লম্বা ইনিংসের প্রত্যয় শান্তর

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় দলে নিজের স্থান পাকা করতে ইনিংস দীর্ঘ করতে চান প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়ার ধারাবাহিকতার অভাবে জাতীয় দলে স্থায়ী হতে সমস্যা হচ্ছে শান্তর। এই তিন বছরে তিনি মাত্র চারটি টেস্ট, পাঁচটি ওয়ানডে ও দুটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তিনি একবারের জন্যও জাতীয় দলে স্থায়ী আসন গড়তে পারেননি। সেখানে তার বড় কোন সংগ্রহও নেই যেটিকে তিনি ভিত্তি করতে পারবেন।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে নিজের অভিষেক ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে শান্তর ব্যাট থেমেছিল মাত্র ১৮ রানে। দেড় বছরের বেশি সময়ের বিরতিতে ২০১৮ সালের নভেম্বরে ঘরের মাঠ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে নামের পাশে যোগ করেছিলেন মাত্র ৫ রান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান সফরে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। রাওয়ালপিন্ডিতে শাহীন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাস, নাসিম শাহদের অমন বোলিংয়ের মুখেও ৪৪ রান সংগ্রহে সমর্থ হয়েছিলেন। ওই মাসেই সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরে তার ব্যাট স্মিত হাস্যে হেসেছিল, এসেছিল ৭১ রান। তার আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও দারুণভাবে হেসেছে শান্তর ব্যাট। তিনি প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি পূরণের পাশাপাশি বিভিন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্টেও বড় রান সংগ্রহ করেছেন। এর মাধ্যমে বড় সংগ্রহে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে রেখেছেন শান্ত। কিন্তু তাতে যেন কিছুতেই তুষ্ট হতে পারছেন না ২২ বছর বয়সি এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। ব্যাট হাতে ক্রমান্বয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চাইছেন।

গতকাল তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিগত দুই তিনটি ইনিংসে আমার মনে হয় ভালো ব্যাট করেছি। সবখানেই আমি দীর্ঘ ইনিংস খেলেছি এবং সেটি ছিল ধারাবাহিক। আমি বুঝতে পারছি আমার জন্য বড় ইনিংস গুরুত্বপুর্ণ। সেট পিচে আমাকে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে হবে। ইনিংস দীর্ঘায়িত করার জন্য মানসিক দৃঢ়তা গুরুত্বপূর্ণ। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে লকডাউনে থাকতে বাধ্য হওয়া শান্ত মনে করেন ওই সময়টিতে তার মানসিক ও শারীরিক দিক নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘লাকডাউন পালন করাটা কঠিন ছিল, কারণ ক্রিকেট খেলা যখন থেকে শুরু করেছি তার পর এত দীর্ঘ বিরতি আমি কখনো পাইনি। ক্রিকেট ছাড়া এত দীর্ঘ সময় ঘরে বন্দি থাকাটা ছিল বেশ কঠিন। তবে এর ইতিবাচক দিক হচ্ছে ওই সময় অতীতের ভুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনার সুযোগ হয়েছে। একই সঙ্গে ভালো ইনিংসগুলোও আমি পরখ করতে পেরেছি। আমি আমার ভুলগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলো সুধরে নিতে পেরেছি। লকডাউনের সময় আমি নিজের খেলাগুলো। বিশ্লেষণ করে দেখতে পেরেছি। এটি আমার জন্য খুবই উপকারী ছিল এবং আমার মনে হয় ভবিষ্যতেও এমন সুযোগ পাওয়াটা খারাপ হবে না।’

লকডাউন কাটানোর পর অনুশীলনের সুযোগ ব্যাটিং ছন্দে ফেরার জন্য দারুণ কার্যকরী বলে মনে করেন শান্ত। একই সঙ্গে ছন্দ ফিরে পাবার পর ইতিবাচক খেলার প্রতি জোর দেওয়ারও পক্ষে তিনি। শান্ত বলেন, ‘আমার মতে বাইরে থাকার পর এটি সব ক্রিকেটার জন্যই কঠিন। এখন আমরা মাঠে নেটে ব্যাটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমার মতে আমরা যদি ইতিবাচক থাকি তাহলে সবকিছুই ভালোভাবে সম্পন্ন করা যাবে। তবে হ্যা, বেশ কঠিন হবে। সুতরাং অনুশীলনের সুযোগ পেলে প্রথম কাজ হবে পূর্বের ছন্দ ফিরে পাওয়া।’

 

 

"