নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২০ জুন, ২০২৪

৯৫ দুর্ঘটনায় হতাহত ৯২, বেশি মোটরসাইকেলে

- সেতুমন্ত্রী

ইদানীং বেপরোয়া ড্রাইভিং, মোটরবাইক ও ইজিবাইকের কারণে সারা দেশে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রা এখনো শেষ হয়নি। ফিরতি যাত্রায় দুর্ঘটনা বাড়ে। তবে এ বছর এখন পর্যন্ত কম আছে। সব মিলিয়ে ৯৫টি দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন ৯২ জন। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে। এজন্য বেপরোয়া ড্রাইভিংও দায়ী। কিছু পরিবহন রাস্তার শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত নীতিমালা করতে হবে।

মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকায় যে নিয়ম করা হয়েছে সেটা অনেক কাজে আসছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

কাদের বলেন, বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। ইদানীং যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে তার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই বেশি হচ্ছে। দুর্ঘটনার চিত্র দেখলে দেখা যাবে, বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপর আছে ইজিবাইক। তারাও বেপরোয়া গতিতে এটি চালাচ্ছেন। সড়ক থেকে এ বাহনগুলো বাদ দেওয়ার উপায় নেই। এজন্য সচিবকে দ্রুত নীতিমালা করার জন্য বলা হয়েছে।

সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কে লাখ লাখ তিন চাকার যান ও মোটরসাইকেলের জন্য শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে জানিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, সেজন্য নীতিমালাটা খুব জরুরি। মানুষের জীবন আগে, জীবিকা পরে। এক্ষেত্রে জীবিকাকে রক্ষা করতে গিয়ে জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। ভোটের রাজনীতি যারা করেন তাদের এতে সায় আছে। ইজিবাইক হাইওয়েতে চলে, এটিকে অনেকে সমর্থন করেন অথবা পেছন থেকে মদদ দেন। ঢাকায় যে নিয়ম চালু করা হয়েছে তাতে ৯৮ শতাংশ মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী তাদের দুজনেরই হেলমেট থাকে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়কে ঈদযাত্রা অনেকটা ভালো হয়েছে। কিন্তু ফিরতি পথের বিষয়টি এখনো রয়েছে। এদিকে অনেকের নজর কম থাকে তাই দুর্ঘটনাও ঘটে অনেক সময়। তাই ফিরতি পথটাও এখন দেখতে হবে।

‘সেন্টমার্টিন ইস্যুতে সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছে’- বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিরোধীদলের একটা ভাষা আছে সরকারি দলের সিদ্ধান্তকে তারা নতজানু আখ্যায়িত করে। কিন্তু কীভাবে নতজানু, সেটা একটু ব্যাখ্যা করে দিক না। সেন্টমার্টিনে যে গুলিটা এসেছে, সেটা মিয়ানমার সরকার করেনি। এটা আরকান আর্মি নামে যে বিদ্রোহীরা আছে তাদের গুলি। যেকোনো উসকানির মুখে বাংলাদেশ যুদ্ধে না জড়িয়ে আলাপ-আলোচনায় সমাধানে বিশ্বাসী। সেখানে যে জাহাজের কথা বলা হয়, সে জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার উসকানি দিলে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। একটা সমাধান বের করব। যুদ্ধে জড়াব না।

‘মূল্যস্ফীতি ব্যাপকভাবে বাড়ার কারণে মানুষ স্বস্তিতে ঈদ করতে পারেনি’- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি মির্জা ফখরুল সাহেবকে বলব কোরবানির ঈদে গত বছরের থেকে এ বছর ৩ লাখ গরু বেশি কোরবানি হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় ছোটোখাটো যানজট হয়েছে। সেটা বেশি সময়ের জন্য নয়। তারপরও এবারের ঈদযাত্রা মানুষ মধ্যে উল্লাস কাজ করেছে। অনেকেই ঈদযাত্রায় শামিল হয়েছেন।

কাদের বলেন, এবার পদ্মা সেতুতে একদিনে টোল আদায় হয়েছে ৫ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু সেতুতে এক দিনে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি টাকা। তাহলে অসুবিধা কোথায়? কোনো হিসেবেই তো ফখরুল সাহেবের বক্তব্য মিলছে না। বাস্তবে যা তার সঙ্গে ফখরুলের বক্তব্য মিলছে না। এটা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা, সমালোচনার জন্য সমালোচনা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close