নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২১ জুন, ২০২২

মন্দা নয়, জৌলুস বাড়বে নৌযানের

পদ্মা সেতু চালু হলেও লঞ্চের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোটেও শঙ্কিত নন নৌযান ব্যবসায়ীরা। ঢাকা থেকে বাসে বা গাড়িতে চড়ে সরাসরি দক্ষিণ জনপদে পৌঁছানোর সুযোগ থাকলেও নৌযান ব্যবসায় বড় কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না; বরং ঢাকা-বরিশাল পথের জৌলুস দিন দিন বাড়বে। এরই মধ্যে সেই প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। বাসের তুলনায় কম ভাড়ায় আরামদায়ক ভ্রমণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ‘বিলাসবহুল’ লঞ্চ নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।

সুন্দরবন ডক ইয়ার্ড ও সুন্দরবন লঞ্চ কোম্পানির চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর নৌপথে কিছুটা প্রভাব পড়বে প্রথম দিকে। মানুষ সড়ক যোগাযোগ কেমন তা দেখতে চাইবে। কিন্তু নিরাপত্তা, আরামদায়ক ভ্রমণ ও স্বল্প খরচের কারণে লঞ্চ টিকে থাকবে। নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল রাখা হলে ব্যবসা প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক লঞ্চও আসবে।

বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান রিন্টু মহানগর আওয়ামী লীগেরও সহসভাপতি। বরিশাল শহরের চরআবদানী এলাকায় কীর্তনখোলা নদী তীরে তার সুন্দরবন ডক ইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে নতুন লঞ্চ এমভি সুন্দরবন-১৬ ও ১৪। ডক ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক সোহাগ মিয়া বলেন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধার এ দুটি লঞ্চ চলবে বরিশাল-ঢাকা পথে।

৩১৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের তিনতলা লঞ্চ দুটিতে রাখা হচ্ছে লিফট সুবিধা। জুনেই এর নির্মাণ শেষ হবে। যাত্রী পরিবহন শুরু হবে জুলাই থেকে।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠিতে সুগন্ধা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে এমভি এমখান-৭। সেখানে ঈদের পর এমখান-১১ নামে আরেকটি লঞ্চের নির্মাণকাজ শুরু হবে জানান ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক তারেক রহমান। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর মাস ছয়েক লঞ্চে যাত্রী কম থাকতে পারে। এরপর আবার ঠিক হয়ে যাবে। তার বিশ্বাস লঞ্চের যাত্রীরা লঞ্চেই ভ্রমণ করবেন। কারণ লঞ্চযাত্রায় সুযোগ-সুবিধা সড়কপথে মিলবে না।

বাসের চেয়ে লঞ্চে ভাড়া কম। তা ছাড়া লঞ্চে খাওয়া যায়, ঘোরাফেরা করা যায়, শুয়ে ঘুমানো যায়। বাসে একটানা বসে থাকতে হয়। অনেকের কাছে সেটা বিরক্তিকর। তারেক বলেন, বরিশাল-ঢাকা নৌপথে প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করেন। সে জন্য ২৫০ থেকে ৩০০ বাস প্রয়োজন। তত বাস দ্রুত নামানো সম্ভব হবে না। বাস বাড়লেও যাত্রীরা লঞ্চে মালামাল বহনের যে সুবিধা পান, বাসে তা পাবেন না।

এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চের মাস্টার মো. মজিবুর রহমান বলেন, প্রথম দিকে কিছুদিন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বাসে যাবে। পরে আবার ফিরে আসবে। লঞ্চে তেমন প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। কারণ লঞ্চে ডেকে একটি চাদর বিছিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চার থেকে পাঁচজন সুন্দরভাবে যেতে পারবে। সেটা বাসে সম্ভব না। সামনের পরিস্থিতি বিবেচনা করে আরো আধুনিক এবং দ্রুতগতির লঞ্চ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন মালিকরা। আগে বরিশাল-ঢাকা লঞ্চে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লাগত। এখন লাগে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা। মালিকরা চেষ্টা করছেন আরো দ্রুতগতির আধুনিক নৌযান আনার।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close