কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার)

  ১৭ আগস্ট, ২০২২

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিশেল ব্যাচেলেট

স্বদেশে ফেরার আগ্রহে সহযোগিতার আশ্বাস

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট। ওই সময় আশ্রিত রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আর ব্যাচেলেট জানান, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা হবে, এজন্য সব ধরনের সহযোগিতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সকালে ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ই-ভাউচার আউটলেট ও রোহিঙ্গা মহিলা গ্রুপের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে বৃক্ষরোপণের পর তিনি ক্যাম্প-২০-এ আইওএম পরিচালিত সাইট ডেভেলপমেন্ট হাবের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় মিশেল ব্যাচেলেট বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হলে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানেই হবে। এ ব্যাপারে মিয়ানমারসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি রোহিঙ্গা নারী, যুব প্রতিনিধি ও ধর্মীয় প্রতিনিধি ইমামদের সঙ্গে আলাদাভাবে মতবিনিময় করেন। এ সময় জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকারসহ মানবাধিকারের প্রতি গুরুত্ব দেবে বলে জানান তিনি।

মিশেল ব্যাচেলেট সেখান থেকে ক্যাম্পের বিভিন্ন লার্নিং সেন্টার পরিদর্শনে যান। সেখানে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানতে চান ক্যাম্পে তারা কেমন আছেন, প্রতি উত্তরে রোহিঙ্গারা বলেন, আমরা ভালো আছি। এ ছাড়া এত বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গার আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ক্যাম্পে থাকাণ্ডখাওয়া, চিকিৎসা, শিক্ষাসেবা পাচ্ছেন বলে রোহিঙ্গারা জানান।

ক্যাম্প-৪-এর রোহিঙ্গা নেতা জমির জানান, নিজ দেশ মিয়ানমারে গিয়ে সুন্দরভাবে নাগরিকত্ব নিয়ে তারা ফিরতে চান। একই ক্যাম্পের মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, ২০১৭ সালের মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নির্যাতন করেন, তাই আবারও মিয়ানমারে ফিরে গেলে যাতে জোর-জুলুমণ্ডহত্যা-খুন হতে না হয় এ ব্যবস্থা করতে হবে। রোহিঙ্গাদের চলাচলে এবং ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার বাধা দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে।

একই ক্যাম্পের আবু হানাত বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর যেভাবে নিপীড়ন, গণহত্যা চালিয়েছে তা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে এ ব্যাপারে জাতিসংঘের কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মিশেল ব্যাচেলেট রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো বর্বরতা ও নির্যাতনের কথা শোনেন।

পরিদর্শনকালে রোহিঙ্গাদের কাছে ক্যাম্পে শরণার্থী জীবন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান মিশেল ব্যাচেলেট। তার সঙ্গে কথা বলেন রোহিঙ্গা নারী গোলবাহার ও আমেনা খাতুন। তারা বলেন, ‘মিশেল ব্যাচেলেট আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা ৮-১০ জন নারী ছিলাম। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে প্রত্যাবাসন হবে বলে তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।’

এ ছাড়া মওলানা নুর মোহাম্মদ, হাফেজ ইউনুস ও মওলানা আজিম উল্লাহসহ ১০ জন ইমামের সঙ্গে কথা বলেছেন মিশেল ব্যাচেলেট।

ওই রোহিঙ্গারা বলেন, মিয়ানমারে এখনো প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। পরিবেশ সৃষ্টি হলে, নাগরিক অধিকার হারানো ভিটেমাটি ফিরিয়ে দিলে এবং গণহত্যার বিচার করা হলে তারা অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যাবে।

সোমবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় কক্সবাজারে আসেন মিশেল ব্যাচেলেট। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলসহ উখিয়া কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে পৌঁছান। এরপর কুতুপালং ৪ নম্বর ক্যাম্পে এসে শরণার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সেন্টার পরিদর্শন করেন। পরে ইউএনএইচসিআর, ডব্লিউএফপি, আইওএমের চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

দুপুরে কক্সবাজার শহরে ফিরে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াতসহ সরকারের শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। তবে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে আরআরআরসির কর্মকর্তা, ক্যাম্প ইনচার্জ ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত চার দিনের সফরে রবিবার ঢাকায় এসে পৌঁছান ব্যাচেলেট, সেদিন রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সোমবার জাতীয় শোক দিবসে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান ব্যাচেলেট। মঙ্গলবার কক্সবাজার সফর শেষে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার-জুলুম-নিপীড়ন-গণহত্যার কারণে ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close