নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৪ জুন, ২০২৪

লাপাত্তা মতিউরের স্ত্রী লায়লা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ টাকার ছাগলকাণ্ডে আলোচিত রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানের প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ লাপাত্তা। উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না ছাগলকাণ্ডের পর থেকেই। কার্যালয়ে আসছেন না, বাড়িতেও নেই তিনি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের দুই দিন আগে সর্বশেষ অফিস করেছেন লায়লা কানিজ। এরপর আর আসেননি।

ঈদের ছুটি শেষে এ পর্যন্ত একবারের জন্যও কার্যালয়ে আসেননি তিনি। তাদের ধারণা, তিনি ছাগলকাণ্ডে বেশ বিব্রত। সাংবাদিকরাও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পেতে তার কার্যালয়ে এসে খোঁজাখুঁজি করছেন।

রায়পুরার ইউএনও ইকবাল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদের পর উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ তার কার্যালয়ে আসেননি। গতকাল রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভাতেও তিনি অংশ নেননি। ব্যক্তিগত কারণে তিনি আজ আসতে পারবেন না জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু কবে আসবেন তাও বলেননি, কোনো ছুটিও নেননি।

সরকারি তিতুমীর কলেজের বাংলা বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপকের চাকরি ছেড়ে ২০২২ সালে রাজনীতিতে এসেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান হন লায়লা কানিজ। আছেন জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে। ছাগল কাণ্ডের পর তার নামে থাকা সম্পদের বিবরণ শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।

স্থানীয়রা বলেছেন, লায়লা কানিজ সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করলেও রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানের সঙ্গে বিয়ের পর তার ভাগ্য খুলে যায়। গত ১৫ বছরে তার সম্পদ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। সংসদ সদস্য রাজিউদ্দীন আহমেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে তার উত্থান দেখেছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। মরজাল এলাকায় পৈতৃক বাড়িতে একটি ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। ছোট একটি পার্ককে ক্রমে ক্রমে আধুনিক করে ইকো রিসোর্ট তৈরি করেছেন। এলাকায় প্রচুর দান-খয়রাতও করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে তিনি রায়পুরার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একজন হয়ে উঠেছেন।

মরজালে নিজ এলাকায় প্রায় দেড় একর জমিতে ‘ওয়ান্ডার পার্ক ও ইকো রিসোর্ট’ নামের একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন লায়লা কানিজ। যদিও পার্কটির মালিকানা তার দুই সন্তান তৌফিকুর রহমান (অর্ণব) ও ফারজানা রহমানের (ইপ্সিতা) নামে। ভেতরের প্রায় তিন বিঘা আয়তনের লেকটি লায়লা কানিজের ‘লাকি মৎস্য খামার’ নামে নিবন্ধিত।

উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, পার্কটিতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল সংসদ সদস্য রাজিউদ্দীন আহমেদের। একপর্যায়ে লায়লা কানিজকে রাজনীতিতে আমন্ত্রণ জানান তিনি। ২০২২ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে উপনির্বাচনে প্রার্থী হন এবং সংসদ সদস্যের প্রভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হন তিনি। অবস্থা এখন এমন, সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান একটি পক্ষ আর সব আওয়ামী লীগ নেতা আরেক পক্ষ। সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক হয়ে কীভাবে তিনি এত সম্পদের মালিক হলেন, সেই প্রশ্নে সবাই বিস্মিত।

নির্বাচনী হলফনামা বলছে, লায়লা কানিজের বার্ষিক আয় কৃষি খাত থেকে ১৮ লাখ, বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট-দোকান ও অন্যান্য ভাড়া থেকে ৯ লাখ ৯০ হাজার, শেয়ার-সঞ্চয়পত্র-ব্যাংক আমানতের লভ্যাংশ থেকে ৩ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা, উপজেলা চেয়ারম্যানের সম্মানী বাবদ ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭৫, ব্যাংক সুদ থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৯ টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমা রয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

স্থানীয়রা আরো বলেছেন, তিনি এসব সম্পদ গড়েছেন তার স্বামী আলোচিত রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানের অবৈধ উপার্জনে। শিক্ষকতার আয়ে বা পেনশনের টাকায় তার এত সম্পদ থাকার কথা নয়।

এসব বিষয়ে লায়লা কানিজের ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া যায়। তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নাজমুল হোসেন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘লায়লা কানিজ ম্যাডাম রায়পুরায় নেই, তিনি ঢাকায় আছেন।’ এ বিষয়ে আর কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close