নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৯ জুন, ২০২২

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক হচ্ছে

দেশের সব ধরনের সেবা খাতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় খোদ রাজধানীর যানবাহন নিয়ন্ত্রিত হয় পুলিশের হাতের ইশারায়। কোথাও রশি দিয়ে বাধা তৈরি করে আটকানো হয় গাড়ি। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে অনেকবার। কিন্তু এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভিন্ন রকম ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিচ্ছে, যেখানে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ইন্টারসেকশনে লাগবে না পুলিশের।

দক্ষিণ সিটির কর্মকর্তা বলছেন, তাদের অধীনে ৫৩টি ইন্টারসেকশনে বসতে যাচ্ছে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে গাড়ি চলা ও থামার নির্দেশনা দেবে। আর এগুলো মনিটরিং করা হবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে। যা স্থাপিত হবে দক্ষিণ সিটির প্রধান কার্যালয়ে।

দক্ষিণ সিটির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী বোরহান উদ্দিন বলেন, আমাদের ৫৩টি ইন্টারসেকশনের সিগন্যাল বাতি বর্তমানে নষ্ট। আমরা এগুলো সরিয়ে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করব। এছাড়া আমরা রাস্তা, ফুটপাত, ইন্টারসেকশন প্রশস্ত করব। রাস্তা দিয়ে পথচারী পারাপারের জেব্রাক্রসিং মার্কিং করব। আমরা স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি লাগানোর কাজ এ বছরেই শেষ করতে চাই।

বোরহান উদ্দিন বলেন, আগামী মাসের মধ্যেই এ কাজের জন্য আমরা পরামর্শক নিয়োজিত করব। তারা আমাদের পরিকল্পনা, নকশা ও খরচ নির্ধারণ করে দেবে। এ কাজের খরচ সরকার দেবে নাকি সিটি করপোরেশন নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করবে আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে সিটি করপোরেশন একটা নীতিমালা তৈরি করছে। যা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে অনুমোদনের জন্য। এতে ট্রাফিক কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে এবং কার দায়িত্ব কী হবে সবই থাকবে।

সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এ কাজে প্রয়োজনীয় জনবল ও সক্ষমতার আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে বোরহান উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের জন্য আমাদের সফটওয়্যার প্রকৌশলী লাগবে। তাছাড়া, সিগন্যাল বাতি মেরামতের কাজে অনেক টেকনিশিয়ান দরকার হবে। এগুলো আমাদের ভাবনায় রয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, এ ধরনের কাজে বিনিয়োগ করার আগে ঢাকা শহরের ধীরগতি ও গতিসম্পন্ন যানবাহনের লেন আলাদা করা দরকার। না হলে এ কাজে সফলতার সম্ভাবনা নেই। ঢাকা শহরে এক সড়কে ১৮ রকমের যানবাহন একসঙ্গে চলে। কোনোটা রিকশার, ঠেলাগাড়ির মতো, কোনোটা ধীরগতির। আবার কোনোটা বাসের মতো গতিসম্পন্ন। এভাবে কোনো ব্যবস্থা কাজ করবে না। জাইকা এ ধরনের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প নিয়েছিল যা ব্যর্থ হয়েছে।

এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ দক্ষিণ সিটি কর্তৃপক্ষকে একসঙ্গে ৫৪টি ইন্টারসেকশনে বিনিয়োগ না করে ধীরগতি ও উচ্চগতির গাড়ির জন্য আলাদা লেন করে একটি সুনির্দিষ্ট অংশে পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থাপনা প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন। এ কাজে সফলতা পেতে উত্তর সিটি করপোরেশনকে কেউ একই উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরে রিমোট কন্ট্রোলারসহ ১০৯টি স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছিল। যার অনেক উদ্বোধনের দিনই সচল করা যায়নি বলে জানিয়েছেন দুই সিটির কর্মকর্তারা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close