কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার)

  ১২ আগস্ট, ২০২২

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুর হানা

* দুই মাসে আক্রান্ত ৮ হাজার ৮৮২ জন * ডেঙ্গু পরবর্তী জটিলতায় মৃত্যু ১৫

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত দুই মাসে ৮ হাজার ৮৮২ জন রোহিঙ্গা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। আর ডেঙ্গু পরবর্তী নানা জটিলতায় মৃত্যু হয়েছে ১৫ জন রোহিঙ্গার। আর স্থানীয়দের মধ্যে আক্রান্ত রয়েছে ২৪২ জন। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সচেতনতামূলক প্রচার, মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসসহ নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

২ আগস্ট প্রচন্ড মাথাব্যথা, শরীরব্যথা ও জ্বর নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হন বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামে একটি সংস্থার সার্ভিস সেন্টার ম্যানেজার জসিম উদ্দিন।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে বসবাসরত এই এনজিও কর্মকর্তা সময়মতো চিকিৎসাসেবা পেয়ে এখন অনেকটাই সুস্থ হওয়ার পথে।

জসিম উদ্দিন বলেন, বাসায় চিকিৎসা নিয়েছিলাম দুই দিন। প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যায়; আর ডায়াবেটিস উচ্চমাত্রায় ছিল। তাই ভর্তি হয়েছি।

শুধু জসিম নন, বিপুল রোহিঙ্গাসহ স্থানীয় অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে গত জুলাই মাসে ছয়জন রোহিঙ্গা ও চলতি আগস্টের এক সপ্তাহে তিনজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। এছাড়া এ দুই মাসে ডেঙ্গু পরবর্তী নানা জটিলতায় আরো ছয়জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। ওই ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হাসপাতালে এবং একজন নিজ বাড়িতে মারা গেছেন।

ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মুহম্মদ আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা গাইডলাইন অনুসারে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। ডেঙ্গুর কিছু ওয়ার্নিং সাইন থাকে। সেই ওয়ার্নিং সাইনগুলো যখন থাকে তখন আমরা সেসব রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলি।’

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। ঘনবসতিপূর্ণ এই রোহিঙ্গা বসতিতে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র বেশি হওয়ায় সম্প্রতি ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আক্রান্ত হয়েছে কিছু স্থানীয়ও। এমন পরিস্থিতিতে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস ও ডেঙ্গুর বিষয়ে রোহিঙ্গাদের মাঝে সচেতনতা তৈরির বিষয়ে জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাতে কোনোভাবেই জমানো পানি না থাকে- এ ব্যাপারে আমরা দ্বারে দ্বারে গিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছি। এছাড়া এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করার জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা শিবিরে ডেঙ্গুর বিস্তার বেশি হলেও স্থানীয়দের মাঝে তা বিস্তারের আশঙ্কা কম। প্রজননক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করে দিতে পারলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসবে। আমরা সে চেষ্টাই করছি।’

এদিকে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রনজন বড়ুয়া রাজন জানান, উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের দুই মাসে কক্সবাজার জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ১২৪ জন। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা ৮ হাজার ৮৮২ জন। আর স্থানীয় রয়েছে ২৪২ জন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close