নিলামে মুশফিকের প্রথম দ্বিশতকের ব্যাট

প্রকাশ | ২০ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার গলে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে লেখা হয়েছিল নতুন ইতিহাস। টেস্ট ক্রিকেটে দেশের কোনো ব্যাটসম্যান করেছিলেন প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। ইতিহাস রাঙানো সেই অমূল্য ব্যাটই নিলামে তুলতে যাচ্ছেন মুশফিক। উদ্দেশ্য, করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলার জন্য সহায়তা তহবিলে অনুদান দেওয়া।

মুশফিকের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দ্বিশতক হাঁকানো ব্যাটের সঙ্গে আরো কিছু স্মারক নিলামে তুলতে যাচ্ছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। এ ব্যাপারে কয়েকটি ই-কমার্স প্লাটফর্মের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও সেরেছেন মুশফিক। এর মধ্যে একটি ই-কমার্স প্লাটফর্মের সঙ্গে নিলাম প্রক্রিয়া পরিচালনা নিয়ে কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত। প্রথম দ্বিশতকের সেই ব্যাট ছাড়াও আলোচিত কয়েকটি ম্যাচের প্যাড, গ্লাভস ও গত বিশ্বকাপের একটি ব্যাট নিলামে তুলবেন টাইগার ক্রিকেটের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’। বাংলাদেশে অনলাইনে এ রকম নিলাম আগে কখনো না হওয়ায় কী প্রক্রিয়ায় এটি করা হবে, তা নিয়ে আপাতত কাজ করছেন তারা। মুশফিকের ব্যাট ও স্মারকের নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করা স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, কয়েকটি বিষয় চূড়ান্ত হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবেন তারা। শুরুতে ব্যাটের কোনো ভিত্তিমূল্য রাখা হবে কি না, দেশের বাইরে থেকে বিড করার সুযোগ কীভাবে রাখা হবে ইত্যাদি বিষয় খতিয়ে দেখছেন তারা।

কোম্পানিটির এক কর্মকর্তা জানান, নিলামের অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রক্রিয়াটি ঠিক হয়ে গেলে আরো কয়েকজন ক্রিকেটারও তাতে যোগ দেবেন। বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার ইতোমধ্যে নিলামে তোলার জন্য তাদের কিছু স্মারক আলাদা করে রেখেছেন।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেসবুক লাইভে এসে দেশের ক্রিকেটারদের স্মারক নিলামে তুলে করোনা তহবিলে সাহায্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে সাকিবের এই আহ্বানের আগেই মুশফিক ব্যাট নিলামের তোলার ব্যাপার নিয়ে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংকটময় সময়ে দেশের ক্রিকেটাররা অবশ্য সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন শুরুতেই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তি ও সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে খেলা ২৭ ক্রিকেটার দান করেছেন এক মাসের বেতনের অর্ধেকটা। প্রথম শ্রেণির চুক্তিতে থাকা ৯১ ক্রিকেটারও দান করেছেন মাসিক বেতনের অর্ধেক টাকা। সামর্থ্য অনুযায়ী কোয়াবের তহবিলে দান করেছেন যুব বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটাররাও। অনেক ক্রিকেটার ব্যক্তিগত উদ্যোগেও চালিয়েছেন সহায়তা কার্যক্রম। এছাড়া মুশফিক নিজ শহর বগুড়ার একটি হাসপাতালে দিয়েছেন ২০০ পিপিই, মাস্ক ও গ্লাভস।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকের আছে সর্বোচ্চ তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। ৭০ টেস্ট খেলে দেশের হয়ে ৪ হাজার ৪১৩ রান করেছেন তিনি। এর আগে লন্ডনের দুটি হাসপাতালের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে নিজের বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি নিলামে তুলেছিলেন জস বাটলার। সপ্তাহ দুয়েক আগে বিক্রি হওয়া সেই জার্সির দামটা চমকে দেওয়ার মতোই। ৮২ বিডে জার্সিটির দাম উঠেছে ৬৫ হাজার ১০০ পাউন্ড, টাকার অংকে যা ৬৮ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি। দেশি টাকার মান ব্রিটিশ পাউন্ডের ধারেকাছেও নেই। তাই নিলামে ওঠা মুশফিকের ব্যাট হয়তো বাটলারের জার্সির মূল্যকে ছুঁতে পারবে না। তাতে কী? করোনাক্রান্তিতে মুশফিকের এই উদ্যোগ তো মহানুভবতারই স্বাক্ষর বহন করে।

 

"