প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৯ জুন, ২০২২

যুক্তরাষ্ট্রে লরিতে অভিবাসনপ্রত্যাশী ৪৬ জনের মরদেহ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পরিত্যক্ত একটি লরি থেকে ৪৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় সান অ্যান্টোনিও শহরের উপকণ্ঠে মেক্সিকো সীমান্তের কাছে ওই লরি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। লরির ভেতরে থাকা তখনো জীবিত শিশুসহ ১৬ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা সবাই অভিবাসনপ্রত্যাশী। লরির মধ্যে প্রচণ্ড গরম ও খাদ্য-পানির অভাবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। কর্মকর্তারা জানান, সান অ্যান্টোনিও শহরের রেললাইনের কাছে পরিত্যক্ত একটি লরির পাশে মরদেহ পড়ে আছে খবর পেয়ে জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে যান। সেখানে পরিত্যক্ত লরির দরজা খুলে ভেতরে আরো মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক ৬০ জন দমকল কর্মী, ২০টি ফায়ার ও ২০টি চিকিৎসা ইউনিট উদ্ধার তৎপরতা চালায়। জীবিত ১৬ জনের সবাইকে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সান অ্যান্টোনিও ফায়ার ডিপার্টমেন্টের প্রধান চার্লস হুড জানান, লরির ভেতরে ৪৬ জনকে মৃত এবং জীবিত ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। জীবিতদের মধ্যে ১২ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং চার শিশু।

হুড বলেন, ‘আমরা একটা লরির পেছনের পাল্লা খুলে গাদা গাদা মরদেহ দেখতে পাব, তা ধারণাও করিনি, এখানে যারা কাজ করতে এসেছেন, তাদের কেউ এমনটি কল্পনাও করতে পারেনি।’

তিনি আরো বলেন, এদের সবার শরীর ‘তখনো গরম ছিল’ এবং তারা তাপের কারণে ক্লান্তি ও অবসাদে ভুগছিলেন। কেউ কেউ হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, লরির মধ্যে ঠাসাঠাসি করে থাকার কারণে গরমের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা।

চার্লস হুড বলেন, লরির মধ্যে কোনো পানির ব্যবস্থা কিংবা সেটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছিল না। রেফ্রিজারেটেড লরি হলেও বোর্ডে ?‘কোনো দৃশ্যমান কার্যকরী’ কুলিং ইউনিট ছিল না। তিনি জানান, লরির চালককে খুঁজছে পুলিশ।

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিও শহরটি অবস্থিত। ওই অঞ্চলে এখন তীব্র দাবদাহ চলছে। কয়েক দিন ধরে সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠছে। এরই মধ্যে ঘটল অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা।

মানব পাচারকারীরা প্রায়ই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের লরির ভেতরে চাপিয়ে মেক্সিকো সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এসব মানুষের মৃত্যুর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, বাইডেনের ‘উন্মুক্ত সীমান্ত নীতির ফলাফল’ এটি।

এ বিষয়ে মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারসেলো অ্যাবরার্ড বলেন, নিহতদের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তবে জীবিতদের দুজন গুয়েতেমালার নাগরিক।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close