স্বাস্থ্য ডেস্ক

  ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২

আলঝেইমার্সের যুগান্তকারী ওষুধ আবিষ্কার

আলঝেইমার্স আক্রান্ত ব্যক্তির ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংস হয়ে যায়। এই প্রবণতা কমিয়ে দেয়ার মতো প্রথম কোনো ওষুধ আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা, যার ফলে আশার আলো দেখছেন অনেকেই। নতুন এই ওষুধ মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু কমিয়ে আলঝেইমার্স বৃদ্ধির গতি ধীর করে দিতে পারে। এর আগে আর কোনো ওষুধ এই সাফল্য দেখাতে পারেনি। ওষুধটির নাম লিকেনেম্যাব।

এই ওষুধের প্রভাব এখনো কম। মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এটি কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ওষুধটি কাজও করে এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে। ফলে এই রোগে আক্রান্ত অনেক রোগী হয়তো এর সুফল পাবেন না। তারপরও আলঝেইমার্সের ওষুধ উদ্ভাবনে বহু বছরের ব্যর্থতার কথা মাথায় রেখে এটিকে ‘যুগান্তকারী’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

আলঝেইমার্স আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কে বেটা অ্যামিলয়েড নামে যে আঠালো পদার্থ তৈরি হয়, সেটিকে আক্রমণ করে লিকেনেম্যাব। অ্যামিলয়েড হচ্ছে একটি প্রোটিন, যা মস্তিষ্কের নিউরনের মাঝের জায়গাগুলো জমা হতে থাকে। এর ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। এ রকম অ্যামিলয়েড তৈরি হওয়া আলঝেইমার্স রোগের অন্যতম উপসর্গ। সাধারণত ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের এ রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি। অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম বয়য়েও এ রোগ হতে পারে।

স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া হল আলঝেইমার্সের প্রাথমিক লক্ষণ। একসময় রোগীর কগনিটিভ কার্যকারিতা বা পারিপাশির্^ক সচেতনতা হ্রাস পেতে। একপর্যায়ে খাওয়াসহ দৈনন্দিন কাজও নিজে করতে না পারেন না রোগী।

ঠিক কেন আলঝেইমার্স হয়, তা এখনো জানা যায়নি। গবেষকরা বলছেন, বয়সের কারণে মস্তিষ্কের পরিবর্তন; কোষের বুড়িয়ে যাওয়া, জেনেটিক, পরিবেশগত ও জীবনশৈলীর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আলঝেইমার্সের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসার উপায় খুঁজতে গিয়ে ৩০ বছর আগে যখন বিশ্বের বিজ্ঞানীরা ঠিক করে যে, এ জন্য প্রথমে অ্যামিলয়েড লক্ষ্য করে গবেষণা করতে হবে, তাদের একজন প্রফেসর জন হার্ডি। নতুন এই ওষুধ আবিষ্কারের পর তিনি একে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশা করছেন, এর ফলে আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসার নতুন নতুন উপায় বেরিয়ে আসতে শুরু করবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close