প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২০ জুন, ২০২৪

সিলেট-সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার

বন্যার অবনতি, ১৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি

* সুরমার পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপরে * সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের ফিডার নিমজ্জিত হওয়ায় সরবরাহ বন্ধ * বৃষ্টি কমলে লিকেজ শনাক্ত ও মেরামত করে বিদ্যুৎ সচল হবে

সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। মৌলভীবাজারের সব নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার, ফুলকুমার ও কালজানীসহ সব নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সিলেট : সিলেট জেলার প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি দুয়েকটি পয়েন্টে ওঠানামা করলেও সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নদনদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। জেলায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭ জন মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডসহ বাকি ১৩ উপজেলায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭ জন মানুষ বন্যায় পানিবন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার ৫০ হাজার, সিলেট সদরে ২৫ হাজার ৬১৫, বিশ্বনাথে ৪৩ হাজার ৫৬৮, ওসমানীনগরে ৭৬ হাজার, ফেঞ্চুগঞ্জে ১৬ হাজার ২১৫, দক্ষিণ সুরমায় ২৫ হাজার ৮০০, বালাগঞ্জ উপজেলায় ৬ হাজার ২৯, কোম্পানীগঞ্জে ৯৫ হাজার, জৈন্তাপুরে ৯০ হাজার ১৬০, গোয়াইনঘাটে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮০০, কানাইঘাটে ৪১ হাজার ৩৬০, জকিগঞ্জে ৪৫ হাজার ৩৬০, বিয়ানীবাজারে ১৭ হাজার ৭০০ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় পানিবন্দি রয়েছেন ১৯ হাজার ৫৯০ জন।

সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্র আরো জানায়, সিলেট জেলায় ১ হাজার ৩২৩টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়গুলোয় কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বুধবার সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে দুপুর ১২টায় এ পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। সুরমা নদী সিলেট পয়েন্টেও সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, তবে সেটি দুপুর ১২টায় ২ সেন্টিমিটার কমে ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। কুশিয়ারা নদীর আমলশীদ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। একইভাবে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ও ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গোয়াইনঘাটে সারিগোয়াইন নদীর পানি কিছুটা কমলেও বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

সুনামগঞ্জ : সুরমা নদীর পানি বুধবার সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, জেলার ১১ উপজেলার অন্তত ৬ লাখ ৬৪ হাজার মানুষ বন্যার্ত। জেলার ৫৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৯ হাজার মানুষ। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের অন্তত ৭০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এদিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের ফিডার পানিতে তলিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ভারী বৃষ্টির কারণে লিকেজ শনাক্ত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়ে সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ ও বিপণন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু নুয়মান বলেন, বিদ্যুতের ফিডারগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি কমলে লিকেজগুলো শনাক্ত করে মেরামত করে বিদ্যুৎ সচল করা হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানিয়েছেন, জেলার সবক’টি উপজেলায় ৫ টন জিআর চাল ও শুষ্ক খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। ৬০০ টন জিআর চাল মজুদ রয়েছে। শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও গো-খাদ্যের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠিয়েছি। বন্যাকবলিতদের উদ্ধারে নৌকা প্রস্তুত আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী খুশি মোহন সরকার বলেন, আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এদিকে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরসহ উপজেলার সব পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টায় তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার জেলার ৫টি উপজেলার অন্তত ১৪টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক লোক পানিবন্দি হয়েছেন। কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, জুড়ী, সোনাই ও ফানাইসহ সবক’টি নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। হাকালুকী হাওরের পানি নিষ্কাশনের পথ অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। হাওরের পানি ভাটিতে যেতে না পারায় সমতলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায়, জেলার কুলাউড়া, বড়লেখা, কমলগঞ্জ জুড়ী ও সদর উপজেলায় প্লাবিত এলাকার সবক’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৯টায় মনু নদীর পানি মউল শহর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার কুশিয়ারা নদীর পানি জেলার শেরপুর পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার ধলাই নদীর পানি কমলগঞ্জ রেলব্রিজ পয়েন্ট ২৩ সেন্টিমিটার জুড়ী নদীর পানি জুড়ীতে ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। কুলাউড়া পৌরসভাসহ অন্তত ৬টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। জেলা রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) সুজিত কুমার চন্দ জানান, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কুলাউড়া উপজেলায় ৩০-৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে অন্তত ১৯২টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার ৪টি, জুড়ী উপজেলার ৩টি, কুলাউড়া উপজেলার ৩টি, সদর উপজেলার ৪টি এবং রাজনগর উপজেলার ২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারীতে বন্যার আশঙ্কা : ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার, ফুলকুমার ও কালজানীসহ উপজেলার সবক’টি নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছিল। সবক’টি নদনদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার উত্তর দিকে ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি, পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি ও তালুকশিমুল বাড়ী পয়েন্ট ধরলার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম ফেরদৌস জানান, জেলা প্রশাসন থেকে বন?্যার জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।

সিলেটে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন : সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের অনুরোধে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের নির্দেশনায় ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ারের আওতায় সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ সুরমা বড়ইকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র রক্ষায় মঙ্গলবার থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর জানায়, সিলেটের এ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে সিলেট রেলস্টেশন, সিলেট শহরের পাশের বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এসব এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে সেনাসদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ারের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিয়ে আসছে বলে জানায় আইএসপিআর।

এদিকে সিলেট নগরীর বিভিন্ন বন্যাকবলিত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান এমপি। বুধবার নগরীর মিরাবাজার কিশোরী মোহন বালক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি। সিলেট নগরীর বন্যা পরিস্থিতি দেখে তাৎক্ষণিক নগদ ১০ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী মো. মহিব্বুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগ প্রবণ এলাকা। এর মধ্যে সিলেট অঞ্চল অন্যতম। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রতিনিয়ত তিনি এর খোঁজখবর রাখছেন। তিনি আরো বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী আমাদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখছেন। ঈদের দিন আমকে ফোন করে বন্যার খবর জানান। পানিবন্দি ত্রাণ সাহায্যের তিনি অনুরোধ জানান দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করি।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিব্বুর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সিসিক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেওয়ার পর থেকে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যার খবর রাখছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার বিতরণ করছে সিটি করপোরেশন। পানি না কমা পর্যন্ত আমাদের ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এ সময় সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ও সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল ইসলাম, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ ছিদ্দীকী, এনডিসি, সিলেট জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close