দেশের ফুটবল এখন আইসিইউতে রয়েছে

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

দেশের ফুটবলের রক্ষণদুর্গের সেনাদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে যার নাম সবার ওপরে থাকবে, তিনি কায়সার হামিদ। মাঠে গিয়ে যারা তার খেলা দেখেছেন, তাদের কাছে এখনো কায়সার হয়ে আছেন

সেন্ট্রাল ডিফেন্সের মাপকাঠি। ঝাঁকড়া চুলের এই খেলোয়াড়ের ফুটবলশৈলীতে মুগ্ধ হননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়! ফুটবল অনুরাগীরা তো কায়সারকে আদর করে ডাকতেন ‘বাংলার বেকেনবাওয়ার’।

দেশের ফুটবলে তার প্রতিপত্তি ছিল অমিত। দীর্ঘদিন ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক ছিলেন। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দলকে নেতৃত্ব দিতে ভীষণ রকম পটু ছিলেন। জাতীয় দলেও দাপটের সঙ্গে

খেলেছেন প্রায় সাত বছর। অথচ খেলোয়াড়ি জীবন থেকে অবসরের পর খেলাটার উন্নয়নে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে নিজেকে জড়াননি। এদিকে, আগামী ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাফুফে নির্বাচন। ক্রীড়াঙ্গনের ‘হট টপিক’ এখন এটিই। এই নির্বাচন ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা, মাতামাতিতে মুখর দেশ। বিতর্কিত সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন কি ফের ফুটবলের মসনদে বসছেন নাকি নতুন মুখ আসছে?

এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার যেন শেষ নেই। সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বাফুফে নির্বাচন নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছেন। তার কথা শুনেছেন

অতিথি লেখক মনিরুল ইসলাম। সাক্ষাৎকারটি পাঠের উপযোগী করে উপস্থাপন করেছেন ক্রীড়া প্রতিবেদক সাহিদ রহমান অরিন।

প্রতিদিনের সংবাদ : বহুল আলোচিত বাফুফে নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। এই নির্বাচন নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত মত কী?

কায়সার হামিদ : বাফুফে নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমে আমি অনেক কথা বলেছি। এটি হতে যাচ্ছে পাতানো প্রহসনের নির্বাচন। যে ১৩৯ জন কাউন্সিলর আছে, তাদের সিংহভাগই বর্তমান কমিটির হাতে গড়া। তাদের যেভাবে হোক তারা ম্যানেজ করেছে। সেটা প্রশাসন কিংবা টাকা দিয়ে হতে পারে। যার ফলে একই কমিটি ঘুরেফিরে বারবার আসছে। নতুনদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সত্যি কথা হলো, তারা প্রায় এক যুগ গদিতে থেকেও ফুটবলের আহামরি উন্নয়ন করতে পারেননি। যদি ফিফা র?্যাংকিংয়ে একটু চোখ বুলানো হয়, তাহলে বুঝতে কারো অসুবিধা হবে না আমাদের ফুটবলের অবস্থান কোথায়, কতটা তলানিতে ডুবে আছে দেশের ফুটবল। আমি বরাবরই চাই দেশের ফুটবল উন্নয়নের শিখরে উঠুক। সফলতায় উদ্ভাসিত হোক। সালাউদ্দিন ভাই বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন। তারপরও কেন ভোটে দাঁড়াচ্ছেন, সেটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

প্রতিদিনের সংবাদ : তাহলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী?

কায়সার হামিদ : আমি মনে করি, তাকে (সালাউদ্দিকে) সরিয়ে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে ফুটবলকে নতুন রূপে ঢেলে সাজানো যায়। কারণ, দেশের ফুটবল এখন ধ্বংসের মুখোমুখি, একদম আইসিইউতে রয়েছে। কাজেই নতুনভাবে পরিকল্পনা করে অগ্রসর হতে হবে। না হলে কখনো ফুটবলের উন্নতি করা সম্ভব হবে না।

প্রতিদিনের সংবাদ : ব্যর্থতার জন্য কি সালাউদ্দিন একাই দায়ী নাকি পুরো কমিটি?

কায়সার হামিদ : যেহেতু তিনি ফুটবলের প্রধান, তাই সব ব্যর্থতার দায় তাকেই বহন করতে হবে। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গতবারের বেশ কিছু অঙ্গীকার পূরণ করতে পারেননি, ব্যর্থ হয়েছেন। এবারো বিশাল ইশতেহারে তারা নানা রকমের অঙ্গীকার করেছেন। সেগুলোও রাখতে পারবেন বলে আমার মনে হয় না। তবে ফুটবলের এ ব্যর্থতার বোঝা সালাউদ্দিন ভাই এবং আবদদুস সালাম মুর্শেদীসহ তার পুরো প্যানেলের কাঁধে নিতে হবে। অন্তত দেশের ফুটবলের করুণ দশার কথা চিন্তা করে হলেও তাদের সরে যাওয়া উচিত।

প্রতিদিনের সংবাদ : আসন্ন নির্বাচনের ইশতেহারে ৩৬টি প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে সালাউদ্দিন প্যানেল। সেগুলো কি আরেকবার বিজয়ী হলে বাস্তবায়ন করা সম্ভব?

কায়সার হামিদ : আমার তো মনে হচ্ছে না। ওই যে কথায় আছে না যার হয় না নয়ে, তার হবে না নব্বইতে। যেখানে তিনি আগের প্রতিশ্রুতিই পূরণ করতে পারেননি, সেখানে এত বড় ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ৩৬টি কেন ১০০টি প্রতিশ্রুতি দিলেও পূরণ হওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা দেখছি না। যাই হোক, তারা কী নীতিতে চলবে সেটা তাদের ব্যাপার। (নির্বাচনে) বিজয়ী তো হবেই। কারণ, ভোটার তো ইতোমধ্যেই ম্যানেজ করা হয়ে গেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তেমন নেই। যারা এসেছিল, যেমন- বাদল দা (বাদল রায়), তরফদার রুহুল আমিনসহ সবাইকে বসিয়ে দিয়েছে। আমি সেদিকে যেতে চাচ্ছি না। সালাউদ্দিন ভাই যখন প্রথমবার সভাপতি হয়েছেন, তখন আমরাই সমর্থন দিয়েছি। প্রথম চার বছর শেষে তিনি বলেছেন, তার জন্য খুব কম সময় হয়ে যায়। আরেকটা টার্ম দরকার। তো আবার সেকেন্ড টার্মে আসলেন। কিন্তু দেশের ফুটবলের উন্নয়নে আশানুরূপ কিছু করতে পারেননি। তখন তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দিস ইজ মাই লাস্ট টার্ম। আমাকে আবার সুযোগ দেওয়া হোক। আমার বাংলাদেশকে ২০২২ বিশ্বকাপে নেওয়ার একটা মহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।’ এসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো বাফুফের চেয়ারে বসেছেন।

প্রতিদিনের সংবাদ : আপনি কি কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা দেখেন?

কায়সার হামিদ : ছিটেফোঁটা সম্ভাবনাও দেখি না। এখন আমাদের ফিফা র‌্যাংকিং ২০০-এর আশপাশে ঘোরাফেরা করে। বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, আমরা সাফেও তো শীর্ষে থাকতে পারি না। ভুটানের মতো দলের বিপক্ষে ভরাডুবি হচ্ছে। যেটা কখনো কল্পনাও করিনি। আগে আমাদের সাফে, তারপর এশিয়ান ফুটবলে একটা দৃঢ় অবস্থান তৈরি করা প্রয়োজন। এরপর না বিশ্বকাপ নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি। একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। কিন্তু তারা (সালাউদ্দিন প্যানেল) আবার গদিতে বসলে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। কখনো বাস্তবায়িত হবে না।

 

 

"