোলে এগিয়ে লিভারপুল, এগিয়ে থাকলেও জয় তখনো নিশ্চিত হয়নি তাদের। আর এমন সময়ে ক্লপ মানেকে উঠিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কোচের সিদ্ধান্তে মোটেই খুশি ছিলেন না মানে, তাই ডাগআউটে কিছুক্ষণ মানেকে সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতাও বুঝাতে হয়েছে ক্লপকে। তবে বদলিটি শেষ পর্যন্ত কাজে দিয়েছে স্বাগতিকদের। ৮৮ মিনিটে জতার গোলেই যে নিশ্চিত হয়েছে কাক্সিক্ষত জয়।

লিভারপুল ৩

আর্সেনাল ১

 

 

"