নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২১ নভেম্বর, ২০২২

আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ডের দুই আসামি ছিনিয়ে নিল জঙ্গিরা

ঢাকাজুড়ে সতর্কতা * পয়েন্টে পয়েন্টে চেকপোস্ট * ধরিয়ে দিলে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়েছে কয়েকজন সহযোগী। পুলিশের চোখে স্প্রে ছিটিয়ে, কিল-ঘুষি মেরে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয় তাদের সহযোগীরা। রবিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর রায়সাহেব বাজার মোড়সংলগ্ন ঢাকার সিজেএম আদালত ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই দুই জঙ্গি হলেন মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির ও মো. আবু ছিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, একটি মামলায় শুনানি শেষে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে সহযোগীরা হাজতখানা পুলিশের চোখে স্প্রে ছিটিয়ে, কিল-ঘুষি মেরে মইনুল হাসান শামীম ও মো. আবু ছিদ্দিক সোহেলকে ছিনিয়ে নেন। এরপর তারা দুটি মোটরসাইকেলে করে রায়সাহেব বাজার মোড়ের দিকে পালিয়ে যান।

পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গি জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা এবং লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তারা জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য।

এদিকে, আদালত এলাকায় পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ধরতে রাজধানী ঢাকাসহ সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জারি ও পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ। মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ লাখ করে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এই পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।

মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামিরের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মাধবপুর গ্রামে। মো. আবু ছিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিবের বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেটেশ্বর গ্রামে। মইনুল হাসান শামীম ও মো. আবু ছিদ্দিক সোহেল একাধিক মামলার আসামি।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে দুই জঙ্গির মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। ঢাকার সিজেএম আদালতের অষ্টমতলায় ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম সারোয়ার খান বলেন, ‘আদালতে শুনানি শেষে এই দুজনকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে তাদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।’

এদিকে ঘটনাস্থলে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশসহ বিভিন্ন বিভাগের সদস্যরা হাজির হন। সোয়াত টিমের সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আদালত চত্বর থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ঢাকাজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুপুরে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে ঢাকার সব বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের প্রধান হারুন আর রশীদ বলেন, সারা দেশে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। দুই জেএমবি সদস্যকে ধরতে ঢাকার সব পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। অলিগলিতে করা হচ্ছে তল্লাশি। পলাতক দুই জঙ্গির ছবি সব থানায় পাঠানো হয়েছে।

দুই আসামির পালানোর ঘটনায় ‘রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে জানিয়ে ঢাকার পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘তাদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে। এ বিষয়ে আমরা সবার সহযোগিতা চাই।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, অন্য মামলার শুনানিতে হাজির করতে ওই দুই আসামিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছিল।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কয়েকজন জঙ্গি, যাদের আমরা গ্রেপ্তার করেছিলাম, আদালত তাদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুজন ছিল। বিচারকের সামনে হাজিরা শেষে আবার যখন তাদের নির্দিষ্ট রুমে নিয়ে যাচ্ছিল তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর কেমিক্যাল ছুড়ে মারে তাদেরই কয়েকজন সমর্থক। এরপর তাদের নিয়ে পালিয়ে যায় সমর্থকরা।

এ ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আমরা রেড অ্যালার্ট জারি করেছি। আমরা বর্ডার এলাকাগুলোতেও বলে দিয়েছি। তারা যেন আমাদের দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। যদি কারো অবহেলা থাকে, গাফিলতি থাকে, যদি কেউ ইচ্ছা করে এই কাজটি করে থাকেন, তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিশ্চয় আমরা তদন্ত কমিটি করব, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

তিনি আরো বলেন, আমাদের পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে তাদের। শিগগির তাদের ধরতে পারব বলে আমরা বিশ্বাস করি।

২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর আজিজ সুপার মার্কেটে নিজ প্রতিষ্ঠান জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে হত্যার শিকার হন ফয়সাল আরেফিন দীপন। এ হত্যা মামলায় মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়াসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের এ দুই সদস্যও রয়েছেন। লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলাতেও আবু সিদ্দিক সোহেলের ফাঁসির রায় হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close