মুজিববর্ষ

আবদুস সালাম

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

তোমরা সবাই জানো ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের যিনি স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি, তিনি হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ করেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক অভিজাত বংশ শেখ পরিবারে। শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব। মা-বাবা আদর করে সন্তানকে ডাকতেন খোকা বলে। খোকা নামে তিনি অনেকের কাছে পরিচিত। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছে।

তোমরা হয় তো অনেকেই জানো না যে, সারা বিশ্বে অসংখ্য বাংলা ভাষাভাষি মানুষ ছড়িয়ে রয়েছে ঠিকই কিন্তু বাঙালিদের স্বতন্ত্র কোনো রাষ্ট্র ছিল না। আমাদের সবার প্রাণপ্রিয় নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন বাঙালি জাতি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। যার নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। এ দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। যিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়েছেন।

স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকায় মুজিববর্ষের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনস্বীকার্য। তোমরা নিশ্চয় জানো যে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অন্যতম লক্ষ্য স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা। জাতিকে নতুন মন্ত্রে দীক্ষিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়া।

তোমাদের নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা করছে আমরা কীভাবে পালন করব? হ্যাঁ এখন তোমাদের সে কথা জানাব। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মুজিব বর্ষ উদযাপনের নানা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তোমাদের একটা কথা মনে করিয়ে দিই। আর তা হলোÑ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার প্রাককালে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

পুরো স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন ও দিল্লি হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। প্রস্তুতি হিসেবে জাতীয় কমিটি, বাস্তবায়ন কমিটি, বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি ও উপকমিটিতে বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমাদের দেশে যেমন এই বর্ষ পালন করা হবে, ঠিক তেমনি বিদেশেও একইভাবে পালন করা হবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সেমিনার, আলোকচিত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবন আলোচনার পাশাপাশি তার আদর্শ ও দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তথা সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হবে। বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে বঙ্গবন্ধুর প্রাসঙ্গিকতা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে আমরা যেন সামনের দিকে কীভাবে এগিয়ে যেতে পারি, সেসব বিষয় নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হবে। মুজিববর্ষে আমরা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কী কী বিষয় জানতে পারব, তা হয় তো তোমাদের অনেকেরই জানতে ইচ্ছা করছে। তোমাদের কৌতূহল মেটাতেই খুব সংক্ষেপে দু-একটি বিষয়ে একটু ধারণা দিচ্ছিÑ

বঙ্গবন্ধুর শৈশব : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর টুঙ্গিপাড়া গ্রামে আর দশটা বালকের মতো বঙ্গবন্ধুর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। গ্রামের মাটি আর মানুষ তাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করত। নদীর সঙ্গে ছিল তার সখ্য। নদীতে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে সাঁতার কাটতেন। মাঠে ফুটবল খেলতেন। পশুপাখির প্রতিও ছিল তার দরদমাখা ভালোবাসা। তোমাদের অনেকের মতো তিনি বাড়িতে কুকুর, বানর, শালিক ও ময়না পুষতেন। বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুৎফর রহমান আদালতে চাকরি করতেন। বাবার বদলিজনিত চাকরি হওয়ায় বঙ্গবন্ধুকে দেশের কয়েকটি স্থানে পড়াশোনা করতে হয়েছে। সাত বছর বয়সে ঐতিহ্যবাহী টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে মাদারীপুরের ইসলামিয়া হাইস্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে সেখানে কিছুদিন লেখাপড়া করেন। পরে গোপালগঞ্জ মিশন হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি স্কুলের প্রতিটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতেন। ছেলেবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু খুব সাহসী ছিলেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভয় পেতেন না। একটা উদাহরণ দিলেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। ১৯৩৯ সালে গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে বঙ্গবন্ধু যখন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিলেন, তখন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাদের স্কুল পরিদর্শনে এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছাত্রদের পক্ষে স্কুলের নানা সমস্যার কথা তাদের সামনে তুলে ধরেন। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্কুলের ছাদ মেরামত করা হয় এবং স্কুলে একটি ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু ছিলেন পরোপকারী। বন্ধুরা কোনো সমস্যায় পড়লে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। তিনি ছোটদের ভীষণ ভালোবাসতেন। কচিকাঁচার মেলা ও খেলাঘর ছিল তার প্রিয় সংগঠন। কৈশোরে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কচিকাঁচার আসরে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন। তার জীবনের শেষ দিনটি তিনি কাটিয়েছেন এই সংগঠনের ভাই-বোনদের মধ্যে। এ প্রসঙ্গে তোমাদের একটা কথা মনে করিয়ে দিইÑ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ২০ মার্চ এখন আমরা জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করি। শিশুদের কাছে দিনটি আনন্দ-খুশির। বঙ্গবন্ধু যেসব চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে শৈশব ও কৈশোরে বেড়ে উঠেছেন আমাদের প্রত্যাশা সেসব মানবিক চেতনাবোধ আমাদের শিশুদের মধ্যে বিকশিত হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার রাজনৈতিক জীবন। আমাদের প্রত্যাশা মুজিববর্ষে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। নেতৃত্বের গুণাবলি বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ে যে অঙ্কুরিত হয়েছিল, তা আমরা শৈশবে লক্ষ করেছি। ফলে তিনি এক দিন বাঙালিদের অবিসংবাদিত সাহসী নেতা হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কটি বিষয় তোমাদের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরছি। শোনো তাহলে। ১৯৪০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন এবং এক বছরের জন্য বেঙ্গল মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৪২ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন এবং পাকিস্তান আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৯৪৬ সালে তিনি ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন। ১৯৪৭ সালে তিনি ওই কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং ৪ জানুয়ারি মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তানের জন্মের পর ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। ১৯৪৯ সালে ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এ দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু সক্রিয় ছিলেন। ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের সাধারণ পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু নির্বাচিত হন।

তিনি প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৫৫ সালের ৫ জুন বঙ্গবন্ধু গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে ২১ দফা ঘোষণা করা হয়। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। ১৯৬৬ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনের বিষয় নির্বাচনী কমিটিতে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। প্রস্তাবিত ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ। ১৯৬৮ সালে ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে ৩৫ বাঙালি সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ এনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে। ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে ৭ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকবর্গ বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতায় বসতে দেয়নি। এর ফলে ৭ মার্চ ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) বাঙালিদের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। তোমরা জেনে খুশি হবে যে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেসকো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ছিল সম্মোহনী নেতৃত্বের গুণাবলি। তিনি নিজের জ্ঞান, মহানুভবতা, আত্মত্যাগ, উদারতার মাধ্যমে নিজের আচার-আচরণে সাধারণ মানুষের হৃদয় জয় করতে পেরেছিলেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধিকার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। আমাদের সবার বিশ্বাস বর্তমান প্রজন্ম তার রাজনৈতিক দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসবে।

তোমরা জানো যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। তিনি দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছেন। এর জন্য তাকে ১৪ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। তিনি স্কুলজীবনে ব্রিটিশ আমলে সাত দিন কারা ভোগ করেন। বাকি কারা ভোগ করেছেন পাকিস্তান সরকারের আমলে। তিনি চেয়েছেন বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খাক। বাংলার বেকার কাজ পাক। বাংলার মানুষ সুখী হোক। বাংলার মানুষ হেসেখেলে বেড়াক। সোনার বাংলার মানুষ আবার প্রাণ ভরে হাসুক। বঙ্গবন্ধু এক ভাষণে বলেছিলেন, ‘এই স্বাধীন দেশে মানুষ যখন পেট ভরে খেতে পাবে, পাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন; তখনই শুধু এই লাখো শহীদের আত্মা তৃপ্তি পাবে।’ যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন। বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সামাজিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ রেখে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদান অপরিসীম। হজ পালনের জন্য সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা নিষিদ্ধকরণ, রেসকোর্স ময়দানে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, বেতার ও টিভিতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত প্রচার, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), শবেকদর, শবেবরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা, মদ, জুয়া নিষিদ্ধকরণ, বিশ্ব ইজতেমার জন্য টঙ্গিতে সরকারি জায়গা বরাদ্দ এবং কাকরাইলের মারকাজ মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য জমি বরাদ্দ প্রদানে বঙ্গবন্ধুর অবদান অনস্বীকার্য। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত, সাহিত্য ও রাজনৈতিক দর্শন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আন্দোলন, সংগ্রাম ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় জুগিয়েছে অনাবিল অনুপ্রেরণা। জাতির পিতা ছিলেন এ মহান কবির একান্ত অনুরক্ত। তিনি নজরুলের ‘চল্ চল্ চল্’ গানটিকে রণসংগীতের মর্যাদা দেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু ভারত থেকে নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন এবং তাকে ঘোষণা করলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে। অথচ আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় ১৫ আগস্ট ১৯৭৫, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসায় সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে সপরিবারে নিহত হন। সেদিন তিনি ছাড়াও ঘাতকের বুলেটে নিহত হন তার স্ত্রী বঙ্গমাতা বেগম মুজিব। এ ছাড়া তাদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজনসহ নিহত হন আরো ১৬ জন।

সেসব হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা স্মরণ করলে আমাদের দুচোখ এখনো জলে ভিজে যায়। আমরা আশা করি বিষয়গুলো মুজিববর্ষে ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হবে। তোমরা জেনে খুশি হবে যে, মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নির্মাণ, বঙ্গবন্ধুর ওপর সিনেমা নির্মাণ, কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। বঙ্গবন্ধুর নানা দিক নিয়ে লেখা হবে ১০০ পুস্তক। দেশ ও বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের সামনে বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরা হবে। আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হবে। তাই বলা যায়, এ বছরটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা হবে। সাংস্কৃতিক জাগরণ হবে, যা ভবিষ্যতে স্মারক হয়ে থাকবে। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে কাজে লাগাতে হবে। তবেই হবে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা ও স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ উপায়। মুজিববর্ষের সার্থকতা। ২০২০ সালের অঙ্গীকার হোক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ।

 

"