বদরুল আলম মজুমদার

  ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

১০ বিভাগীয় শহরে সমাবেশের ঘোষণা

ডিসেম্বরে ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ, তোড়জোড়

দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা এবং জরুরি নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এবার দেশের ১০টি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে বিএনপি। বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সমাবেশের তারিখ ঘোষণা করেন দলের মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রায় ৩ মাস ধরেএসব গণসমাবেশ শেষে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল। তবে ঢাকার কর্মসূচির সময়সুচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারেবলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এবং নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা রাখতে এসব কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকতে চায় রাজপথের বড় এ বিরোধী দলটি। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। পরে বুধবার সংবাদিক সম্মেলনে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে, আগামী ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে, ২২ অক্টোবর খুলনা, ২৯ অক্টোবর রংপুর, ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী এবং ১০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ।

জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত জুলাই থেকে সারা দেশে কর্মসূচি পালন করছে দলটি। এর মধ্যে গত ২২ আগস্ট থেকে প্রতিটি জেলা, মহানগর, থানা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করে।একই দাবিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে ১৬টি সমাবেশ ও এক দিন মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তেজগাঁও এলাকায় মঙ্গলবার সমাবেশের মাধ্যমে এ কর্মসূচি সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কারণ, গত ১৫ সেপ্টেম্বর পল্লবী এলাকায় সরকারি দলের বাধায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই পাল্টা চ্যালেঞ্জ নিয়ে সমাবেশ আবারও করতে চান নেতারা। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন বলে স্থায়ী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সমাবেশকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা। যে কোনো মূল্যে সমাবেশ অনুষ্ঠানের জন্য দলের দায়িত্বশীল নেতাদের বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার ১৬টি সমাবেশ সফলভাবে শেষ করা এবং নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে দলীয় হাইকমান্ড বেশ খুশি। তবে রাজধানীর তিনটি জায়গায় সমাবেশে কিছু মারধরের ঘটনা ঘটলেও দলীয় নেতারা তা সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে মিরপুরের পল্লবীতে সমাবেশ করতে না পারার কারণে কাঠগড়ায় আছেন নগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক। তাকে যেভাবেই হোক নতুন নির্ধারিত তারিখে সমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী ১ অক্টোবর এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঘোষিত সমাবেশে ব্যাপক লোকবল উপস্থিতি রাখতে এরই মধ্যে অঙ্গ ও সহযোগী দলের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সমাবেশের পর ঢাকায় নেতাকর্মীদের কিছুদিন বিশ্রাম দেওয়া হবে। কারণ, বিভিন্ন ইস্যুতে টানা দুই মাস মাঠে রয়েছেন নেতাকর্মীরা। তাই তিন মাসের একটি লম্বা বিরতি দিয়ে ঢাকায় মহাসমাবেশের আয়োজন করবে বিএনপি। সেই সমাবেশটি রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নেতারা।

বিএনপি নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হবে- এটাই স্বাভাবিক। সরকার এবং বিরোধী দল তো এখনো দুই মেরুতে অবস্থান করছে। এমন অবস্থায় সংঘর্ষ হওয়াটা আশ্চর্য কিছু নয়। দেশজুড়েই বিরোধীদের দমন-পীড়ন-অরাজকতা চলছে। রাজনৈতিকভাবে সমঝোতার পথ ক্ষীণ বিবেচনায় রেখেই বিএনপিও ধারাবাহিকভাবে রাজপথে ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সারা দেশে পালিত এসব কর্মসূচিতে তৃণমূল নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকায় এসব সমাবেশ শেষ করে দেশের ১০ বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের হাইকমান্ড। সবশেষে ঢাকায় বড় শোডাউন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন নেতারা। বিভাগীয় শহরে সমাবেশ অনুষ্ঠানের জন্য দলের স্থায়ী কমিটির একেকজন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে এসব বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

নতুন কর্মসূচির বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণবিরোধী কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার চাল, ডাল, জ্বালানি তেল, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনে ভোলায় নুরে আলম ও আবদুর রহিম, নারায়ণগঞ্জে শাওন, মুন্সীগঞ্জে শহিদুল ইসলাম শাওন ও যশোরে আবদুল আলিমসহ ৫ জন হত্যার প্রতিবাদে, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে সারা দেশে বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close