মারুফ আহমেদ, কুমিল্লা

  ২৭ নভেম্বর, ২০২২

কুমিল্লায় দলীয় সমাবেশে মির্জা ফখরুল

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন হবে না

কান্দিরপাড় পরিণত হয় জনসমুদ্রে * নগরীতে দেখা গেছে কেবল মানুষ আর মানুষ * নেতাকর্মীরা আগেই চলে আসেন নগরীতে

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না; শেখ হাসিনাকে নির্বাচনের আগেই পদত্যাগ করতে হবে। না হয় আন্দোলনের মাধ্যমে টেনে নামনো হবে। কুমিল্লার জনগণ কুমিল্লা নামে বিভাগ চায়, কুমিল্লা নামে বিভাগ দিতে হবে।

এ সমাবেশের আগে আমার ভাই নয়নকে বিনা কারণে হত্যা করা হলো। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি অতিষ্ঠ। এ কুমিল্লা ঐতিহ্যের কুমিল্লা। তিন বীর নেতা আকবর ও কাজী জাফর এবং হামিদ খান এ কুমিল্লার জমিন থেকে সৃষ্টি। অবৈধ প্রধানমন্ত্রী রাতের অন্ধকারে নামমাত্র নির্বাচনে ক্ষমতা নিয়েছেন। তিনি নাকি আবার নির্বাচন করবেন। তিনি সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সেদিন যশোরে সমাবেশ করেছেন। কিন্তু কোনো লাভ নেই, এদেশের মানুষ আপনাদের আর চায় না, মানুষ শান্তিতে নেই। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এখনো ভোটের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে- এটা দুঃখজনক।

মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা আবার বলছেন, আগের মতো নির্বাচন করে সরকার গঠন করবেন। অনেক বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা করছে এ সরকার। তারা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করবে। এবার আর সেই সুযোগ নেই।

ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে সামনে রেখে সরকার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। এত সমাবেশ হলো সরকার কি বন্ধ করতে পারল। ঢাকা সমাবেশও বন্ধ করতে পারবে না- এটা কেবল বিএনপির আন্দোলন নয়, বাংলার মানুষের আন্দোলন।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) বিকাল ৫টায় কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণসমাবেশ উপলক্ষে কুমিল্লার কান্দিরপাড় জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মানুষ আর মানুষের ভিড়ে টাউন হল মাঠ পর্যন্ত যেতেই পারেননি পরে আসা নেতাকর্মীরা। এই সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা কুমিল্লায় এসে সমবেত হন। কুমিল্লা নগরীতে কেবল মানুষ আর মানুষ দেখা গেছে।

তিনি আরো বলেন, এ সরকার রিজার্ভ চিবিয়ে খেয়েছে। আগামী তিন মাসের জন্য আমদানি-রপ্তানির জন্য ডলার নেই। এত রিজার্ভ কোথায় গেল?

সব জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করছে কিন্তু মানুষের কোনো আয় নেই। অথচ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আয় আছে। চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের মাধ্যমে তারা আয় করছেন। লুটপাট করে দেশের অর্থনীতিকে শূন্য করে ফেলেছেন। গায়ের জোরে মামলা দিয়ে আন্দোলন ঠেকাতে পারবে না, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকেও মিথ্যা মামলা দিয়ে রেখেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন, সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মোস্তাক মিয়া প্রমুখ।

ডিসেম্বরের পর সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজবে- ড. মোশাররফ

কুমিল্লায় বিভাগীয় গণসমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্থায়ী সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, এই সমাবেশ বন্ধ করতে সরকার নানা ষড়যন্ত্র করেছে। কোনো লাভ হয়নি। বি-বাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে নয়নকে হত্যা করে এ সরকার মনে করেছে নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখতে পারবে। জনগণের স্বাধীনতাহরণ করলে লাভ হবে না সরকারের। পতনের ঘণ্টা বেজে গেছে হাসিনা সরকারের। আগামী ডিসেম্বর পর এ সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি কুমিল্লাকে গোমতী নামে বিভাগ করতে চায়। কুমিল্লা বাংলাদেশের প্রাণ, আমরা এ সমাবেশ থেকে বলতে চাই গোমতী নয়, কুমিল্লা নামেই বিভাগ দিতে হবে, অন্য নামে বিভাগ হলে কুমিল্লাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সে সিদ্ধান্ত প্রতিহত করবে।

তিনি আরো বলেন, বিনাভোটে নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করে সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। মানুষ আর এ সরকারকে চায় না।

গণসমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ইভিএম হচ্ছে একটা চুরির মেশিন, এ চুরির মেশিনে কোনো ভোট নয়। ভোট হবে ব্যালটে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে ১৫ বছর ধরে ১৮ কোটি মানুষকে জ্বালাচ্ছেন। আর নয়, এবার বিদায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। আপনাদের সময় শেষ।

তিনি আরো বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে খালেদা জিয়ার মুক্তি, মানুষের ভোটের অধিকার, বাঁচার অধিকার, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে। আজকে এই প্রখর রোদের মধ্যে আপনারা কষ্ট করে দাঁড়িয়ে আছেন- এই কষ্টই প্রমাণ করে আপনারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান, খুনি জুলুমবাজ সরকারের পতন চান।

এ সময় তিনি আরো বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু কিন্তু আজকের দিনে দেখা যায় যাদের টাকায় তাদের বেতন হয় সেই সাধারণ মানুষের ওপরে বড়বাবুদের নির্দেশে নির্বিচারে গুলি করে আমাদের ভাইদের হত্যা করছে।

আমি বলব ভোট চোর হাসিনা এই দেশে থাকবে না কিন্তু আপনারা থাকবেন। তাই অবৈধ সরকারের পক্ষ না নিয়ে সাধারণ জনগণের পক্ষে আসুন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close