মতিয়ার চৌধুরী

  ০৯ জুলাই, ২০২৪

জয়ের ধারায় চার বাঙালি নারীর চমক

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে আবারও চমক দেখিয়েছেন চার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী। তারা ব্রিটেনের বহুজাতিক সমাজে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। লন্ডনের হ্যামস্টেড ও হাইগেট আসন থেকে টানা চতুর্থবারের মতো বিজয়ী হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক। এই আসনে বিপুলসংখ্যক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। টিউলিপের মা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। টিউলিপ প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন ২০১৫ সালে। এদিকে বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন ও স্টেপনি আসন থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রোশনারা আলী। পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস আসন থেকে আফসানা বেগম দ্বিতীয়বারের মতো জয়লাভ করেছেন। লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল ও একটন আসনে টানা চতুর্থবারের মতো জয়ী হয়েছেন ড. রূপা হক। তারা সবাই লেবার দলের।

টিউলিপ সিদ্দিক

হ্যামস্টেড ও হাইগেট আসনে ২৩ হাজার ৪৩২ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন টিউলিপ। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির ডন উইলিয়ামস ভোট পেয়েছেন মাত্র ৮ হাজার ৪৬২টি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ৪১ বছর বয়সি টিউলিপকে লেবার পার্টির ভেতর নতুন প্রজন্মের তুমুল সম্ভাবনাময় রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখছেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির নিরাপদ বা ‘সেফ সিট’ নয়, এমন আসনে মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবারই বাজিমাত করেছিলেন টিউলিপ। দুবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় স্থান পান তিনি। লেবার পার্টি ব্রিটেনের ক্ষমতায় আসায় এবার মন্ত্রিসভায়ও জায়গা পেতে পারেন তিনি।

রোশনারা আলী

১৫ হাজার ৮৯৬টি ভোট পেয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো বিজয়ী হয়েছেন রোশনারা আলী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপীয় সংস্করণ দাওয়াতুল ইসলামের সাবেক আমির ও নীতিনির্ধারক আজমল মাশরুর পেয়েছেন ১৪ হাজার ২০৭টি ভোট। ৪ হাজার ৭৭৭ ভোটে তৃতীয় হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির আরেক বাঙালি রাবিনা খান।

নির্বাচনের আগে এমনকি নির্বাচনের দিনও আজমল মশরুর সমর্থিত বাংলাদেশের উগ্রবাদীরা একের পর এক অপবাদ দিয়েও রোশনারা আলীর বিজয় ঠেকাতে পারেনি। সিলেটের বিশ্বনাথে জন্ম নেওয়া রুশনারা আলী প্রথম হাউস অব কমন্সে প্রবেশ করে বাঙালিদের পথ সুগম করেছিলেন। এ আসনের অন্য দুই স্বতন্ত্র বাংলাদেশি প্রার্থী সামশ উদ্দীন ৩২৫ ভোট এবং মো. সুমন আহমদ পেয়েছেন ৩১৫ ভোট।

আফসানা বেগম

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন লেবার পার্টির আফসানা বেগম। ১৮ হাজার ৫৩৫টি ভোট পেয়েছে তিনি। আফসানার প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রিন পার্টির নাথালি বেইনফিট ৫ হাজার ৯৭৫টি, কনজারভেটিভ পার্টির ফ্রেডি ডউনিং ৪ হাজার ৭৩৮টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী আফসানার সাবেক স্বামী এহতেশামুল হক ৪ হাজার ৫৫৪টি ভোট পেয়েছেন।

ইস্ট লন্ডনের এই আসনটিতে গতবার লেবার পার্টির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের বিরোধিতার মুখেই লেবারের মনোনয়ন পান এবং নির্বাচনে জয়ী হন আফসানা বেগম। টাওয়ার হ্যামলেটসের শ্যাডওয়েলে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাংলাদেশে তার বাবার বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায়। আফসানার বাবা প্রয়াত মনির উদ্দিন টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলর মেয়র ছিলেন দীর্ঘদিন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার এমপির মধ্যে আফসানাই বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সবচেয়ে বেশি সময় দেন।

ড. রূপা হক

লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল ও একটন আসনে লেবার পার্টির মনোনয়নে ড. রূপা হক ২২ হাজার ৩৪০টি ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির জেমস উইন্ডসর ক্লাইভ পেয়েছেন ৮ হাজার ৩৪৫টি ভোট। পুরোদস্তুর রাজনীতিতে নাম লেখানোর আগে ৫২ বছর বয়সি এই ব্রিটিশ বাংলাদেশি কন্যা লন্ডনের কিংসটন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে শিক্ষকতা করতেন। কিংসটন ইউনিভার্সিটিতে সর্বশেষ সিনিয়র লেকচারার হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তিনি একজন কলামিস্ট ও লেখক। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে আসা মোহাম্মদ হক ও রওশন আরা হক দম্পতির তিন কন্যার মধ্যে বড় রূপা হক। তার বাবার বাড়ি পাবনা শহরের কুঠিপাড়ায়। সাদামাটা জীবনযাপন ও বিনয়ী ব্যবহারের জন্য সবার প্রিয় পাত্র তিনি।

বিজয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরাজিত হয়েছেন যারা

লেবার পার্টি থেকে প্রথমবার মনোনয়ন পেয়ে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী রুফিয়া আশরাফ ও রুমী চৌধুরী। যে আসনগুলোয় তারা হেরেছেন, সেগুলো টুরি দলের দুর্গ ও ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। সাবেক মেয়র রুফিয়া আশরাফ সাউথ নর্থামটনশায়ার আসনে ১৫ হাজার ৫০৪টি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। এই আসনে ১৯ হাজার ১৯১টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির সারাহ বুল। উইথাম আসনে কনজারভেটিভের তারকা প্রার্থী প্রীতি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রীতি প্যাটেল ১৮ হাজার ৮২৭টি ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে ১৩ হাজার ৬৮২টি ভোট পেয়েছেন কাউন্সিলর রুমী চৌধুরী।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close