ব্রেন্টনের আজীবন কারাভোগ চায় শোকার্ত পরিবারগুলো

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় হামলাকারীকে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে কঠোর সাজা প্যারোলে মুক্তির সুযোগ না রেখে আজীবন কারাদণ্ড দিতে বিচারকের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। হামলায় অর্ধশতাধিক মানুষকে মেরে ফেলার পরও শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী ব্রেন্টন ট্যারেন্টের কোনো অনুশোচনা না থাকা এবং সাজা ঘোষণার শুনানিতে এক আহতের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়েছেন বলে মনে হওয়ার পর আহত ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ অনুরোধ জানানো হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

২০১৯ সালের ওই হামলায় ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে আহত মিরওয়াইজ ওয়াজিরি গতকাল মঙ্গলবার যখন দেখেন ওই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীর ‘চোখে কোনো অনুশোচনা, কোনো লজ্জা নেই’, তখন আদালতে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা বিবৃতির বদলে সরাসরি ট্যারেন্টকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেন। তিনি কোনোকিছুর জন্যই অনুতপ্ত নন, ক্রাইস্টচার্চ হাইকোর্টে সাজা ঘোষণার শুনানির দ্বিতীয় দিনে বলেন ওয়াজিরি। ট্যারেন্টকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আজ আপনাকে সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে এবং আপনি বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছেন যে মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয়। আমি নিউজিল্যান্ডের জনগণকে বলতে চাই সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম থাকে না, জাতি বা বর্ণ থাকে না। পাবলিক গ্যালারিতে উপস্থিত অনেকেই এ সময় করতালি দিয়ে ওয়াজিরির বক্তব্যকে স্বাগত জানান। রক্ষীদের পাহারায় থাকা, কয়েদিদের জন্য নির্ধারিত ধূসর রঙের পোশাক পরিহিত ট্যারেন্টকে উদ্দেশ্য করে শুনানিতে আরো বক্তব্য রাখেন আল নূর মসজিদে হামলায় বেঁচে যাওয়া নাথান স্মিথ। যদি ফ্রি সময় পান, যা আপনার পর্যাপ্তই থাকবে। মজার ব্যাপার, তাই না? ওই সময়ে আপনার কোরআন পড়ার চেষ্টা করা উচিত। এটা চমৎকার, ট্যারেন্ট তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়েছেন মনে হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই বলেন যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া স্মিথ। ৫১ জনকে হত্যা, ৪০ জনকে হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসবাদের একটি অভিযোগে দায় স্বীকার করে নেওয়া ২৯ বছর বয়সি ট্যারেন্টের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহেই সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে। অস্ট্রেলীয় এ শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী ২০১৯ সালের মার্চে ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনাটি ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন। তৃতীয় আরেকটি মসজিদে হামলা চালানোর পরিকল্পনার পাশাপাশি তিনি মসজিদগুলো পুড়িয়ে দিতে এবং ‘যত বেশি লোককে সম্ভব হত্যা করতে’ চেয়েছিলেন বলেও শুনানিতে জানানো হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডে খুনে দোষী সাব্যস্ত হলে আজীবন কারাবাস দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে সাজা হিসেবে প্যারোলসহ নাকি প্যারোলছাড়া ওই দ- দেওয়া হবে, তা ঠিক করার এখতিয়ার বিচারকের। সাজা ঘোষণার শুনানির দ্বিতীয় দিনে মূলত হামলার ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত হয়ে কিংবা ভিডিও লিংকের মাধ্যমে কথা বলার সুযোগ পান। শুনানির এক পর্যায়ে ট্যারেন্টকেও কিছু বলার সুযোগ দেওয়া হবে, তবে তিনি যেন হাইকোর্টকে ব্যবহার করে তার উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচারের সুযোগ না পান, তা নিশ্চিতে বিচারক ক্যামেরন ম্যান্ডারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

গত বছর ট্যারেন্টের হামলায় নিহতদের বেশিরভাগই আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন; অস্ট্রেলীয় এ শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীর হামলায় লিন উড মসজিদেও সাতজন নিহত হন। পরে তৃতীয় আরেকটি মসজিদের দিকে যাওয়ার পথে ট্যারেন্টকে আটক করে পুলিশ। সাজা ঘোষণার এ শুনানি আদালত কক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে; গণমাধ্যম কী কী বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করতে পারবে, দেওয়া হয়েছে সে সংক্রান্ত অনেক বিধিনিষেধও। পরে শুনানি বুধবার সকাল পর্যন্ত মুলতুবি করা হয়।

 

"