অনেক চ্যালেঞ্জের সিরিজ আজ শুরু

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

বদলে যাওয়া পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিয়েছিল খেলাটির জনক ইংল্যান্ড। গত ৮ জুলাই সাউদাম্পটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ দিয়ে ফের শুরু হয়েছিল ব্যাট-বলের লড়াই। ঠিক ওই সময়েই ইংল্যান্ডে পা রেখেছিল আজহার আলির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ড স্টেডিয়াম সংলগ্ন হোটেলে থাকতে হয়েছিল ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে। কোয়ারেন্টাইন পর্ব শেষে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান দল। এ সময়ে নিজেদের মধ্যে একাধিক প্রস্তুতি ম্যাচও খেলে ফেলেছে তারা। এদিকে, ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিল ইংলিশরা। পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় তারা। সেই সুখস্মৃতি নিয়ে এবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন জো রুট-বেন স্টোকসরা।

আজ থেকে শুরু হচ্ছে দুদলের প্রথম টেস্ট। ওল্ড ট্রাফোর্ডে খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি সিক্স। করোনা মহামারিকালীন বিশ্বে এটি হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ।

নিজ আঙিনায় খেলা। জৈব সুরক্ষিত পরিবেশের সঙ্গে নতুন করে খাপ খাওয়ানোর কিছু নেই। তার ওপর উইন্ডিজের বিরুদ্ধে জেতা সিরিজের স্মৃতি এখনো তরতাজা। তাই এই সিরিজে ফেভারিট তকমা নিয়েই খেলতে নামছেন স্টোকস-আর্চাররা। পাকিস্তানকে অবশ্য হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইংল্যান্ডের মাটিতে সর্বশেষ দুই সিরিজে যে হারেনি তারা!

মহামারির মধ্যে উইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটকে মাঠে ফেরানোর পর ওয়ানডে ফরম্যাটকেও ২২ গজে ফিরিয়েছে ইংল্যান্ড। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা খেলেছে তিন ম্যাচের সিরিজ। এটি আবার আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম সুপার লিগ সিরিজ।

টেস্ট সিরিজের জন্য এক মাস আগে ইংল্যান্ডে পা রাখে পাকিস্তান। সেখানে পৌঁছানোর পর পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের দুদফা করোনা পরীক্ষা করে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। সেই পরীক্ষায় সবাই উত্তীর্ণ হন। পরে টেস্ট সিরিজের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ২০ সদস্যের দল ঘোষণা করে। তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করতে মুখিয়ে আছে আজহার আলি নেতৃত্বাধীন দলটি। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে সর্বশেষ দুই সফরে সিরিজ হারেনি পাকিস্তান। ২০১৬ সালে ৪ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-২ ও ২০১৮ সালে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছিল।

২০১৬ সালের সফরে পাকিস্তানের নেতৃত্বে ছিলেন মিসবাহ উল হক। আর ২০১৮ সালের সফরে পাকিস্তানের অধিনায়ক ছিলেন সরফরাজ আহমেদ। দুজনই এই সফরে আছেন দলের সঙ্গে। মিসবাহ আছেন দলের প্রধান কোচ ও নির্বাচক হিসেবে। আর অধিনায়কত্ব খুইয়ে সরফরাজ এখন দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।

ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তান সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জিতেছে ১৯৯৬ সালে। তাই পাকিস্তানের জন্য সিরিজ জয়ের বন্ধ্যাত্ব ঘোচানোর পালা। যে কারণে এশিয়ার দলটিকে হেলাফেলা করতে রাজি নন ইংলিশ দলপতি জো রুট। তার ভাষ্য, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে পাকিস্তান শক্তিশালী দল। কারণ পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপ বিশ্বমানের। গত দুই সফরে তারা বোলারদের হাত ধরে সাফল্য পেয়েছে। তাদের ব্যাটসম্যানরাও ভালো মানের। তাই সিরিজে দারুণ লড়াই হবে।’

অন্যদিকে, টেস্ট সিরিজে ভালো করার আশা ব্যক্ত করে পাকিস্তান অধিনায়ক আজহার আলি বলেছেন, ‘আমরা সবাই অন্যরকম এক অনুভূতির মধ্যে আছি। কারণ দীর্ঘদিন পর ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাচ্ছে সবাই। তবে ২২ গজে আমাদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে খেলাটা সব সময়ই কঠিন। কিন্তু গত এক মাসে এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে আমরা দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছি। এখন মাঠের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা আসল লক্ষ্য। সবাই যার যার দায়িত্ব পালন করলে আমরা সাফল্য পাব।’

ইংল্যান্ডের উইকেট ও কন্ডিশন বরাবরই কথা বলে পেসারদের সুরে। তবে আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থা সহায়ক হতে পারে স্পিনারদের জন্যেও। কারণ, ইংলিশ গ্রীষ্মে ঐতিহ্যগতভাবেই সময় যত গড়ায়, উইকেটে স্পিনারদের জন্য সহায়তা বাড়তে থাকে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে এই সহায়তা যথেষ্টই থাকে। প্রথম টেস্টে তাই দুই স্পিনার খেলানোর বিষয়টি ভালোভাবেই বিবেচনায় রেখেছেন পাকিস্তানের কোচ ও প্রধান নির্বাচক মিসবাহ।

প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের একাদশ মোটামোটি চূড়ান্ত হলেও দল সাজানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় ইংলিশ ম্যানেজমেন্ট। তাদের দলে ছয়-ছয়জন বিশেষজ্ঞ পেসার! সাম্প্রতিক ফর্ম আর স্কিলের সামর্থ্যে তারা প্রত্যেকেই একাদশে জায়গা দাবি করেন। বাবর আজমদের বিরুদ্ধে সেরা একাদশ বাছতে তাই মধুর সমস্যায় পড়তে যাচ্ছেন জো রুট।

দুই ‘অভিজ্ঞতার ভা-ার’ জিমি অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডের যে এখনো অনেক কিছু দেওয়ার বাকি, কদিন আগেই বুঝিয়েছেন তা। জোফরা আর্চারের গতি আর স্কিল নিয়ে প্রশ্ন নেই। মার্ক উড নিয়মিতই ১৪০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে বল করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সীমিত সুযোগ পেয়েও স্যাম কুরান আর ক্রিস ওকস জানান দিয়েছেন, সেরা অবস্থায় আছেন তারাও। কিন্তু শেষ চারজনের মধ্যে অন্তত দুজনকে একাদশের বাইরে থাকতে হবে। পেস বোলিং অলরাউন্ডার বেন স্টোকস থাকায় তিন বিশেষজ্ঞ পেসারের বেশি একাদশে জায়গা দেওয়ার অবস্থায় নেই ইংল্যান্ড।

 

"