নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৪ জুন, ২০২৪

পেসমেকার বসানো হয়েছে খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে পরিবার

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, ম্যাডামের পরিবার ও বিএনপি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে।

এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। হঠাৎ অসুস্থতা বেড়ে গেলে গত শুক্রবার গভীর রাতে খালেদা জিয়াকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন। ওই গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা শনি ও রবিবার কয়েক দফা বৈঠকে বসে পেসমেকার লাগানোর সিদ্ধান্ত দেন। লন্ডন থেকে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভার্চুয়ালি মেডিকেল বোর্ডের এসব সভায় যুক্ত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন জানান, ম্যাডামের হৃদরোগের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। হার্টে ব্লকও ধরা পড়েছিল। সেখানে একটা স্টেন্টও (রিং) লাগানো ছিল। সবকিছু পর্যালোচনা করে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছুক্ষণ আগেই তার হার্টে পেসমেকার বসানো হয়েছে। পেসমেকার হলো হৃদস্পন্দন নিয়মিত রাখার কৃত্রিম বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যা বৈদ্যুতিক স্পন্দন তৈরি করে হৃদপেশিতে পাঠায় এবং হৃৎপিণ্ডের গতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। যখন হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব পেসমেকার বা এসএ নোড যথেষ্ট পরিমাণে বা গতিতে ‘ইমপালস’ তৈরি করতে না পারে বা হৃৎপিণ্ডের ত্বরিত পরিবহনের রাস্তা আটকে যায়, তখন হৃৎপিণ্ডের গতি একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় নিয়ে যাওয়া হলো পেসমেকারের প্রাথমিক কাজ, যাতে হৃৎপিণ্ড ঠিকভাবে কাজ করতে পারে।

৭৯ বছর বয়সি খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস, আর্থ্রাাইটিস ছাড়াও হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। গত চার বছরে বেশ কয়েকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। খালেদা জিয়াকে এর আগে ২ মে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই সময় তাকে দুদিন সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। এর আগে অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে গত বছরের ৯ আগস্ট এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন দীর্ঘ ৫ মাস চিকিৎসা নিয়ে চলতি বছর ১১ জানুয়ারি গুলশানের বাসায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ায় গত বছরের ২৭ অক্টোবর খালেদা জিয়ার রক্তনালিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে এনে ওই অস্ত্রোপচার করা হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন খালেদা জিয়া। এরপর দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন তিনি। পরে শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে বিদেশে না যাওয়ার শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ৬ মাস পরপর তার মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে যাচ্ছে সরকার। গত ৩ বছরে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতে কয়েক দফা অনুমতি চাইলেও অনুমতি দেয়নি সরকার।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close