নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২২ জুন, ২০২৪

কাঁচামরিচে ঝাল বেড়েছে

কোরবানির ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। তবে রাজধানীর বাজারে গিয়ে নিত্যপণ্যের দাম শুনে সবার চক্ষু চড়কগাছ। ঈদের ছুটির মধ্যেই বেড়ে গেছে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম। যার মধ্যে অন্যতম ডিম, পেঁয়াজ, আলু ও ব্রয়লার মুরগি। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাঁচামরিচ। দাম বাড়ার ক্ষেত্রে অবশ্য সেই পুরোনো দাবি ব্যবসায়ীদের, বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ কম।

কাঁচামরিচের দাম বেড়ে ৩০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাজারভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। যা সপ্তাহ আগেও ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০০ টাকা। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার সরেজমিন ঘুরে এই দৃশ্য দেখা গেছে।

ঝাঁজ কমেনি পেঁয়াজ, রসুন ও আদার। দেশি ভালো মানের পেঁয়াজের কেজি ৮৫ থেকে ৯০ এবং দেশি হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজের কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। ঈদের আগেও পাইকারিতে ৭৫-৮০ টাকা কেজিতে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানির অনুমতি থাকলেও ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে কম। ফলে চাহিদার সিংহভাগই মেটাতে হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ দিয়ে। তাই দাম বেড়েছে।

দেশি রসুনের কেজি ২০০ থেকে ২১০ এবং আমদানি করা রসুনের কেজি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি আদার কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ এবং আমদানি করা আদার কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আলুর অবস্থাও পেঁয়াজের মতোই। ঈদের আগে যেই আলু খুচরা পর্যায়ে ছিল ৬০ টাকা কেজি। তা এবার পাইকারি বাজারেই বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। তবে এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ বাড়লে পেঁয়াজ, আলুর দাম কমতে পারে।

এর বাইরে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দামও। ঈদের আগে যেই মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৯০-২০০ টাকা বিক্রি দরে। সেটা এখন বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা কেজি করে। আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকা কেজি দরে।

কারওয়ান বাজারের রোকেয়া ব্রয়লার চিকেন হাউসের বিক্রয়কর্মী রুবেল মিয়া বলেন, সবাই তো কোরবানি দেননি। তা ছাড়া প্রতিদিন তো গরুর মাংস খাবেন না। হোটেলেও প্রতিনিয়ত দরকার হয় মুরগির। সেজন্য চাহিদা কমেনি, দামও কমেনি।

ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। বাজারে সাদা ডিমের হালি ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। অন্যদিকে বাজারে ফার্মের বাদামি রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। কিন্তু মহল্লার দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা দরে। কোথাও এর চেয়েও বেশি।

তেজকুনিপাড়ার হুজাইফা স্টোরের বিক্রয়কর্মী সোহেল রানা বলেন, ঈদের আগে পাইকারি বাজারে ডিমের দর বেশি ছিল। এ ডিমগুলো সে সময় কিনে রাখা। তাই লোকসান দিয়ে বিক্রি করা যাবে না। নতুন করে কম দামের ডিম এলে সে অনুযায়ী বিক্রি হবে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ঈদের ছুটির কারণে কৃষকরা খেত থেকে সবজি তুলছেন না। ব্রয়লারের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ কম। সেজন্য পণ্যগুলোর দাম বাড়তি। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে।

কোরবানির সময় শসা ও টমেটোর চাহিদা কিছুটা বেশি থাকে। ব্যবসায়ীরাও সেই সুযোগ নিচ্ছেন। বাজারে এখনো প্রতি কেজি শসা কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। একইভাবে উচ্চদর দেখা গেছে টমেটোর। খুচরা পর্যায়ে সালাদের অন্যতম উপকরণটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে।

অন্যদিকে কাঁকরোল ও কচুরমুখির কেজি ৭০ থেকে ৯০ টাকা। বেগুনের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা হলেও পটোল ও ঢ্যাঁড়শের কেজি কেনা যাচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। ধুন্দল ও ঝিঙ্গের কেজি কিনতে খরচ হবে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

তেজকুনিপাড়ার সবজি ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, কোরবানির ঈদের পর শসা, মরিচ, টমেটো বেশি বেচাকেনা হয়। কিন্তু পাইকারি বাজারে এগুলো এখন কম আসছে। এজন্য দরটা একটু বেশি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close