প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রানির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানালেন শেখ হাসিনা

* অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিচ্ছেন আজ * টেলিফোনে ধন্যবাদ জানালেন রাজা চার্লস

লন্ডনে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শামিল হয়েছেন হাজারো মানুষের কাতারে, যারা সবচেয়ে বেশি সময় ব্রিটেনের সিংহাসনের অধিষ্ঠাত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে সমবেত হয়েছেন। রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বোন শেখ রেহানা এবং লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক ওয়েস্টমিনস্টার হলে যান শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম পরে সাংবাদিকদের বলেন, তারা দুজনই (শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা) শ্রদ্ধা জানান এবং দুঃখ ভারাক্রান্ত ছিলেন পুরো সময়। রানি তাদের দুই বোনকেই খুব ভালোবাসতেন। একজনকে দেখলে আরেকজনের কথা জিজ্ঞেস করতেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নসহ বিশ্বনেতাদের অনেকেই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ব্রিটিশ রানির কফিনে।

সাইদা মুনা তাসনিম জানান, রানির কফিনে শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে দাঁড়িয়ে কিছু সময় নীরবতা পালন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তাকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে রানির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে খোলা শোক বইতে সই করেন প্রধানমন্ত্রী।

শোক বইতে শেখ হাসিনা বাংলায় লেখেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ, আমার পরিবার ও আমার ছোট বোন রেহানার পক্ষ থেকে গভীর শোক জ্ঞাপন করছি।’

শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা শোক বইতে স্বাক্ষর করে লিখেছেন, ‘তিনি ছিলেন আমাদের হৃদয়ের রানি, চিরদিন তাই থাকবেন।’

ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভিকি ফোর্ট। প্রয়াত রানির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান এবং দুজনে কিছু মতবিনিময় করেন।

তার শেষকৃত্যে অংশ নিতে গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানকার আনুষ্ঠানিকতা সেরে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাবেন।

রানির মৃত্যুতে দুই সপ্তাহের রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতা চলছে ব্রিটেনে। বিয়োগান্ত এই আয়োজন ঘিরে সোমবার পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় বিশ্বনেতা ও রাজনীতিবিদদের নজিরবিহীন এক সমাবেশ দেখা যাবে। দুই হাজার অতিথি, প্রায় ২০০টি দেশ ও অঞ্চলের সরকার প্রধানসহ ৫০০ বিদেশি ব্যক্তি এবং ৪ হাজার সেবাকর্মী রানির শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে লন্ডনের হাজারো মানুষ রানিকে শেষ বিদায় জানাচ্ছেন। টেলিভিশনে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ সেই অনুষ্ঠান দেখছে।

এর আগে শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বাকিংহাম প্যালেস থেকে টেলিফোন করে যুক্তরাজ্য সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন রাজা চার্লস। তার মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। খবর বাসসের।

টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার কাছে প্রয়াত রানি মায়ের মতো ছিলেন। তিনি কমনওয়েলথের একজন অসাধারণ প্রধান ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমি তার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী রাজাকে আরো জানান, বাংলাদেশ প্রয়াত রানির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে এবং তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে। তিনি রাজা চার্লসকে তার সিংহাসনে আরোহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং তার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ রাজত্ব কামনা করেন।

এর আগে ব্রিটেনের বিরোধী দলের নেতা ও লেবার পার্টির প্রধান স্যার কেয়ার স্টারমার তার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বোঝা। তা ছাড়া বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়া সত্ত্বেও সর্বোচ্চ সংযম অনুশীলন করছি।

এ সময় স্যার স্টারমার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য চমৎকার সম্পর্কে আবদ্ধ এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকদের দ্বারা এই সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হয়েছে।

স্যার স্টারমার রানির স্মরণে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তারা ব্রিটেনের লেবার পার্টির সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার হ্যারল্ড উইলসনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাক্ষাৎ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেওয়া বাণীর জন্য প্রধানমন্ত্রী লেবার পার্টি নেতাকে ধন্যবাদ জানান।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close