নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

  ১১ জুলাই, ২০২৪

বেনজীরের রূপগঞ্জের ডুপ্লেক্স বাংলোর মালামাল জব্দ

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত সেই বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাংলোর মালামাল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার দুপুরে রূপগঞ্জের দক্ষিণবাগ এলাকায় ওই আলিশান বাংলোয় প্রবেশ করে তারা আদালতের নির্দেশে মালামাল জব্দ শুরু করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপপরিচালক মইনুল হাসান রওশানী। তিনি বলেন, বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেছি। মালামাল জব্দ করার কাজ চলছে। কাজ শেষে এ বিষয়ে ব্রিফ করা হবে। তিনি জানান, অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়াও দুদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা রয়েছেন। তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশের পর সেখানে থাকা বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ও মালামাল জব্দ করেন তারা।

এর আগে, গত শনিবার বিকেলে রূপগঞ্জ দক্ষিণবাগ এলাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বয়ে গঠিত টিম বাড়িটি ক্রোক করে সিলগালা করে দেয়। তবে ডিজিটাল লক থাকায় বাড়ির মূল ভবনে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে জানাতে পারেনি বাড়ির সম্পদের পরিমাণ। কয়েক দিনের মধ্যে বাড়ির মূল ভবনে প্রবেশ করে মালামাল জব্দ করা হবে বলেও তখন জানিয়েছিল দলটি।

ক্রোক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাভানা ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের ২৪ কাঠা জমির ওপরে নির্মিত এই সম্পত্তির মালিক হিসেবে বেনজীর আহমেদের মেয়ে মিজ ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর লেখা রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার এই সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণবাগ এলাকায় আনন্দ হাউজিং সোসাইটিতে কৃত্রিম লেক রয়েছে। লেকের পাশে ২৪ কাঠা জায়গা জুড়ে লাল রঙের আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি। এই বাড়ির মালিক পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ। ৮ বছর আগে এলাকার প্রয়াত প্রেমানন্দ সরকারের সন্তানদের কাছ থেকে ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় ৫৫ শতাংশ জায়গা কেনেন তিনি। পরে বছর চারেক আগে এই জমিতে ওই বাড়ি করেন বেনজীর।

বেনজীর আহমেদ মাঝেমধ্যেই ওই ডুপ্লেক্সে যেতেন, রাত্রিযাপনও করতেন বলে তারা জানিয়েছেন। বাড়ির নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক রাখা হয় বিদেশি কুকুরসহ কেয়ারটেকার।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুন আদালত তৃতীয় দফায় বেনজীরের আরো বিপুল সম্পদ জব্দ করেছে। সে তালিকায় এই বাংলোও ছিল। এরপর বাড়িটি দেখভালের জন্য জেলা প্রশাসককে রিসিভার নিয়োগ দেন আদালত।

সম্প্রতি বেনজীর ও তার পরিবারের অঢেল সম্পদ অর্জনের তথ্য সামনে চলে আসায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। শত শত বিঘা জমি, রিসোর্ট, খামার, ঢাকার কয়েকটি ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পত্তির মালিক সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।

গত ২৩ মে বেনজীরের ৮৩টি দলিল জব্দ ও ৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন অবরুদ্ধের নির্দেশ দেন আদালত। পরে ২৬ মে স্ত্রীর নামে ১১৯টি দলিল ও গুলশানে এক দিনেই কেনা চারটি ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ আসে। ফ্রিজ করা হয় ২৩টি কোম্পানির শেয়ার।

স্ত্রী-সন্তানসহ বেনজীরের অঢেল সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে ডাকা হয়। কিন্তু দেশ ছেড়ে চলে গেছেন তারা। পরপর দুই দফা তলব করলেও বেনজীর ও পরিবারের কেউ দুদক কার্যালয়ে হাজির হননি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close