বদরুল আলম মজুমদার

  ১৭ আগস্ট, ২০২২

মূল্যবৃদ্ধির ক্ষোভ রাজপথে দেখাতে চায় বিএনপি

সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে মাঠ গরম করার কৌশল নিয়েছে বিএনপি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিত্যপণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। আয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খরচের জোগান দিতে হিমশিম অবস্থা সাধারণ মানুষের। জিনিসপত্রের দাম দিনে দিনে নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছে বিএনপি।

গত কয়েক দিনে ডিম ও মুরগির দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে মারাত্মক ক্ষোভও জন্ম নিয়েছে। সাধারণ মানুষের এ ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আপাতত রাজপথ গরম রাখার কৌশল নিয়ে কাজ করছে বিএনপি।

দলটির পক্ষ থেকে গত ১১ আগস্ট ঢাকায় বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন হওয়ায় পণ্য মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সামনে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে দলটি। তবে কঠোর কর্মসূচির তালিকায় আপাতত হরতাল বা অবরোধ থাকছে না। স্বাভাবিক কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখাটাই হচ্ছে বিএনপির মূল টার্গেট। যেহেতু নির্বাচনের বাকি এখনো প্রায় দেড় বছর, সেজন্য এখনই বড় কর্মসূচি দিলে মামলা-হামলা এবং গ্রেপ্তার আতঙ্ক রয়েছে। তাই নির্বাচনের কাছাকাছি গিয়ে বড় আন্দোলনের চিন্তা করছেন দলটির নেতারা।

এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরও বিএনপির পক্ষ থেকে তেমন কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিএনপির ব্যাপক সমালোচনা হয়। মানুষের কড়া সমালোচনার মুখে দলের চলমান কর্মসূচির সঙ্গে জ্বালানি ইস্যু সম্পৃক্ত করে নিয়েছে দলটি। অথচ বক্তব্যে সব সময় কঠোর কর্মসূচির হুঙ্কার দিচ্ছেন দলটির উচ্চপর্যায়ের নেতারা। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্মসূচি পালন করে আসছে। জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী ২৫ আগস্ট হরতাল দিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) শরিক অপর ৯টি দল। ক্ষমতাসীন সরকারের শরিক দল জাতীয় পার্টিও সারা দেশে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা ও সব ইউনিটের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল পালন করছে। তাই এবার সরাসরি মূল্যবৃদ্ধির এ ইস্যূতে মাঠ গরম রাখার পক্ষে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, জ্বালানি ইস্যুতে বিএনপির প্রতিবাদ আসবে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবনের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সরকার ইচ্ছেমতো যা ইচ্ছে তাই করছে। আমরা বিরোধী দল হিসেবে সব সময় আন্দোলন করছি, আরো করব ইনশাআল্লাহ।

‘বিএনপির নিয়মিত কর্মসূচি হচ্ছে’ বলে জানিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, জ্বালানি ইস্যুতে কর্মসূচি পালন করছে। বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূচি হচ্ছে, মিছিল হচ্ছে, মশাল মিছিল হচ্ছে, সভা হচ্ছে, সমাবেশ হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের যে চলমান কর্মসূচি সেটা তো ন্যায্য কর্মসূচি ছিল। সরকারের কৌশলই হচ্ছে একটি নতুন ঘটনা ঘটিয়ে আগের ঘটনাটা ভুলিয়ে দিতে চায়। মানুষ খুন করেছে সেটা যাতে ভুলে যায় সেজন্য তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কথা বলব, মানুষ খুন করার বিষয়ে কথা বলতে পারব না? তেলের দাম বেড়ে গেছে, জনগণের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে, আমরা আন্দোলন করছি; দ্রুতই এই ইস্যুতে আমাদের বড় কর্মসূচি থাকবে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার জন্য সরকারই দায়ী বলে মনে করে বিএনপি। দলটির নেতারা জানান, এ সংকটের জন্য সরকারের পদত্যাগ দাবি করছেন তারা। সরকার যদি পদত্যাগ না করে, সেই লক্ষ্যে গণ-আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। যখন যেই কর্মসূচি প্রয়োজন সেটাই দেবেন। এ বিষয়ে তারা জিরো টলারেন্সে রয়েছেন।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোলায় দুই নেতাকে হত্যা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করে যাবে দলটি। তবে এখনই হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি নয়। বৃহত্তর আন্দোলনের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সব ইস্যুতে সব দলকে সঙ্গে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করতে চায় বিএনপি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close